পলাশীর প্রান্তরে সাহিত্য-সুরের জোয়ার, ‘আমরাও মানুষ’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচনে সরগরম ঐতিহাসিক ভূমি
নতুন পয়গাম, পলাশী:
যে প্রান্তর একদিন ইতিহাস রচনা করেছিল, সেই পলাশী বুধবার আরেক অধ্যায়ের সাক্ষী রইল- সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক আবেগে ভেসে গেল সারাটি দিন। ‘পলাশী সিরাজ-উদ-দৌল্লা সাংস্কৃতিক উৎসব’-এর মঞ্চে বসেছিল কবিতার আসর, আর সেই আসরেই উন্মোচিত হলো কবি আব্দুল সামাদ সেখের নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘আমরাও মানুষ’। মানবিকতা, নৈতিকতা আর সমতার বার্তা যেন নতুন ভাষায় প্রতিধ্বনিত হলো এই জমিনে।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন শফিকুল ইসলাম ও সাবির শেখ। তাঁদের প্রাণবন্ত বাচনভঙ্গি, সুরেলা উপস্থাপনা ও মঞ্চ– পরিচালনার দক্ষতা পুরো আয়োজনকে এনে দেয় বিশেষ মাত্রা।
জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাহিত্যিক, গবেষক, শিক্ষক, সম্পাদক ও সাংবাদিকদের পদচারণায় জমজমাট হয়ে ওঠে পলাশী। এদিনের আসরে ছিলেন চৈতন্য দাস, দীনমহাম্মদ সেখ, দেবাশীষ মিত্র, মুয়ালিম জাহির বাড়াদি, ফজলুর রহমান, বিপ্লব রায়, সোহারাব হোসেন, মিরা বালিকা, নবনীতা নাগ সরকার, কামরুন নাহার, রাজকুমার মন্ডলসহ আরও অনেকে। পাশাপাশি সাংবাদিক শুভায়ুর রহমান, সারিউল ইসলাম, রহমতুল্লাহ, সাবির আহমেদ ও মোহাদ্দেস সেখদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানে এক বিশেষ গুরুত্ব এনে দেয়।
উৎসবকে সফল করতে মেলা কমিটির সম্পাদক আনারুল হক এবং সভাপতি মুক্তার সেখ অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। বক্তব্যে উপস্থিত সাহিত্যিকরা ‘আমরাও মানুষ’ কাব্যগ্রন্থটিকে মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও ন্যায়ের অবিচল বার্তাবাহক হিসেবে চিহ্নিত করেন। তাঁদের মতে, কবি আব্দুল সামাদ সেখ মানবতাবাদী কবিতার এক সম্ভাবনাময় পথিকৃত, যাঁর কণ্ঠ আগামী দিনে আরও জোরালো হবে।
ইতিহাসঘেরা পলাশীর মাটিতে এই আয়োজন শুধু একটি বইয়ের প্রকাশনা নয়- এ ছিল মনন, মানবিকতা ও সংস্কৃতির সম্মিলিত উদযাপন। অতীতের স্মৃতি আর বর্তমানের সৃজনশীলতা যেন এক সুতোয় গেঁথে দিল বুধবারের পলাশীকে।








