সুন্দরবনে বাঘের হামলায় ফের মৃত্যু, সরকারি ক্ষতিপূরণের দাবি
নতুন পয়গাম, হাসান লস্কর, সুন্দরবন: সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে মৎস্যজীবীদের মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত। এবার ঝড়খালির বিধান পল্লির বাসিন্দা গোপাল শীল বাঘের হামলায় প্রাণ হারালেন। গত শনিবার তিনি তিনজন সঙ্গীকে সঙ্গে নিয়ে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনে যান। সোমবার সন্ধ্যার প্রাক্কালে চামটা জঙ্গলের কাছে বাঘের আক্রমণের শিকার হন তিনি। সঙ্গীরা চিৎকার করে কোনোরকমে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ দেহ ময়নাতদন্তের জন্য মমিনপুরে পাঠায়।
মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর (Association for Protection of Democratic Rights)-এর রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের দাবি, ২০২৬ সালে এই নিয়ে ছয়জন বাঘের আক্রমণের শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং বাকিরা আহত। অভিযোগ, এখনো পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির কেউ সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাননি। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ রায়ে জানায়, দেশে বাঘের আক্রমণে নিহত হলে তা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে গণ্য করে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একইসঙ্গে কোর এলাকায় ছবি তোলা ও পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার নির্দেশও দেওয়া হয়। অভিযোগ, বনদপ্তর ওই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সক্রিয় হলেও বাঘের হামলায় নিহতদের ক্ষতিপূরণ ও অবৈধভাবে সাদা বালি তোলার বিষয়ে ততটা উদ্যোগী নয়।
মৃত গোপাল শীলের পরিবারে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যা। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য। সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকার যেন পরিবারের হাতে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ তুলে দেয়। পাশাপাশি পরিবারের একজন সদস্যকে ‘ফরেস্ট ভলান্টিয়ার’ হিসেবে সরকারি চাকরি, শিশুদের পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব এবং কলকাতায় ময়নাতদন্তে যাতায়াতের খরচ বহনের ব্যবস্থাও করার দাবি জানিয়েছেন সংগঠনের প্রতিনিধি মিঠুন মণ্ডল। স্থানীয়দের বক্তব্য, সুন্দরবনের জীবিকা নির্বাহকারী মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে প্রশাসনের দ্রুত দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি।








