তারানগরে পদ্মা ভাঙনে বিধ্বস্তদের পাশে প্রশাসন, দ্রুত পুনর্বাসনের আশ্বাস
রহমতুল্লাহ
নতুন পয়গাম, লালগোলা:
পদ্মার লাগাতার ভাঙনে বিপর্যস্ত মুর্শিদাবাদের লালগোলা ব্লকের তারানগর গ্রামের মানুষ। মানুষের বাড়ি, জমি, রাস্তা নদী গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। ভয় ও আতঙ্কে দিন গুজরান করছেন সীমান্তের পরিবারগুলো। কিছুদিন আগে বিএসএফ এর রাস্তা তলিয়ে যায় নদী ভাঙনে। মানুষের দুরাবস্থার কথা বিবেচনা করে পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এল প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা। সোমবার লালগোলা ব্লক কার্যালয়ে জরুরি বৈঠকে স্থানীয় বিধায়ক মোঃ আলী, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি লক্ষ্মী সরকার, ভূমি কর্মাধ্যক্ষ ইসমাইল হক, বিডিও দেবাশীষ মণ্ডলসহ প্রশাসনিক আধিকারিকরা সিদ্ধান্ত নেন— ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের সরকারি নিয়ম মেনে দ্রুত পুনর্বাসন করা হবে।
পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে বিধায়ক, সর্বদলীয় প্রতিনিধি ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা ভাঙন এলাকা ঘুরে দেখেন। পরিস্থিতি পরিদর্শনের পর বিধায়ক মোঃ আলী বলেন, “ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রশাসন ও পঞ্চায়েত একসঙ্গে কাজ করছে।”
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া পদ্মার ভাঙনে ইতিমধ্যেই ১৬টি বাড়ি, ফসলি জমি ও বাগান নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। ঝুঁকির মুখে রয়েছে আরও ৯টি বাড়ি। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন অন্তত ৫৫টি পরিবারের সদস্যরা।
বর্তমানে প্রায় ৯০টি পরিবারের ২৭৫ জনকে তারানগর ও কালিনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গড়ে ওঠা ত্রাণ শিবিরে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ১৫টি পরিবার অস্থায়ী তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের খাবার ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে দ্রুত পুনর্বাসনের আশ্বাসে কিছুটা স্বস্তি মিললেও নদীভাঙনের আতঙ্ক এখনও কাটেনি বলে জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।








