‘বুড়িমা’ এখনও বাজি-বাজারে সেরা
নতুন পয়গাম, কলকাতা:
কালিপুজো মানেই শব্দবাজি। তবে পরিবেশপ্রেমী বিভিন্ন সংগঠন ও আদালতের চাপে শব্দবাজির দাপট ইদানীংকালে বেশ কিছুটা কমেছে। তার আগে যখন আদালত ৯০ ডেসিবেল বেঁধে দেয়নি, তখন দীর্ঘকাল কালিপুজোর বাজারে একচেটিয়া দাপট ছিল বুড়িমার চকোলেট বোমা। এখন বুড়িমার সেই মৌরসীপাট্টা কিছুটা কমলেও অন্যান্য শব্দবিহীন বাজি বিক্রিতে এখনও শীর্ষাসন ধরে রেখেছে বাংলার এই প্রবীণ বোমা কোম্পানি।
পরিবেশরক্ষায় শব্দবাজি এখন নিষিদ্ধ। তাই চালু হয়েছে বিভিন্ন ধরনের গ্রিন আতশবাজি বা কম শব্দওয়ালা বাজি। নামকরা সব কোম্পানিই এই প্রতিযোগিতার বাজারে সেরা হতে চাইছে। কিন্তু বয়স হলেও এখনও কালিপুজোয় প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী আধিপত্য ধরে রেখেছে বুড়িমার কিছু বাজি। পুজো মণ্ডপের আশপাশের বাজারগুলোতে সব বয়সী ক্রেতাদের লম্বা লাইন। ফুলঝুরি, রঙ বেরঙের মশাল, চরকি, তুবড়ি, লঙ্কাবাজি, সাপবাজি, আতশবাজি ইত্যাদির বাজার তুঙ্গে। আর এসব বাজি বিক্রির বাজারে সেরা এখনও বুড়িমা কোম্পানি।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর কারখানায় তৈরি হয় বুড়িমার আতশবাজি। সেখানে প্যাকেজিংয়ের পর বাজি চলে আসে হাওড়ার বিভিন্ন স্টোর হাউসে। এরপর এরাজ্য ছাড়াও বিভিন্ন রাজ্যে পাঠানো হয়। বুড়িমা কোম্পানির মূল মালিক অন্নপূর্ণা দাস ১৯৪৮ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর চরম অনটনে শরণার্থী হয়ে এপার বাংলায় চলে আসেন। স্বাধীনতার ঠিক পরেই উদ্বাস্তু ও শরণার্থী সমস্যা বা সংকট তীব্র আকার নেয়। সেই সময়েই দুই বাচ্চা নিয়ে অন্নপূর্ণা দেবী এপারে এসে প্রথমে শুরু করেন বিড়ি ব্যবসা, তাতে সংসার না চললে করেন সেলাইয়ের কাজ। পাশাপাশি কালিপুজোর সময় শুরু করেন বাজি বিক্রি। এরপর আর বুড়িমাকে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। এখন অন্নপূর্ণা দাসের উত্তরসূরীরা সামলাচ্ছেন বাজি ব্যবসার রাজপাট।








