নবজাতককে জীবন্ত কবরের চেষ্টা: রাজাডাঙ্গায় চাঞ্চল্য, পলাতক মা, গ্রেপ্তার বাবা
প্রীতিময় সরখেল, নতুন পয়গাম, জলপাইগুড়িঃ
জলপাইগুড়ি জেলার ক্রান্তি ব্লকের রাজাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর মাঝগ্রাম খালধুরা রিক্সাটারী এলাকায় নবজাতকের রহস্যজনক মৃত্যু ও তাকে জীবন্ত কবর দেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রেজিনা বেগম সম্প্রতি এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। শুক্রবার সকাল আটটা নাগাদ গ্রামবাসীরা দেখতে পান—বাড়ির পাশের ফাঁকা জায়গায় মাটি খুঁড়ে সদ্যোজাত শিশুকে পুঁতে ফেলার চেষ্টা চলছে। ঘটনাটি লক্ষ্য করে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন।
অভিযোগ, গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পর রেজিনা নবজাতককে সেখান থেকে সরিয়ে বাড়ির গোয়ালঘরে রেখে পালিয়ে যান। সেই সময় বাড়িতে ছিলেন না শিশুটির বাবা জিয়ারুল হক। পরিবারের দাবি, তিনি প্রতিদিনের মতো ব্যবসার কাজে বাইরে গিয়েছিলেন।
ক্রান্তি ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নবজাতকের দেহ উদ্ধার করে এবং জিয়ারুল হককে গ্রেপ্তার করে। রেজিনা বেগম এখনও পলাতক। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, জন্মের পরই শিশুটিকে হত্যা করে পুঁতে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কমলা রায় জানান, রেজিনার গর্ভাবস্থা নিয়ে সন্দেহ থাকলেও তিনি কখনও তা স্বীকার করেননি। ধলাবাড়ি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মী সীমা দাস জানান, প্রেগন্যান্সি টেস্টের জন্য দেওয়া ইউরিন কার্ডে রেজিনা জল ব্যবহার করেছিলেন— অর্থাৎ পুরো গর্ভাবস্থাই লুকিয়ে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ।
গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, ইতিমধ্যেই চার সন্তানের মা রেজিনা সন্তানসংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে নবজাতককে হত্যা করেছেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘিরে রাজাডাঙ্গা ও আশপাশের এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।








