‘ঐশীগ্রন্থ সম্পর্কে অসীম সরকারের মন্তব্য বিদ্বিষ্ট ও অজ্ঞতাধর্মী’: জামাআত
নতুন পয়গাম, কলকাতা: বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার ঐশীগ্রন্থ পবিত্র কুরআন সম্পর্কে যে বিতর্কিত, অসংসদীয়, অসাংবিধানিক ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন, তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জামাআতে ইসলামী হিন্দ পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সভাপতি ডাঃ মসিহুর রহমান বলেন, পবিত্র কুরআন হল শত শত কোটি মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও জীবনব্যবস্থার মূল ভিত্তি। এই মহান গ্রন্থ সম্পর্কে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অবমাননাকর মন্তব্য শুধু মুসলমান সমাজের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানেনি, বরং সমাজে বিভাজন, বিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির পথকে প্রশস্ত করার প্রয়াস।
একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এমন মন্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও নিন্দনীয়। সংবিধান অনুযায়ী দেশের প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব জনপ্রতিনিধিদের উপর বর্তায়। কিন্তু তার এই ধরনের মন্তব্য সেই সাংবিধানিক মূল্যবোধের চরম পরিপন্থী। অসীম সরকার একেবারেই রাজনৈতিক সার্থে মহান স্রষ্টার প্রেরিত ঐশীগ্রন্থ পবিত্র কুরআন সম্পর্কে অসত্য ও কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন। কুরআন সম্পর্কে তার নিরেট অজ্ঞতাধর্মী মন্তব্য সমাজে বিদ্বেষ, বিভেদ ও বিভাজনের রাস্তাকে প্রসারিত করবে। তার অভিসন্ধিমূলক মন্তব্য এই রাজ্যের ধর্মীয় সহনশীলতার পরিবেশ বিনষ্ট হবে না বলে আশা করি।
তিনি আরো বলেন, প্রশাসনকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ধর্মীয় অবমাননা করে সমাজে অশান্তি সৃষ্টির সাহস না পায়। রাজ্য সরকারের কাছে জামাআতের সভাপতি দাবি করেছেন, এই রাজ্যে ধর্মীয় অবমাননা আইন তৈরী করা হোক যেমন কর্ণাটক রাজ্য সরকার এই ধরনের বিল সম্প্রতি বিধানসভায় পাশ করেছে।
আমরা পশ্চিমবঙ্গের সকল সচেতন নাগরিক, বুদ্ধিজীবী সমাজ ও গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষদের প্রতি আহ্বান জানাই — ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা, পারস্পরিক সম্মান ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াবেন এবং বিভাজনমূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হবেন।
জামাআতে ইসলামী হিন্দ বিশ্বাস করে — ভারতের বহুত্ববাদী চরিত্র, ধর্মীয় সহনশীলতা ও সামাজিক শান্তি, সম্প্রীতি রক্ষা করাই আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।








