বাজার দখলই ট্রাম্পের পাখির চোখ যুদ্ধ মন্ত্রক চালু করে শান্তিতে নোবেল চান বিগ বস
নতুন পয়গাম, ওয়াশিংটন, ৬ সেপ্টেম্বর:
শুল্ক-যুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অনড় থাকার নেপথ্য কারণ হল, ভারতের বিশাল বাজার দখল করা। এই মতলবেই তিনি ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করেছেন। পাশাপাশি ট্রাম্পের ইচ্ছা, চীন-রাশিয়া বলয় থেকে ভারতকে সরিয়ে নিজের দিকে টানা। এই লক্ষ্যেই হম্বিতম্বি চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন প্রশাসন। ভারতকে শাসিয়েছেন ট্রাম্পের বাণিজ্য সচিব। আর আমেরিকার বিদেশ নীতিকে আক্রমণ মুখী দেখাতে বলেছেন। তাই প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের (পেন্টাগন) নাম বদলে হচ্ছে ‘যুদ্ধ মন্ত্রক’ হবে। অর্থাৎ ট্রাম্প যে যুদ্ধবাজ বা তার রণংদেহী মনোভাব দেখিয়ে সারা বিশ্বের ওপর ছড়ি ঘোরাতে চান বিগ বস, সেটা সহজেই অনুমেয়। কিন্তু তিনি শান্তি মন্ত্রক চালু করবেন না। তিনি যুদ্ধ দিয়েই শান্তি প্রতিষ্ঠার নীতিতে বিশ্বাসী।
আমেরিকার বাণিজ্য সচিব হুইয়ার লুটনিক বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে আমেরিকা এখন অনেক বেশি সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী। আমেরিকাই ভারতের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। প্রচুর ভারতীয় পণ্য রফতানি হয় আমেরিকায়। সেই যুক্তিতে লুটনিকের দাবি, দু-এক মাসের মধ্যে আমেরিকার শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হবে ভারত। নাহলে ভারতের অর্থনীতি সত্যিকার অর্থেই ডেড বা মৃত হয়ে যাবে। কেবল রাশিয়া থেকে তেল কেনাই নয়, মার্কিন বাণিজ্য সচিব লুটনিকের আপত্তি চীন এবং রাশিয়ার সঙ্গে ব্রিকস জোটে ভারতের থাকা নিয়েও। ডলারের আধিপত্য মেনে নেওয়ার খোলাখুলি হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের উগ্র দক্ষিণপন্থী প্রশাসন।
বিশ্লেষকদের অভিমত, আমেরিকার মধ্যেই শুল্ক নীতি, বিশেষ করে, ভারতের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ানোর নীতিতে সমালোচনার মুখে ট্রাম্প। সেই সমালোচনা সামলাতে লুটনিককে দিয়ে ফের হুমকি দেওয়ালেন ট্রাম্প। ভারতের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য আলোচনা বা দর কষাকষিও চলছে। বাজার খোলার চাপ দিতেও এমন হুমকি বলেই অভিমত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। শুক্রবারই ভারতের বিদেশ মন্ত্রক রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে আমেরিকার সমালোচনা খারিজ করে দিয়েছে। উল্লেখ্য, এদিনই ট্রাম্প ঘোষণা করেন, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের নাম পাল্টে ‘যুদ্ধ মন্ত্রক’ করা হচ্ছে। অবশ্য এই নাম পরিবর্তন করতে হলে ডিক্রি জারি করতে হবে এবং তা মার্কিন কংগ্রেসে (পার্লামেন্ট) পাস করাতে হবে। ট্রাম্পের কথায়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তুলনায় যুদ্ধ-মন্ত্রক শুনতে বেশি ভাল।
উল্লেখ্য, ‘যুদ্ধ মন্ত্রক’ নাম আমেরিকা এর আগে শেষবার ব্যবহার করেছিল ১৯৪০ সালে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কোন দেশেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ছিল না। তখন এর নাম ছিল যুদ্ধ মন্ত্রক। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯-৪৫) পর যখন রাষ্ট্রসংঘ তৈরি হল, তখন সব দেশ তাদের যুদ্ধ মন্ত্রকের নাম বদলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক করেছিল। কিন্তু ট্রাম্প আবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের নাম বদলে যুদ্ধ মন্ত্রক করার কথা ঘোষণা করলেন। স্বভাবতই বোঝা যাচ্ছে যে, তিনি শান্তি নয়, যুদ্ধের সওদাগর। যদিও তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেতে সর্বাত্মক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। এজন্য দলীয় অনুগামীদের থেকে অনলাইনে ১৫ ডলার করে চাঁদা তুলছেন।








