বাংলায় সাম্প্রদায়িকতা ছড়াতেই ‘বেঙ্গল ফাইলস’: গণমঞ্চ
নতুন পয়গাম, কলকাতা: আগামী ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট। রাজ্যের শাসক দল বিরোধী দলগুলিকে কোনওক্রমেই জায়গা ছাড়তে রাজি নয়। কিন্তু বিরোধী দলগুলিও মেহনতে কসুর করছে না। বিশেষ করে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি তো একেবারেই করছে না। বাংলায় পসার জমাতে না পেরে অন্য কায়দা অবলম্বন করেছে বিজেপি। ভিনরাজ্য থেকে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের খেদানো, বাংলা ভাষায় কথা বললেই ‘বাংলাদেশি’ বলে স্ট্যাম্প মেরে দেওয়া এবং বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করে আবার ফিরিয়ে আনা, মালদা-মুর্শিদাবাদে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় জড়ানো, আর.জি করের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা, এসআইআর চালু করে নির্বাচন কমিশনকে লেলিয়ে দিয়েছে বাংলার মানুষের জীবন অতীষ্ট করে তোলার জন্য। তাতেও তারা শান্তি পায়নি।
শনিবার ১৬ আগস্ট বিজেপির ‘ঘরের ছেলে’ বলে পরিচিত চিত্রপরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী তাঁর নতুন ‘প্রোপাগাণ্ডা’ সিনেমা ‘বেঙ্গল ফাইলস’-এর টিজার প্রকাশের জন্য বাংলায় আসেন। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই রবিবার কলকাতার প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে ‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ’। এতে সভাপতিত্ব করেন রাজ্যের প্রাক্তন শ্রমমন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক রন্তিদেব সেনগুপ্ত, বিশিষ্ট চিত্র পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী, অভিনেতা রাহুল চক্রবর্তী, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুমন ভট্টাচার্য, সংগীত শিল্পী সৈকত মিত্র, অনন্যা চক্রবর্তী, ডা. ভাস্কর চক্রবর্তী, সংগীত শিল্পী ও অধ্যাপক নাজমুল হক, অভিনেতা ভিভান ঘোষ, অভিনেত্রী সোমা চক্রবর্তী, সংগীত শিল্পী অমিত কালি প্রমুখ বিশিষ্টজন।
এদিন প্রেস ক্লাবে গণমঞ্চ-এর সদস্যরা ‘বেঙ্গল ফাইলস’-এর তীব্র নিন্দা করেন। তাঁদের বক্তব্য, বিতর্কিত ‘বেঙ্গল ফাইলস’ সিনেমা বাংলায় সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়াবে। টিজারেই তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। ইতিহাসের বিকৃতি ঘটানো হয়েছে গোটা সিনেমা জুড়ে। দেখানো হয়েছে, দেবী দুর্গার কাঠামো জ্বলছে, যা কখনোই বাংলার সংস্কৃতি নয়। আমরা জানি, ১৯৪৬-এ বাংলায় ঘটা রক্তক্ষয়ী দাঙ্গার কথা, সেই সময়য় দাঙ্গাবাজদের কীভাবে দমন করেছিলেন গোপাল মুখার্জি ওরফে গোপাল পাঁঠা — সেও জানি। কিন্তু এই সিনেমায় গোপাল মুখার্জিকে শুধুমাত্র মুসলিম নিধনকারী হিসেবেই দেখানো হচ্ছে, যা একেবারেই সত্যি নয়। সংগীত শিল্পী সৈকত মিত্রের বক্তব্য থেকে জানা যায়, গোপাল মুখার্জির নাতি এই বিষয়টি নিয়ে এফআইআর-ও করেছেন।
গণমঞ্চ-এর সদস্যদের স্পষ্ট বক্তব্য হল, বিজেপি বাংলার মানুষকে কাছে টানতে পারছে না বলেই নানা হীন কৌশল নিচ্ছেএ রাজ্যে বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য, দাঙ্গা লাগানোর চক্রান্ত করছে। এবং সেই কারণেই ‘কাশ্মীর ফাইলস’, ‘কেরালা স্টোরি’-র মতো ‘বেঙ্গল ফাইলস’ তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু দেশ বাঁচাও গণমঞ্চের সদস্যরা এটাও মনে করিয়ে দিয়েছে, বিবেক অগ্নিহোত্রী যেদিন থেকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ‘প্রোপাগাণ্ডামূলক’ সিনেমা বানাতে শুরু করেছেন, সেই থেকেই বিজেপির পরাজয় সুনিশ্চিত হয়েছে। ‘বেঙ্গল ফাইলস’-ও তার ব্যতিক্রম হবে না, সেটা যেন বিজেপি মনে রাখে। বাংলার ইতিহাসকে বিকৃত করে, বাংলা ভাষাকে অপমান করে এই বাংলায় রাজনীতি করা যাবে না। বাংলার মানুষ নিজেদের ঐক্য, সম্প্রীতির পরম্পরাগত ইতিহাসকে মনে রেখেই এই সিনেমা বয়কট করবেন বলে আশাবাদী ‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ’।








