করিমপুরে রেল সংযোগের দাবিতে বাইক র্যালিতে উত্তাল সীমান্ত এলাকা
নতুন পয়গাম, করিমপুর: রেলপথের দাবিতে ফের আন্দোলনে নামলেন করিমপুরের মানুষ। করিমপুর-কৃষ্ণনগর প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ রাজ্য সড়কে একের পর এক দুর্ঘটনা যেন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে। গত ২৫ জানুয়ারি দুটি বাসের মুখোমুখি প্রতিযোগিতার জেরে একটি বাস উল্টে গিয়ে এক যাত্রীর মৃত্যু হয়, আহত হন বহু মানুষ। স্থানীয়দের দাবি, গত এক বছরে এই রাস্তায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় শতাধিক মানুষ। আর কত প্রাণ যাবে- এই প্রশ্ন তুলে ফের পথে নামলেন মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। এর আগেও রেলের দাবিতে পদযাত্রা ও বাইক মিছিলের মতো কর্মসূচি পালন হয়েছে। শুক্রবার করিমপুর পুরনো বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয় বাইক র্যালি। প্রায় ৩৫০টি বাইক নিয়ে মিছিল এগিয়ে যায়। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে এলাকা- “আর নয় প্রাণহানি, এবার চাই রেল।” মিছিলটি শেষ হয় তেহট্টের হাউলিয়া মোড়ে। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা পথ অবরোধ করে সভা করে আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনকারীরা জানান, সম্প্রতি প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রস্তাবিত রেল প্রকল্পের সমীক্ষা সম্পন্ন হলেও প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। বহুবার সংসদে বিষয়টি তুলেছেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও আবুতাহের খান, তবুও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি নেই। সীমান্ত এলাকার আট থেকে আশি সকলেরই ক্ষোভ- শৈশবে দাদুদের মুখে শুনেছি করিমপুরে রেল আসবে, আজ আমরা নিজেরাই দাদু হওয়ার পথে, অথচ রেল এখনও অধরাই রয়ে গেল। আন্দোলনের অন্যতম মুখ শুভঙ্কর দেবনাথ বলেন, মানচিত্র বা জমি জটের অজুহাত আসলে এই অঞ্চলকে পিছিয়ে রাখার কৌশল। প্রকৃত সদিচ্ছা থাকলে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। করিমপুর এমন কোনো প্রত্যন্ত এলাকা নয়, যেখানে রেল পৌঁছানো অসম্ভব। সারা ভারত মতুয়া মহাসঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ বালা জানান, সীমান্তবর্তী প্রায় ২৫ লক্ষ বঞ্চিত মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি নিয়ে ২০২২ সালে করিমপুর থেকে কৃষ্ণনগর পর্যন্ত টানা তিনদিনে ৮০ কিলোমিটার পদযাত্রা করা হয়। তার ফলেই রেলমন্ত্রক সমীক্ষার জন্য অর্থ বরাদ্দ করে এবং সমীক্ষার কাজ সম্পন্ন হয়। কিন্তু এরপরও কাজ শুরু না হওয়ায় আবার বাইক মিছিল করতে বাধ্য হন তারা। পরবর্তীতে জিএম রেলবোর্ডে ফাইল পাঠানো হলেও তা বর্তমানে আটকে রয়েছে। তাঁদের স্পষ্ট দাবি– অবিলম্বে কৃষ্ণনগর–করিমপুর নতুন রেলপথের অনুমোদন দিয়ে কাজ শুরু করা হোক।








