মজুরি চাওয়ায় নৃশংস অত্যাচার
মুম্বইয়ে বীরভূমের শ্রমিকের কান কেটে দেওয়ার অভিযোগ
খান সাহিল মাজহার
নতুন পয়গাম, বীরভূম: জীবিকার সন্ধানে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে মুম্বই গিয়ে অমানবিক নৃশংসতার শিকার হলেন বীরভূমের এক যুবক। অভিযোগ, পাওনা মজুরি চাওয়ায় নির্মমভাবে কেটে দেওয়া হয়েছে তার দুই কান। নৃশংস এই ঘটনার পর থেকে ক্ষোভে ফুঁসছে বীরভূমের নলহাটি এলাকার মানুষরা। আক্রান্তের পরিবার থেকে শুরু করে এলাকার বাসিন্দারা দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নলহাটি পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রাজাপুকুরপাড়ার বাসিন্দা রাহুল সিং ৫-৬ মাস আগে জীবিকার তাগিদে মুম্বইয়ের মালাট এলাকায় এক বেসরকারি ঠিকাদার সংস্থায় শ্রমিক হিসেবে কাজে যোগ দেন। অনেকদিন কাজ করেও প্রাপ্য মজুরি না পাওয়ায় বাড়ি ফেরার আগে ঠিকাদারের কাছে প্রায় ২০ হাজার টাকা পাওনা দাবি করেন রাহুল। কিন্তু পাওনা টাকা মেটানোর বদলে ওই ঠিকাদার গড়িমসি বা টালবাহানা করতে থাকেন। শেষমেশ ক্ষোভে ফেটে পড়ে রাহুল স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এর জেরেই তার ওপর এই নৃশংসতা হয় বলে অভিযোগ। ঠিকাদারের তিন থেকে চারজন সহযোগী পরিকল্পনা করে রাহুলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একের পর এক আঘাত করতে থাকে। শুধু তাই নয়, তারা নিষ্ঠুরভাবে কেটে দেয় তার দুই কান। প্রচণ্ড যন্ত্রণা, রক্তক্ষরণ ও আতঙ্কের মধ্যেই কোনওক্রমে তাদের হাত থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে গিয়ে রাহুল আশ্রয় নেয় নিকটবর্তী এক হাসপাতালে।
সেখানকার ডাক্তাররা দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলেও কেটে নেওয়া কান আর জোড়া লাগানো সম্ভব হয়নি। বেশ কয়েকদিন হাসপাতালে চিকিৎসার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়া রাহুল অসহায় অবস্থায় গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন। বর্তমানে তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না, এমনকি বাইরে বের হতেও দ্বিধা বোধ করছেন।
সেই ভয়ঙ্কর ও শিহরণ জাগানো অধ্যায়ের রোমহর্ষক বিবরণ দিতে গিয়ে রাহুল জানালেন, “আমি শুধু আমার ন্যায্য পাওনা টাকা চেয়েছিলাম। এই ছিল আমার অপরাধ। এর জন্য আমাকে এমন যন্ত্রণা সহ্য করতে হবে, ভাবতেও পারিনি। আমি চাই, এই অপরাধীরা যেন সর্বোচ্চ শাস্তি পায়।”
রাহুলের মা দীপা সিংয়ের কথায়, “আমার ছেলে রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে কাজ করেছে। তার ন্যায্য পাওনা চাওয়া কি এত বড় অপরাধ যে, ওর কান কেটে নিতে হবে? আমি দোষীদের কঠোরতম শাস্তি চাই, যাতে আর কোনও মা এমন কষ্ট না পায়।”
এলাকাবাসীর দাবি, মুম্বই পুলিশ যেন দ্রুত এই পাশবিক ঘটনার তদন্ত করে জড়িত সকলকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনে। তারা আরও বলেন, রাজ্য প্রশাসনকেও এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে হবে, যাতে ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে বাংলার শ্রমিকরা নিরাপদে থাকতে পারেন। তারা পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, আমাদের রাজ্যেও তো বিভিন্ন রাজ্যের কয়েক লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক কাজ করছেন। কই তাদের প্রতি তো এমন আচরণ করা হয়েছে বলে কখনও শুনিনি। রাজ্য যাই হোক, সবাই তো ভারতীয় নাগরিক। এক রাজ্যের মানুষ অন্য রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া তো অপরাধ নয়।








