শিক্ষারত্নে ভূষিত হচ্ছেন আবদুল মতিন মল্লিক
উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, নতুন পয়গাম, জয়নগর :
করোনা মহামারির সময় স্কুল বন্ধ থাকায় আর্থিক সংকটে পড়ে একের পর এক পড়ুয়া পড়াশোনা ছেড়ে কাজে যোগ দেয়। কেউ পরিচারিকার কাজ করছিল, কেউ বা পরিবারের চাপেই চলে যাচ্ছিল ভিনরাজ্যে। অভাবের কারণে একাধিক কন্যাশিশুর বাল্যবিবাহের ব্যবস্থাও হচ্ছিল। ঠিক এই সময় দৃঢ়ভাবে এগিয়ে আসেন মগরাহাটের মড়াপাই সেন্ট প্যাট্রিকস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবদুল মতিন মল্লিক।
তিনি একা নন, পাশে পান স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক-কর্মী, স্থানীয় ক্লাব, পঞ্চায়েত, অভিভাবক ও পুলিশ প্রশাসনকে। পাড়ায় পাড়ায় বৈঠক করে বোঝান শিক্ষার গুরুত্ব, প্রতিহত করেন বহু বাল্যবিবাহ। পরিচারিকার কাজ থেকে ফিরিয়ে আনেন ছাত্রীদের, আর ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া ছাত্রদের ফের পাঠান স্কুলে। তাঁর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় প্রায় ৭০ শতাংশ স্কুলছুট পড়ুয়া আবার ফিরে আসে ক্লাসরুমে।
এই অসাধারণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এবছর শিক্ষক দিবসে রাজ্য সরকার আবদুল মতিন মল্লিককে শিক্ষারত্ন পুরস্কারে ভূষিত করছে। পুরস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন—
“এটি শুধু আমার নয়, আমাদের সবার সাফল্য। সমাজের জন্য কিছু করতে পেরেছি এটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ। পুরস্কার আরও অনুপ্রাণিত করবে এগিয়ে যেতে।”








