ভারতীয় ফুটবলে নতুন অধ্যায়ের সূচনা, অষ্ট্রেলীয় ফুটবলারকে খালিদের কল
নিজস্ব সংবাদদাতা, নতুন পয়গাম
খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার জার্সি গায়ে।কিন্তু এবার খেলবেন ভারতের জার্সি গায়ে।তিনি ব্যাঙ্গালুরুর হয়ে খেলা রায়ান উইলিয়ামস। ডাক ভারতের জাতীয় দলের ক্যাম্পে।বিষয়টা খুলে বলা যাক-
ভারতে দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রচলন নেই। সুতরাং, এই মুহূর্তে ভারতীয় বংশোদ্ভূত যে কোনও ফুটবলারকেই ভারতীয় দলে খেলার জন্য নিজের দেশের নাগরিকত্ব ছেড়ে ভারতের নাগরিকত্ব নিতে হবে! রায়ান উইলিয়ামস সেই কাজটাই করেছেন। বেশ কয়েক বছর তিনি ভারতের ক্লাব ব্যাঙ্গালুরু এফসিতে খেলেছেন এবং ভারতে অনেকদিন থাকার সুবাদে ভারতীয় পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছিলেন। সূত্র মারফত, সেই পাসপোর্ট তিনি ইতিমধ্যেই পেয়ে গেছেন এবং তাকে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের আগে জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাকা হয়েছে। ৩১ বছর বয়সী রায়ান এর আগে অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে ১২ টা ম্যাচ, অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে ৩ টে ম্যাচ, এবং সিনিয়র দলের হয়ে একটা ম্যাচ খেলেছেন। রায়ান উইলিয়ামসের মা মুম্বইয়ের অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান ফ্যামিলিতে জন্মেছিলেন, সুতরাং রায়ান অস্ট্রেলিয়ান হলেও আদতে ভারতীয়-বংশোদ্ভূত ফুটবলারও বটে।
রায়ান উইলিয়ামস খুবই আহামরি কিছু করে ভারতীয় ফুটবলের মানচিত্রটাই বদলে ফেলবেন, এমনটা আমি বলা যাচ্ছে না! কিন্তু কাউকে দিয়ে এই জিনিসটা শুরু হওয়ার দরকার ছিল! রায়ানকে দেখেই যদি বাকি পিআইও প্লেয়াররা নিজের দেশের পাসপোর্ট ছাড়তে রাজি হন! এআইএফএফ তো নিজে থেকে এ বিষয়ে নিয়ে কোনও উদ্যোগ নিচ্ছে না, ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্লেয়াররাই নিক!
তবে জাতীয় দলে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলার খেলানো নিয়ে টানাপোড়েন দীর্ঘদিনের। আইনি জট কাটিয়ে এবার সমাধানের পথে সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থা। সব ঠিকঠাক চললে রায়ান উইলিয়ামসের পাশাপাশি অবনীত ভারতীকে ব্লু টাইগার্সে দেখা যেতেই পারে। এএফসি এশিয়ান কাপের যোগ্যতা পর্বের ম্যাচে ভারতের পরের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। শুক্রবার বেঙ্গালুরুতে শুরু জাতীয় শিবির। সূত্রের খবর, শেষ মুহূর্তে উইলিয়ামস ও নবনীতকে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই বিষয়ে জাতীয় দলে কোচ খালিদ জামিলের মন্তব্য, ‘ভারতীয় ফুটবলের পক্ষে এমন সিদ্ধান্ত মঙ্গলজনক। এই দু’জন ভারতের হয়ে খেলতে আগ্রহ দেখিয়েছে। এই আন্তরিকতা অবশ্যই প্রশংসনীয়।’
যাই হোক, ফুটবলার রায়ানের বেড়ে ওঠা অস্ট্রেলিয়ায়। ২০২৩ সালে পারথ গ্লোরি থেকে বাগিচা শহরে আসেন তিনি। আইএসএলে ভালোই নজর কেড়েছেন তিনি। জাল কাঁপানোর পাশাপাশি অ্যাসিস্টেও দক্ষ দ্রুতগতির এই ফুটবলার। বরাবরই ভারতের জার্সি গায়ে চাপানোর ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন এই উইং হাফ। কিন্তু পদ্ধতি মোটেও সহজ নয়। তার জন্য ভারতের পাসপোর্ট ছাড়াও সংশ্লিষ্ট ফুটবল ফেডারেশনের নো অবজেকশন সার্টিফিকেট প্রয়োজন। সূত্রের খবর, এদিনই পাসপোর্ট হাতে পেয়েছেন উইলিয়ামস। অজি ফুটবল সংস্থার অনুমতি পেলেই তাঁকে নথিভুক্ত করাতে পারবে সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থা। আপাতত তারই অপেক্ষায় এআইএফএফ। পাশাপাশি অবনীতের ভাগ্য নির্ধারিত হবে ট্রায়ালে। আর্জেন্তিনা, মেক্সিকো, বলিভিয়ার শীর্ষ লিগে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। এর আগে সমীর নাসরি, মাইকেল চোপড়ার মতো ফুটবলার ভারতের হয়ে খেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নিয়মের জাঁতাকলে তা সম্ভব হয়নি। জাপানি ফুটবলার আরাতা ইজুমিকে সই করিয়েছিল ইস্ট বেঙ্গল। পরবর্তীতে ভারতীয় পাসপোর্ট পান তিনি। নীলকণ্ঠ নাম নিয়ে জাতীয় দলে খেলার পাশাপাশি থিতু হয়েছেন এদেশেই। বংশোদ্ভূত ফুটবলার খেলানোর উদাহরণ গোটা বিশ্বেই রয়েছে। এমনকী, বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পরিচিত মুখ হামজা চৌধুরিকে দলভুক্ত করে শক্তি বাড়িয়েছে পদ্মাপাড়ের দেশ। পাকিস্তান, হংকং, সিঙ্গাপুরেও প্রচুর সংখ্যায় বংশোদ্ভূত ফুটবলার দেখা যায়। রায়ান উইলিায়মসরা নীল জার্সি গায়ে চাপালে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলাররা নিঃসন্দেহে আরও উৎসাহিত হবেন।
এ নতুন উদ্যোগ কি অদূর ভবিষ্যতে ভারতকে বিশ্বমঞ্চে তুলে সাহায্য করবে?
সময়ই হয়তো তার উত্তর দেবে।








