পরমাণু বিল অনুমোদন মন্ত্রিসভায়
বেসরকারি হাতে আণবিক ক্ষেত্র, উদ্বেগ
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি:
২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার দেশের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত অসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ ক্ষেত্র বেসরকারি অংশগ্রহণের জন্য উন্মুক্ত করার বিল অনুমোদন করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই ‘শান্তি’ (সাসটেইনেবল হার্নেসিং অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অফ নিউক্লিয়ার এনার্জি ফর ট্রান্সফর্মিং ইন্ডিয়া) বিলটি অনুমোদিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ গত বাজেটে এই বেসরকারি অংশগ্রহণের কথা ঘোষণা করেছিলেন। একই সঙ্গে, স্মল মডুলার রিয়্যাক্টরের গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য তিনি ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করে নিউক্লিয়ার এনার্জি মিশন ঘোষণা করেন এবং ২০৩৩ সালের মধ্যে পাঁচটি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি স্মল মডুলার রিয়্যাক্টর কার্যকর করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেন।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন বিশেষজ্ঞরা ও বিরোধী দলগুলি। তাঁদের মতে, ‘শান্তি’ বিলের মাধ্যমে দেশের কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল পারমাণবিক ক্ষেত্রকে বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হলে তা একাধিক গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করবে। সমালোচকদের প্রধান আশঙ্কা, মুনাফা-ভিত্তিক বেসরকারি সংস্থাগুলি কঠোর নিরাপত্তা সংক্রান্ত মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হতে পারে, যা বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়াবে। পাশাপাশি, বেসরকারি সংস্থার প্রবেশের ফলে পারমাণবিক বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, যার ফলে বিদ্যুতের দাম বাড়বে এবং এই অতিরিক্ত বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ গ্রাহকদের ওপর চাপানো হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয় হল যদি কোনো পারমাণবিক দুর্ঘটনা ঘটে, তবে সেক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা কার হবে, তা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পারমাণবিক দুর্ঘটনার মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে সরকারের মতো বেসরকারি সংস্থাগুলির ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা উচিত নয়। সমালোচকরা মনে করছেন, সরকার তড়িঘড়ি করে পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর দিকে মনোনিবেশ করলেও, এই সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত প্রভাবগুলি যথাযথভাবে বিবেচনা করছে না। এটি লাভজনক দিকটির ওপর বেশি নজর দিচ্ছে, যা দেশের পারমাণবিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।








