ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ার
রক্তচক্ষু উপেক্ষা করায় ফুঁসছেন ট্রাম্প-নেতানিয়াহু
নতুন পয়গাম, নিউ ইয়র্ক, ২১ সেপ্টেম্বর:
ট্রাম্পের হুমকি ও নেতানিয়াহুর ধমকি উপেক্ষা করে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিল ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা। এই নিয়ে ১৫১ টা দেশ এ পর্যন্ত ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের মর্যাদা বা স্বীকৃতি দিল। আজ সোমবার নতুন করে স্বীকৃতি দিল পর্তুগাল। । রবিবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার সর্বপ্রথম এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলে সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে ইসরাইল। মাত্র কদিন আগেই রাষ্ট্রসংঘের জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয় স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব। তারপর অবশ্য নিরাপত্তা পরিষদে ভোটাভুটি হলে ১৪ দেশই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। কিন্তু একমাত্র আমেরিকা ভেটো দেওয়ায় সেই প্রস্তাব পাস হয়নি। এই নিয়ে ৬ বার ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা সংক্রান্ত প্রস্তাবে ভেটো দিল আমেরিকা।
গত সপ্তাহে ব্রিটেন সফরে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারপরেই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়ে ব্রিটিশ সরকার বুঝিয়ে দিল, তারা ট্রাম্পের রক্তচক্ষুর পরোয়া করে না। লন্ডনের এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে ট্রাম্পের মুখে চপেটাঘাত বলে মন্তব্য করেছে ইরান। এদিন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সাফ বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার মুখে আমরা শান্তি এবং দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে বাঁচিয়ে রাখতে কাজ করছি। যার অর্থ নিরাপদ এবং সুরক্ষিত ইসরাইলের পাশাপাশি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি স্পষ্টভাবে বলছি, আজ ২১ সেপ্টেম্বর ব্রিটেন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে।”
ব্রিটেনের প্রবীণ বামপন্থী নেতা ও সাংসদ জেরেমি করবিন বলেছেন, ‘‘কেবল মৌখিক স্বীকৃতি দিলেই হবে না। সরকারকে স্পষ্টভাবে বলতে হবে যে, গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে ইসরাইল এবং ব্রিটেন এতদিন পরোক্ষে এই গণহত্যায় সহায়তা দিয়েছে ইসরাইলকে। তাই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির পাশাপাশি এবার স্টারমার সরকারকে বন্ধ করতে হবে ইসরাইলকে অস্ত্র সহায়তা দেওয়া। গাজায় জাতিগত নিকেশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। এটা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ। এখন কেবল আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার সময় নয়। আইনি, কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সবরকম পদক্ষেপ নিতে হবে ইসরাইলের বিরুদ্ধে।’’
এদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারকে উদ্দেশ্য করে ইসরাইল সরকারের প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, ব্রিটেন সন্ত্রাসী হামাসকে মদত দিচ্ছে। ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেট-এর স্পিকার আই.আর ওভানা বলেছেন, ‘‘তুষ্টিকরণের এই রাজনীতি নিন্দাজনক।’’ উগ্র দক্ষিণপন্থী সুরক্ষামন্ত্রী বেন গাভির বলেছেন, ‘‘হত্যাকারীদের মদত দেওয়া হল।’’
উল্লেখ্য, বিশ্ব জনমতের চাপে ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলিকেও ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি ঘোষণা করতে হচ্ছে। তবে এমন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আদৌ ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা করতে পারবে কি-না কিংবা স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনে সহায়ক হবে কি-না, তা নিয়ে সন্দেহ সংশয় প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, ফিলিস্তিন এখনও রাষ্ট্রসঙ্ঘের সদস্য নয়, দর্শক বা পর্যবেক্ষক হিসেবে রয়েছে। অথচ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড জবরদখল করে সাড়ে ৭ দশক আগে গড়ে ওঠা অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলকে সদস্য করেছে রাষ্ট্রসংঘ। এই হল পশ্চিমাদের ইনসাফের নমুনা। রাষ্ট্রসংঘের সদস্য না হতে পারায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা অতি সীমিত, তাদের নিজস্ব সেনাবাহিনী নেই। অথচ ইসরাইলের দোর্দন্ড প্রতাপশালী শসস্ত্র সেনাবাহিনী রয়েছে। সে দেশের প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক নারী-পুরুষকে বাধ্যতামূলক সেনা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই নরখাদক সেনারাই বিগত সাড়ে সাত দশক ধরে ফিলিস্তিন ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির ওপর সামরিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
হাইলাইট
১। এ পর্যন্ত ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিল ১৪০টারও বেশি দেশ।
২। এ পর্যন্ত ৬ বার ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা সংক্রান্ত প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে আমেরিকা।
৩। লন্ডনের এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে ট্রাম্পের মুখে চপেটাঘাত: ইরান।
৪। তুষ্টিকরণের এই রাজনীতি নিন্দাজনক। সন্ত্রাসী হত্যাকারী হামাসকে মদদ দেওয়া হল: ইসরাইল।
৫। ইসরাইল বহুকাল আগে রাষ্ট্রসংঘের সদস্য পদ পেলেও ফিলিস্তিন এখনও সদস্য নয়, দর্শক বা পর্যবেক্ষক হিসেবে রয়েছে।








