তাইওয়ান প্রণালিতে কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার যুদ্ধজাহাজ, চীনের নিন্দা
নতুন পয়গাম, তাইওয়ান:
তাইওয়ান প্রণালিকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি কানাডার যুদ্ধজাহাজ ক্যুবেক এবং অস্ট্রেলিয়ার যুদ্ধজাহাজ ব্রিসবেন ওই প্রণালি দিয়ে অতিক্রম করে। এ ঘটনায় চীনের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের মুখপাত্র শি ই জানান, বিদেশি যুদ্ধজাহাজগুলোর এই পদক্ষেপ শুধু উসকানিমূলক নয়, বরং তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। তাঁর ভাষায়, এই কর্মকাণ্ড ভুল বার্তা ছড়িয়েছে এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে।
চীনের সেনাবাহিনী জানায়, প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের সময় নৌ ও বিমান বাহিনী ঘনিষ্ঠ নজরদারি চালিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। মুখপাত্র আরও স্পষ্ট করে বলেন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষায় পিএলএ সর্বদা প্রস্তুত এবং এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং তাইওয়ান ইস্যুতে তারা পশ্চিমা কৌশলগত অবস্থান অনুসরণ করছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী প্রণালিটি আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে বিবেচিত হলেও চীন মনে করে, সেখানে বিদেশি যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি সরাসরি তাদের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ জানায়। এ কারণেই চীনের প্রতিক্রিয়া এত কঠোর।
এ ঘটনা শুধু কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও চীনের মধ্যে সম্পর্ককে নতুন করে চাপের মুখে ফেলেনি, বরং তাইওয়ান প্রণালিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনকেও আরও উসকে দিয়েছে। চীন বারবার জানিয়েছে, তাইওয়ান তাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ, অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলো তাইওয়ানের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে আসছে। ফলে প্রতিটি এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার যুদ্ধজাহাজ তাইওয়ান প্রণালি অতিক্রম করায় চীনের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। পিএলএ জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় তারা সর্বোচ্চ সতর্ক এবং যেকোনো উসকানির বিরুদ্ধে কার্যকর জবাব দিতে প্রস্তুত। এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আরও জটিলতা তৈরি করতে পারে।








