“আরাবল্লী কেবল পাহাড় নয়, প্রাণের স্পন্দন” বিতর্কিত ‘সংজ্ঞা’য় শীর্ষ আদালতের স্থগিতাদেশ
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি: ভারতের প্রাচীনতম পর্বতমালা আরাবল্লী রক্ষার আইনি লড়াইয়ে অবশেষে গুরুত্বপূর্ণ মোড় এল। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট আরাবল্লী পর্বতমালার নতুন সংজ্ঞা নিয়ে দেওয়া আগের রায় আপাতত স্থগিত করেছে। গত ২০ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে আরাবল্লী পর্বতমালার নতুন সংজ্ঞা দিয়েছিল। তাতে বলা হয়েছিল, কেবল যে পর্বতগুলো সমভূমি থেকে ১০০ মিটারের বেশি উঁচু, সেগুলোকে ‘আরাবল্লী’হিসেবে গণ্য করা হবে। পরিবেশবিদদের মতে, এই বিতর্কিত সংজ্ঞার ফলে আরাবল্লীর প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা আইনি সুরক্ষা হারিয়ে ফেলত এবং সেখানে খনি খনন ও নির্মাণের পথ প্রশস্ত হত।
সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ জানায়, এই সংজ্ঞার পরিবেশগত প্রভাব খতিয়ে দেখার জন্য আরও বিশদ আলোচনা প্রয়োজন। তাই আগের রায় আপাতত স্থগিত রেখে একটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে “পরিবেশের অন্তর্বর্তীকালীন জয়” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “এই লড়াই কেবল কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, বরং দেশের প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার লড়াই।” তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, আরাবল্লী রক্ষার দীর্ঘ সংগ্রাম এখনও শেষ হয়নি।
পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. দিব্যদীপ চট্টোপাধ্যায় জানান, আরাবল্লী কেবল উচ্চতা দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। ১০০ মিটারের নিচের ঢাল, করিডোর এবং মৌসুমি ঝরনাগুলো ভূগর্ভস্থ জলস্তর ধরে রাখা এবং মরুভূমি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নতুন সংজ্ঞার ফলে এই ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল।
রাজস্থানের থর মরুভূমির বালি যাতে দিল্লি ও হরিয়ানার দিকে ছড়াতে না পারে, আরাবল্লী তার প্রাকৃতিক দেওয়াল হিসেবে কাজ করে। এই পর্বতমালা উত্তর ভারতের ভূগর্ভস্থ জলের একটি প্রধান উৎস। এটি চম্বল ও সবরমতীর মতো নদীর উৎসস্থল এবং বহু বিপন্ন প্রাণীর আবাস্থল।
সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলে আপাতত আরাবল্লী অঞ্চলে নতুন কোনো খনি লিজ দেওয়া বন্ধ থাকবে। বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারণ হবে এই প্রাচীন পর্বতমালার ভাগ্য।








