অসমের মুখ্যমন্ত্রীর বিদ্বেষ-ভিডিও, সিপিএম-এর মামলা
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি: খোদ মুখ্যমন্ত্রীর হাতে রাইফেল, আর লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে টুপি-দাড়িওয়ালা এক বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষকে! অসম বিজেপির এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করা এমন এক বিতর্কিত অ্যানিমেটেড ভিডিও ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। এই ঘটনায় দায়ের করা সিপিআই (এম) এবং সিপিআই নেতাদের একটি জনস্বার্থ মামলা শুনতে মঙ্গলবার সম্মত হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চ মামলাটি গ্রহণ করে জানিয়েছেন, শীঘ্রই এর শুনানি দিন স্থির করা হবে।
আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী নিজাম পাশা আদালতে অভিযোগ করেন, অসমের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা লাগাতার এক বিশেষ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য করছেন। সাম্প্রতিক ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী রাইফেল হাতে সরাসরি মানুষের দিকে গুলি ছুড়ছেন। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা, ‘কেন পাকিস্তানে গেলে না?’, ‘বাংলাদেশিদের কোনো ক্ষমা নেই’ কিংবা ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক শুট’। যদিও বিতর্কের মুখে ভিডিওটি সরিয়ে নেয় বিজেপি।
গুয়াহাটির দিসপুর থানায় এই নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছে কংগ্রেস। ভিডিওটিকে ‘গণহত্যার ডাক’ হিসেবে অভিহিত করে কংগ্রেস নেতা কে.সি ভেনুগোপাল বলেন, “একটি সরকারি হ্যান্ডেল থেকে সংখ্যালঘুদের হত্যার উস্কানি দেওয়া হচ্ছে, যা ফ্যাসিবাদের চরম বহিঃপ্রকাশ।” আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল মিম-ও অসমের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযোগ করেছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, অসমের বাংলাভাষী মুসলিমদের বিরুদ্ধে ‘বিদ্বেষমূলক ভাষণ’ দেওয়ার যে অভিযোগ হিমন্তের বিরুদ্ধে বারবার উঠছিল, এই ভিডিওটি তাতে ঘি ঢেলেছে। মামলাকারীরা বলছেন, মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসে এই ধরনের কাজ অসাংবিধানিক এবং সামাজিক সম্প্রীতির পরিপন্থী। শীর্ষ আদালত এখন এই স্পর্শকাতর বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।








