বাংলাদেশ: জুলাই সনদে থাকছে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র
নতুন পয়গাম, ঢাকা, ১৭ অক্টোবর:
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সহ চার বামপন্থী দলের আপত্তির পর জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ এ পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে সংবিধান থেকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র বাদ পড়ছে না। শুক্রবার পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে চূড়ান্ত তা বই আকারে সব রাজনৈতিক দলের নেতা ও আমন্ত্রিত অতিথিদের দেয় কমিশন। অন্যদিকে অঙ্গীকারনামার পঞ্চম ধারা পরিবর্তনের কথা জানানো হয়। সেটির পিডিএফ কপিও সব দলের নেতাদের দেওয়া হয়েছে।
সনদে প্রতিটি প্রস্তাবের পাশে দলগুলোর আপত্তি স্পষ্ট করে দিয়ে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে জয়ী হলে ইশতেহার উল্লেখপূর্বক ব্যবস্থা নিতে পারবে। মঙ্গলবার সনদের অনুলিপি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠিয়েছিল ঐকমত্য কমিশন। সেখানে বলা হয়েছিল, বিদ্যমান সংবিধানের ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি সংক্রান্ত ১৫০ (২) অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত হবে এবং এ সংশ্লিষ্ট পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম তফসিল সংবিধানে রাখা হবে না। এই সিদ্ধান্তে ৯টি দল একমত ছিল না।
সিপিবি, সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ, বাসদ মার্ক্সবাদী ও বাংলাদেশ জাসদের নেতারা সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে না আসার ঘোষণা দেন। সনদে কেন স্বাক্ষর করবে না, তার যে কারণগুলো তারা বলেছিলেন, তার মধ্যে একটি ছিল স্বাধীনতার ঘোষণা বাদ দেওয়ার সুপারিশের বিষয়টি। এরপর জুলাই সনদের এই জায়গায় পরিবর্তন করা হয়। চূড়ান্ত সনদে বলা হয়েছে, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫০ (২) সংশোধন করা হবে এবং এই সংশ্লিষ্ট পঞ্চম ও ষষ্ঠ তফসিল সংবিধানে রাখা হবে না।
উল্লেখ্য, সংবিধানের পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম তফসিল যুক্ত করা হয়েছিল ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে। পঞ্চম তফসিলে আছে বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণ। ষষ্ঠ তফসিলে আছে ১৯৭১ সালের ‘২৫ মার্চ মধ্যরাত শেষে অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে’ বঙ্গবন্ধুর দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষণা। সপ্তম তফসিলে আছে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের জারি করা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। জুলাই সনদ অনুসারে সংবিধানে সংস্কার হলে তাতে তফসিলে ৭ মার্চের ভাষণ ও স্বাধীনতার ঘোষণা থাকবে না। তবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংবিধানের তফসিলে থাকবে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ২৫টি রাজনৈতিক দল ও জোটের নিম্নোক্ত প্রতিনিধিরা স্বাক্ষর করেছেন। জুলাই সনদ স্বাক্ষরের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে ‘নতুন বাংলাদেশের সূচনা’ হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আমরা বর্বরতা থেকে সভ্যতার জগতে এলাম।








