বেবি পাউডার থেকে ডিম্বাশয়ে ক্যান্সার! জনসনকে ৩৬২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ
নতুন পয়গাম, ওয়াশিংটন:
বেবি পাউডার থেকে ক্যান্সার ছড়ানো নিয়ে মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলায় জনসন অ্যান্ড জনসন কোম্পানিকে ৪০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিল ক্যালিফোর্নিয়ার জুরি, যা ভারতীয় মুদ্রায় ৩৬২ কোটি টাকার বেশি। দুই মহিলা ওই বিপুল অংকের ক্ষতিপূরণ পাবেন। আদালত জানিয়েছে, নিজেদের তৈরি বেবি পাউডার থেকে কী বিপদ হতে পারে, সে ব্যাপারে ওয়াকিবহাল ছিল জনসন কোম্পানি। অথচ ওইসব প্রোডাক্ট তৈরি বা বিক্রয় বন্ধ করেনি; এমনকি গ্রাহকদের এ ব্যাপারে সতর্ক করেনি তারা।
দুই মহিলা আদালতে অভিযোগ করেছিলেন, জনসনের বেবি পাউডার ব্যবহার করেই তাঁদের ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার হয়। লস অ্যাঞ্জেলস সুপিরিয়র কোর্ট মনিকা কেন্ট নামে এক মহিলাকে ১৮ মিলিয়ন ডলার দিতে নির্দেশ দিয়েছে। ডেবোরা স্কালটজ নামে আর এক মহিলাকে দিতে বলা হয়েছে ২২ মিলিয়ন ডলার। এই ক্ষতিপূরণ দেবে জনসন কোম্পানি।সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিক হাস জানিয়েছেন, দ্রুত এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করবেন তাঁরা। আদালতের রায়কে তাঁরা ‘বিকৃত’, ‘ক্ষতিকর’ বলেও উল্লেখ করেছেন।

২০১৪ সালে ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন মনিকা। ডেবোরার ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার ধরা পড়ে ২০১৮ সালে। তাঁরা দু’জনই ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা। স্নানের পর দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে জনসনের বেবি পাওডার ব্যবহার করতেন। ক্যান্সারের চিকিৎসা করাতে গিয়ে একাধিক অস্ত্রোপচার হয় তাঁদের, বারং বার কেমোথেরাপি হয়। মামলায় আদালতে বয়ানও দেন তাঁরা।
কোম্পানির হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী অ্যালিসন ব্রাউন। তিনি জানান, বেবি পাওডার থেকে ক্যান্সার হয়েছে বলে ওই দুই মহিলাকে বুঝিয়েছেন তাঁদের আইনজীবী। আমেরিকার বড় কোনও স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণায় তেমন কিছু ধরা পড়েনি। বাইরে থেকে শরীরে প্রবেশ করে পাওডার ক্যান্সারের বীজ বুনতে পারে বলে উঠে আসেনি কোনও গবেষণায়।
তবে জনসনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ অন্তত প্রায় ৬৭ হাজার মানুষ, ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী ওই সংস্থার পাওডারকেই দুষছেন। যদিও কোম্পানির দাবি, তাদের সমস্ত সামগ্রী নিরাপদ, ক্যান্সারের ঝুঁকি নেই।
এত মামলা থেকে নিষ্কৃতি পেতে জনসন কোম্পানি একাধিক পন্থা নেয়। নিজেদেরকে দেউলিয়া ঘোষণা করেও আবেদন জানায় তারা। যদিও তিন-তিন বার সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এর দরুণ একাধিক মামলাও থমকে রয়েছে। কিছু মামলায় আবার জিতেও গিয়েছে তারা।








