পাথর খাদানে চাপা পড়ে মৃত অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াল বাংলা জন জাগরণ মঞ্চ
মোহাম্মদ সানাউল্লা,
নতুন পয়গাম, নলহাটি
কালো ত্রিপলের ছাউনিতেই কোনোমতে বেঁচে থাকা। অথচ সেই জীবনযুদ্ধেই পাথরের ধ্বসে মর্মান্তিক মৃত্যু হল ২৬ বছরের জিয়ারুল শেখের।
বীরভূমের মধুড়া বাগানপাড়ার বাসিন্দা জিয়ারুল ছিলেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে। নলহাটির বাহাদুরপুর পাথর খাদানে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন তিনি। সরকারি আবাস যোজনার ঘর বা নিজস্ব জমি না থাকায় সরকারি পাট্টার জমিতে কালো ত্রিপলের ছাউনিতেই স্ত্রী, তিন নাবালক সন্তান ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে চলছিল সংসার।
গত শুক্রবার খাদানের ধ্বসের খবর পেয়ে স্তব্ধ পরিবার। মুহূর্তে ভেঙে যায় বেঁচে থাকার স্বপ্ন।
এই দুঃসময়ে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন ‘বাংলা জনজাগরণ মঞ্চ’-এর সভাপতি ও বীরভূমের ভূমিপুত্র অধ্যাপক নূরুল আলম। মৃত জিয়ারুলের স্ত্রী মানোয়ারা খাতুনের সঙ্গে কথা বলতেই তিনি স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েন। তিন নাবালক ছেলে, বৃদ্ধ শাশুড়ি আর সংসার চালানোর দুশ্চিন্তা তুলে ধরেন তিনি।
অধ্যাপক নূরুল আলম জানান, সরকারের ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে। অন্ন সংস্থানের জন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং সন্তানদের পড়াশোনার জন্য সর্বতোভাবে সাহায্য করা হবে।
তিনি একইভাবে দুর্ঘটনায় মৃত হজরত আলীর বাগানপাড়া, সরেহা গ্রামের আবিদ শেখ ও মহুল্লা গ্রামের সামাউল মোল্লার পরিবারের সঙ্গেও দেখা করে সমবেদনা জানান ও পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
অধ্যাপক আলমের দাবি, অবৈধভাবে চলতে থাকা পাথর খাদানগুলি দ্রুত সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা হোক এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিযুক্ত শ্রমিকদের জন্য ইন্স্যুরেন্সসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হোক।








