পখন্না রামকৃষ্ণ আশ্রমে শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১তম জন্মতিথি উদ্যাপন
নতুন পয়গাম, সঞ্জয় মণ্ডল, বাঁকুড়া: জেলার বড়জোড়া থানার অন্তর্গত পখন্না গ্রামে অবস্থিত পখন্না রামকৃষ্ণ আশ্রম প্রাঙ্গণে আজ শ্রদ্ধা ও ভক্তিভরে পালিত হল শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস-এর ১৯১তম জন্মতিথি। ২০২৫ সালের রথযাত্রার পুণ্যলগ্নে দামোদর নদ সংলগ্ন কল্যাণপুর এলাকায় আশ্রমটি প্রতিষ্ঠিত হয়। স্থানীয় কয়েকটি পরিবারের জমি দানের মাধ্যমে এর ভিত্তি স্থাপিত হয়। আশ্রম প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্যোক্তা অর্ধেন্দু ভট্টাচার্য জানান, প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত বহু মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতাতেই আশ্রম গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে এবং এই উদ্যোগ মূলত সমষ্টিগত প্রচেষ্টার ফল।
১৮৩৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণকারী শ্রীরামকৃষ্ণের জন্মতিথি উপলক্ষে আজ ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে মঙ্গল আরতির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। ভক্তরা প্রতিকৃতি নিয়ে কীর্তনের সঙ্গীতধ্বনিতে গ্রাম পরিক্রমা করেন। পরে আশ্রমের মহিলা ভক্তরা নদী থেকে মঙ্গলঘটের জল এনে বিশেষ পূজার আয়োজন করেন। দুপুর প্রায় ১টা নাগাদ প্রসাদ বিতরণ করা হয় এবং দিনভর ধর্মীয় পাঠ, ভক্তিগীতি ও নানা আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত প্রাক্তন শিক্ষক কৃষ্ণশরণ ঘোষ বলেন, সহিষ্ণুতা ও বহুত্ববাদের বার্তা শ্রীরামকৃষ্ণের শিক্ষার মূল ভিত্তি; তাঁর প্রদর্শিত ‘যত মত তত পথ’ দর্শন মানবসমাজে সম্প্রীতি ও শান্তির পথ দেখায়।
আশ্রম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শ্রীরামকৃষ্ণ, মা সারদা ও স্বামী বিবেকানন্দের জন্মতিথি ছাড়াও প্রতি বছর ১ জানুয়ারি কল্পতরু উৎসব এবং প্রতিষ্ঠা দিবসে বিশেষ পূজা পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় এখানে আরতি, কথামৃত পাঠ ও বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠের আয়োজন হয়, যেখানে এলাকার বহু মানুষ অংশগ্রহণ করেন। আধ্যাত্মিক কার্যক্রমের পাশাপাশি আশ্রম ইতিমধ্যে সমাজসেবামূলক উদ্যোগও গ্রহণ করেছে—দুঃস্থদের সহায়তা, স্বাস্থ্যশিবির আয়োজন, এমনকি চক্ষু ছানি অপারেশনসহ বিভিন্ন পরিষেবার সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করেছে। স্থানীয়দের মতে, পখন্নার মতো প্রাচীন জনপদে এই আশ্রম প্রতিষ্ঠা আধ্যাত্মিক ও সামাজিক জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।








