ফের ‘শাটডাউন’ আমেরিকায়, ঝাঁপ বন্ধ বহু সরকারি দফতরে
নুতুন পয়গাম, ওয়াশিংটন, ১ অক্টোবর:
বছর ছয়েক আগে ট্রাম্পের প্রথম দফাতেও শাটডাউন বা আর্থিক অচলাবস্থা দেখা দিয়েছিল। দ্বিতীয় দফাতেও মার্কিন মুলুকে তার পুনরাবৃত্তি হল। বাজেট নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে অচলাবস্থার কারণে সময়মতো বিল পাস না হওয়ায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে ‘শাটডাউন’ শুরু হয় দেশটিতে। ফলে বেশ কিছু সরকারি দফতর বন্ধ হয়ে গেছে। শাটডাউন না কাটা পর্যন্ত এসব দফতরের কর্মীদের অবৈতনিক ছুটিতে থাকতে হবে।
যদিও এই অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়াতে শেষ পর্যন্ত বৈঠক করেন সিনেটের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান সাংসদরা। কিন্তু তহবিল নিয়ে একমত হতে পারেননি সরকারপক্ষ ও বিরোধীরা। সোমবার ট্রাম্প নিজে সিনেট সদস্যদের নিয়ে হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেন। কিন্তু সমাধানসূত্র বেরিয়ে না আসায় উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র মতানৈক্য চলতে থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে শাটডাউন ঘোষণা করে হোয়াইট হাউস।
শাটডাউন কী?
প্রতি অর্থবর্ষে সরকারের বিভিন্ন দফতরের কাজ চালানোর জন্য পার্লামেন্ট বা মার্কিন কংগ্রেসকে অর্থ বরাদ্দ করতে হয়। অর্থবর্ষ শুরু হয় ১ অক্টোবর থেকে। প্রতি বছর ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন ব্যয় বরাদ্দ পাস করতে হয়। যদি এই সময়ের মধ্যে সিনেট সদস্যরা একমত হতে না পারে, তবে বিভিন্ন দফতরের কার্যক্রম অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। ফলে যতদিন না কংগ্রেস থেকে অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে, বা ব্যয় বরাদ্দ সেনেটে পাস না হচ্ছে, ততদিন দফতরগুলো বন্ধ থাকবে।
১০০ সদস্যের মার্কিন সিনেটে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান সাংসদ সংখ্যা ৫৩। যে কোনও বিল পাস করাতে অন্তত ৬০ ভোট প্রয়োজন। সেই হিসেবে সাত জন ডেমোক্র্যাট সদস্যের সমর্থন তাদের প্রয়োজন ছিল। বিলটি ৪৭–৫৩ ভোটে পরাস্ত হয়। ফলে সিনেটের অনুমোদনও মেলেনি।
জানা গিয়েছে, ব্যয় বাজেট গঠনকারী ১২টি বিলের কোনওটিই আইনসভার কোনো কক্ষেই পাস হয়নি। ফলে সম্পূর্ণ শাটডাউন হয়ে গেল।
কোন কোন দফতর বন্ধ?
‘শাটডাউন’ চলাকালে অধিকাংশ সরকারি দফতরের কাজকর্মই বন্ধ থাকবে। চালু থাকবে কেবল জরুরি পরিষেবাগুলো। যারা শাটডাউন চলাকালীনও কাজ করবেন, তাদের অধিকাংশই বেতন পাবেন না। ‘শাটডাউন’ শেষ হলে আবার তাদের বেতন দেওয়া হবে। শাটডাউনের প্রভাব পড়বে দেশটির খাদ্য দফতরে। জরুরি পরিষেবা চালু থাকলেও অনেক কাজই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কোনও কোনও কাজ পিছিয়ে যেতে পারে বা সাময়িক ভাবে বন্ধও হতে পারে।
মার্কিন শিক্ষা দফতরও জানিয়েছে, অধিকাংশ কর্মীকেই আপাতত বসিয়ে রাখা হবে। এদিকে শাটডাউনের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দফতর ‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটি’ চালু থাকবে। এই দফতরের কর্মীদের আপাতত বিনা বেতনে কাজ করতে হবে। শুল্ক এবং সীমান্তরক্ষী কর্মীদেরও একই অবস্থা। এছাড়া শাটডাউনের মধ্যে অভিবাসন, পরিবহন নিরাপত্তা, সিক্রেট সার্ভিস, নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার কাজ চালু থাকবে। এছাড়া বয়স্ক নাগরিক, প্রতিবন্ধী এবং অন্যান্যদের মার্কিন সরকারের তরফ থেকে যে সামাজিক সুরক্ষা দেওয়া হয়, সেগুলো চালু থাকবে। মার্কিন শ্রম বিভাগ জানিয়েছে, বিনা বেতনে কাজ করতে হবে এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণকারীদের।
কতদিন এই শাটডাউন চলতে পারে, তা স্পষ্ট নয়। ২০১৮ সালে ট্রাম্পের প্রথম দফায় মার্কিন প্রশাসনে টানা ৩৫ দিনের জন্য শাটডাউন বা অচলাবস্থা দেখা দিয়েছিল। সেবার ট্রাম্প মেক্সিকো সীমান্তে বিশাল উঁচু প্রাচীর নির্মাণে বাজেট বরাদ্দ চেয়ে কংগ্রেসে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু বিরোধী ডেমোক্র্যাট পার্টির আপত্তিতে সেই বিল পাস না হওয়ায় প্রায় ৫ সপ্তাহ শাটডাউন জারি ছিল, যা দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ শাটডাউন হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
এদিকে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় ডেমোক্র্যাট নেতাদের দুষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গণহারে কর্মী ছাঁটাইয়ের হুমকি দিয়ে বলেছেন, শাটডাউনের অনেক ভাল দিকও রয়েছে। আমরা যেগুলো চাই না, তেমন অনেক জিনিস ফেলে দিতে পারি। অনেককে ছাঁটাই করা হবে। তারা প্রত্যেকেই হবেন ডেমোক্র্যাট।








