আরাবল্লী: স্বতঃপ্রণোদিত মামলা সুপ্রিম কোর্টের
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি: ভারতের ফুসফুস হিসেবে পরিচিত আরাবল্লী পর্বতমালা রক্ষায় বড় পদক্ষেপ নিল দেশের শীর্ষ আদালত। আরাবল্লী পাহাড়ের বিতর্কিত সংজ্ঞা এবং সংশ্লিষ্ট পরিবেশগত সংকট নিয়ে আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হতে চলেছে। আদালত স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই বিষয়টি বিচারের জন্য গ্রহণ করেছে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জে.কে মাহেশ্বরী এবং বিচারপতি এ.জি মাসিহ-র তিন সদস্যের বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। মামলার শিরোনাম দেওয়া হয়েছে, ‘আরাবল্লী পাহাড় ও পর্বতশ্রেণীর সংজ্ঞা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ’।
কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি আরাবল্লী পর্বতমালার জন্য একটি নতুন ‘সংজ্ঞা’বা সীমানা নির্ধারণ করেছিল। পরিবেশকর্মী এবং বিজ্ঞানীদের অভিযোগ, এই নতুন সংজ্ঞার ফলে আরাবল্লীর এক বিশাল অংশ পাহাড়ের মানচিত্র থেকে বাদ পড়ে যাবে। এর ফলে হরিয়ানা, রাজস্থান এবং গুজরাটের বিস্তৃত বনাঞ্চল ও পাহাড় খনি মাফিয়াদের জন্য উন্মুক্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা বা জনশুনানি ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিরোধীরা দাবি করেছেন।
আদালত আপাতত আরাবল্লী অঞ্চলে নতুন করে খনি লিজ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, যতক্ষণ না পর্যন্ত একটি সুসংহত ‘সাস্টেনেবল মাইনিং ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান’বা পরিবেশবান্ধব খনি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে, ততক্ষণ কোনো নতুন খনন কাজ শুরু করা যাবে না। আদালতের এই কড়া বার্তার পর সরকারও নতুন লিজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
বর্তমানে ‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ ফরেস্ট্রি রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন’-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা আরাবল্লীর বাস্তুসংস্থান ও ভূতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিচার করে খনি নিষিদ্ধ এলাকার তালিকা আরও বড় করে। সোমবারের শুনানিতেই নির্ধারিত হতে পারে এই প্রাচীন পর্বতমালার ভবিষ্যৎ রূপরেখা।








