পশ্চিমবঙ্গে ইসলামী সংস্কৃতির ইতিহাসে নতুন অধ্যায় “জাগরণ কালচারাল ফেস্টিভ্যাল”
নতুন পয়গাম: “আবিলের কুটিলতা রুখে দিতে আমাদের মহা আয়োজন, আমরাই আনবো প্রাণে প্রাণে জামানার নয়া জাগরণ” এই স্লোগান তুলে এয়ারপোর্ট সংলগ্ন গোপালপুরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক উৎসব “জাগরণ কালচারাল ফেস্টিভ্যাল ২০২৫”। ফেস্টিভ্যাল মানে যেখানে শুধু ডিজে গানের তালে নাচানাচি, তার বিপরীতে তামাদ্দুন শিল্পীগোষ্ঠী পরিচালিত জাগরণ কালচারাল ফেস্টিভ্যাল এক উজ্জল দৃষ্টান্ত। এই অনুষ্ঠানের প্রধান অথিতি হিসেবে দর্শকদের মন জয় করে নেন আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী ডঃ হায়দার সাইফ। তার গাওয়া গানে মেতে ওঠে সমস্ত দর্শক।
এদিন বেলা ১২ টা থেকে মূল অনুষ্ঠান পর্ব শুরু হয় পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও তরজুমার মাধ্যমে। এরপর থেকে অভিনয়, গান, কবিতা আর প্রদর্শনীতে দর্শকদের সারাদিন মাতিয়ে রেখেছিলেন শিল্পীরা। প্রত্যেকটি উপস্থাপনাতে ছিল সমাজের জন্য মূল্যবোধ ভিত্তিক বার্তা ও নতুন প্রজন্মকে দিশা দেখানোর পাথেয়। দর্শকদের অভিমত এই সাংস্কৃতিক উৎসব পশ্চিমবঙ্গের ইসলামী সংস্কৃতিতে এক নতুন ইতিহাস রচনা করেছে। ইসলামের যে নিজস্ব একটি স্বর্ণালী সংস্কৃতি আছে সেটা তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে তামাদ্দুন শিল্পীগোষ্ঠী। এদিন প্রায় ২ হাজার দর্শকের বিশাল সমাবেশ ও অসাধারণ সব সঙ্গীত, নাটকের উপস্থাপনা সত্যিই সাড়া জাগিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি প্রেমীদের মধ্যে।
এই ঐতিহাসিক “জাগরণ কালচারাল ফেস্টিভ্যাল” এর বিশেষ আকর্ষণ ছিল “নীরব জাগরণ প্রদর্শনী”। জিআইও’র মেয়েদের অসাধারণ এক্সিবিশন উপস্থাপনা সমস্ত দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। “নীরব জাগরণ প্রদর্শনী”র মাধ্যমে জিআইও’র মেয়েরা ফিলিস্তিনে ইসরাইলের গণহত্যা থেকে শুরু করে, দেশের ক্রমবর্ধমান দুর্নীতির পাহাড়, মানব জীবনে জ্ঞান অর্জনের অপরিহার্যতা, এসআইও’র কর্মকান্ডের ইতিহাস ইত্যাদি খুব সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
এদিনের এই সাংস্কৃতিক উৎসবে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসআইও পশ্চিমবঙ্গ শাখার রাজ্য সভাপতি ইমরান হোসেন, জামাআতে ইসলামী হিন্দের রাজ্য সভাপতি ডাঃ মশিহুর রহমান, স্থানীয় বিধায়ক তাপশ চ্যাটার্জী, শিশু সাহিত্যিক সাংবাদিক নুরুদ্দীন শাহ সহ আরও অনেকেই।








