মসজিদ মাদ্রাসা কবরস্থান এর খতিয়ান সংশোধনের জন্য জেলা জুড়ে আন্দোলনের ডাক
নতুন পয়গাম, বহরমপুর: বিধানসভা নির্বাচনের আগেই সরকারি সম্পত্তিতে পরিণত করা সমস্ত মসজিদ মাদ্রাসা কবরস্থানকে মুসলিম সমাজের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আন্দোলনের ডাক দিল মসজিদ মাদ্রাসা কবরস্থান বাঁচাও কমিটি। মুর্শিদাবাদের কান্দি ব্লকের মহালন্দি ফুটবল ময়দানে কয়েক হাজার মানুষের সমাবেশে রাজনৈতিক ও মানবাধিকার কর্মী তায়েদুল ইসলাম এই আন্দোলনের ডাক দেন। মসজিদ মাদ্রাসা কবরস্থান বাঁচাও কমিটির ডাকা এই সমাবেশে কান্দি ব্লকের বিভিন্ন গ্ৰাম থেকে সর্ব স্তরের মানুষ জমায়েত হন। একটি মাত্র দাবিতে এই সমাবেশ আহ্বান করা হয়। তা হল মসজিদ মাদ্রাসা কবরস্থান এর খতিয়ান ১ নং সংশোধন করে মুসলিম সমাজের নিজস্ব সম্পদ হিসেবে আগের জায়গায় ফিরিয়ে দিতে হবে এবং আগের খতিয়ান নং করে দিতে হবে অথবা সকল মসজিদ মাদ্রাসা কবরস্থান এর জন্য পৃথক একটি খতিয়ান নং করে দিতে হবে। এই সভায় বক্তব্য রাখেন কলকাতার বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক মানিক ফকির, আযাদ সমাজ পার্টির রাজ্য কনভেনর ইমতিয়াজ আহমেদ মোল্লা, আইনজীবী আব্দুল মোমেন হালদার, ‘অপ্রচলিত ‘ পত্রিকার সম্পাদক বহ্নিহোত্রী হাজরা সহ জেলা নেতৃবৃন্দ।
তায়েদুল ইসলাম জানান, রাজ্যের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আখরুজজামান স্বীকার করেছেন জেলায় ১ নং খতিয়ানে মোট ৩৮৯ টি ঈদগাহ , ৭৭৫ টি মসজিদ, ২২২৩ টি কবরস্থান আছে। সরকার ভাবছে কী ভাবে এগুলো সংশোধন করা যায়। ১ নং খতিয়ান তৃণমূল আমলে হয়নি। করেছে সিপিআইএম। আমাদের বক্তব্য অত্যন্ত স্পষ্ট যে আমলেই হোক মসজিদ মাদ্রাসা কবরস্থান কে সরকারি সম্পত্তি করে রাখা যাবে না। ভাবছি বললে চলবে না। সামনে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই সরকারকে সিদ্ধান্ত নিয়ে লিখিতভাবে সার্কুলার জারি করে সংশোধনের কথা জনগণকে জানাতে হবে।
মানিক ফকির বলেন, হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদী আরএসএস ও বিজেপি দেশকে হিন্দু রাষ্ট্র তৈরি করার শেষের দিকে। হিন্দু রাষ্ট্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য মুসলিমদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক করা। দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক করা প্রকল্পের অংশ মুসলিমদের কাছ থেকে মসজিদ মাদ্রাসা কবরস্থান কেড়ে নেওয়া। অভিন্ন দেওয়ানী আইন চালু করার মাধ্যমে মুসলিমদের শ্বশানে পোড়ানোর ব্যবস্থা করা। আপাতত ১ নং খতিয়ানে থাকা মসজিদ মাদ্রাসা কবরস্থান ব্যবহার করতে হলে ডি এম এর অনুমতি নিতে হবে। যে কোন সময় বা রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে এ নিয়ম চালু করে দেবে। দেশে মুসলিমদের অবস্থা বৌদ্ধদের মতো করাই হল আরএসএস ও বিজেপির উদ্দেশ্য।
ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, এরা কেবলমাত্র মুসলিমদের ওয়াকফ সম্পত্তি কেড়ে নেওয়ার কৌশল নেয়নি। অন্য ধর্মের মানুষদের ওয়াকফ সম্পত্তিও কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই সমস্যা শুধুমাত্র ধর্মীয় সমস্যা বা সম্প্রদায় ভিত্তিক সমস্যা নয়। আরএসএস ও বিজেপি বিরোধী সকল ভারতবাসীর সমস্যা। এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দল ধর্ম পেশা নিরপেক্ষ ভাবে সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে লড়াই করতে হবে। ওয়াকফ ইস্যূতে তৃণমূল সহ বড় রাজনৈতিক দলগুলির ভূমিকা মুসলিমদের হতাশ করেছে। আইনজীবী আব্দুল মোমেন হালদার বলেন উম্মিদ পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন করা মানেই নিজের সম্পত্তি দখল করার জন্য সরকারের কাছে তুলে দেওয়া। মুসলিম নেতাদের ও আইনজীবীদের বিষয়টি আরও গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে দেখা দরকার। বহ্নিহোত্রী হাজরা বলেন ওয়াকফ ইস্যূ, এসআইআর, ওবিসি, বাঙালি মুসলিম শ্রমিকদের নির্যাতন ও হত্যা কোনটাই বিছিন্ন ঘটনা নয়। সবটাই হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিস্ট আরএসএস ও বিজেপির হিন্দু হিন্দি হিন্দুস্থান প্রকল্পের অংশ। সবটার বিরুদ্ধেই লড়াই করতে হবে। সমাজের সব অংশের মানুষকে নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদী ধারাবাহিক ভাবে লড়াই করার কর্মসূচি গ্ৰহণ করতে হবে। মসজিদ মাদ্রাসা কবরস্থান বাঁচাও কমিটির সভাপতি নাজমুল আলম ঘোষণা করেন মসজিদ মাদ্রাসা কবরস্থান কে ১ নং খতিয়ান থেকে বের করে আনার আন্দোলন জেলাব্যাপী জোরদার করা হবে। এই কমিটির সাধারণ সম্পাদক মীর রাকেশ রৌশন বক্তব্যে বলেন এলআর রেকর্ডে ১ নং খতিয়ানে থাকা জমির আরএস রেকর্ড দেখা যাচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের পোর্টাল বাংলার ভূমিতে নট ফাউন্ড দেখাচ্ছে। বিএল অ্যান্ড এল আও – রা বলছেন ১ নং খতিয়ান নিয়ে তাঁরা কোন কথা বলতে পারবেন না। জানা গেছে জেলা শাসকও বলছেন ১ নং খতিয়ান পরিবর্তন করতে পারবেন না। নবান্ন থেকে অর্ডার করিয়ে আনতে হবে। এমতাবস্থায় আন্দোলন করা ছাড়া আমাদের সামনে কোন রাস্তা নেই।








