কণ্ঠরোধের অভিযোগ: রাজ্যসভায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ বর্জন বিরোধীদের
নয়া দিল্লি: লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ বাতিল হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় তাঁর জবাবি ভাষণ ঘিরে তুঙ্গে উঠল শাসক-বিরোধী সংঘাত। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুরু হতেই বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গের নেতৃত্বে কক্ষত্যাগ (ওয়াকআউট) করেন ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা। ‘বিরোধী দলনেতাকে বলতে দাও’ স্লোগানে এ দিন প্রকম্পিত হয়ে ওঠে উচ্চকক্ষ।
বিরোধীদের প্রধান দাবি ছিল, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে তাঁর বক্তব্যে প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এমএম নারাভানের অপ্রকাশিত আত্মজীবনী ‘ফোর স্টার্স অফ ডেসটিনি’-র বিতর্কিত অংশ উদ্ধৃত করার অনুমতি দিতে হবে। গত তিনদিন ধরে এই ইস্যুকে কেন্দ্র করেই সংসদ অচল হয়ে রয়েছে। সোমবার রাহুল গান্ধী এই বইয়ের অংশ বিশেষ পাঠ করতে চাইলে স্পিকার ওম বিড়লা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ ও রাজনাথ সিং তীব্র বাধা দেন। বিরোধীদের অভিযোগ, বিষয়টি জাতীয় সুরক্ষার সাথে জড়িত হলেও সরকার কৌশলে তাঁদের কণ্ঠরোধ করছে।
বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর ভাষণ শুরু করার সাথে সাথেই কংগ্রেসসহ বিরোধী সাংসদরা লাগাতার স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের দাবি ছিল, অবিলম্বে রাহুল গান্ধীকে ওই বইয়ের তথ্য উপস্থাপনের সুযোগ দিতে হবে। দীর্ঘক্ষণ হট্টগোল চলার পর কোনো সমাধান না হওয়ায় মল্লিকার্জুন খাড়্গের নেতৃত্বে বিরোধীরা সম্মিলিতভাবে সভা থেকে বেরিয়ে যান। বিরোধীদের অনুপস্থিতিতেই প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণ চালিয়ে যান, যেখানে তিনি সরকারের সাফল্য ও আগামী দিনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, স্পিকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী লোকসভায় যে ‘অপ্রত্যাশিত’ পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হয়েছিল, রাজ্যসভাতেও সেই একই ছায়া দেখা গেল। তবে ওয়াকআউটের ফলে রাজ্যসভায় ধ্বনিভোটে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব পাশ হওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।








