ত্রাণের টাকা না মেলায় ধূপগুড়ি বিডিও অফিস ঘেরাও
ক্ষোভে ফুঁসছে বন্যাকবলিত হোগলাপাতা
প্রীতিময় সরখেল, নতুন পয়গাম, ধূপগুড়ি:
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত বন্যা-ত্রাণের টাকা এখনও না মেলায় ধূপগুড়ির গাধেয়ারকুঠি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দারা বুধবার ধূপগুড়ি বিডিও অফিস ঘেরাও করে তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। গত ৫ অক্টোবর জলঢাকা নদীর জলে ডুবে যায় হোগলাপাতা-সহ আশপাশের বহু গ্রাম। দুই মাসেরও বেশি সময় কেটে গেলেও বহু পরিবার এখনও নদীর বাঁধে কিংবা চর এলাকায় প্লাস্টিকের তাঁবু টাঙিয়ে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। বন্যার দাগ এবারও শুকায়নি—ভেসে যাওয়া ঘরবাড়ির জায়গায় তৈরি হয়েছে গভীর খাল, গর্ত আর পুকুর। যেখানে এককালে বসত ছিল, সেখানে এখন নদীর চর।
এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যাঁদের ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে তাঁদের জন্য এক লক্ষ কুড়ি হাজার টাকা এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ষাট হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অনেকের মোবাইলে টাকা পাঠানোর বার্তা এলেও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সেই টাকা মিলছে না। কিছু পরিবারের অ্যাকাউন্টে আংশিক অর্থ ঢুকলেও তা দিয়ে নতুন ঘর তৈরির প্রশ্নই উঠছে না, কারণ ঘর বানানোর মতো জমি-ভূমিই আর অবশিষ্ট নেই। মানুষের আক্ষেপ“টাকা পেলেও দাঁড়াব কোথায়? আমাদের গ্রামটাই তো নদী গিলে খেয়েছে।”
ত্রাণ বিতরণে গাফিলতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে বিজেপিও। তাদের দাবি, সরকার অসহায় মানুষের দুর্দশা নিয়ে রাজনীতি করছে; ব্যাংকে টাকা নেই অথচ মোবাইলে মেসেজ দিয়ে ভোলানোর চেষ্টা চলছে। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য নির্বাচনের আগে মানুষকে অপেক্ষায় রেখে পরে সামান্য টাকা দিয়ে প্রচারের পথ খুলতেই এই বিলম্ব।
যদিও এই অভিযোগ মানতে নারাজ তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী কথা দিলে কথা রাখেন। কোনও টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে কারও কারও অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি; খুব শিগগিরই সবাই তাঁদের প্রাপ্য ত্রাণ পাবেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি—দুই মাস ধরে তাবুতে কাটানো রাতগুলোর শেষ হোক, প্রতিশ্রুত অর্থ অবিলম্বে প্রদান করা হোক। না হলে আন্দোলন যে আরো বিস্তৃত হবে, তার ইঙ্গিত মিলেছে বিক্ষোভস্থলের উত্তাল স্লোগানে।








