কালিয়াচকে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু, মেয়ের পড়াশোনার দায়িত্ব নিলেন সমাজসেবী কুরবান সেখ
নতুন পয়গাম, নিজস্ব প্রতিবেদক, মালদহ: ফের ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন মালদহ জেলার এক পরিযায়ী শ্রমিক। বৃহস্পতিবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোকের ছায়া নেমে আসে মালদা জেলার কালিয়াচক-১ নম্বর ব্লকের জালালপুর অঞ্চলের ধারারা গ্রামে। এদিন কফিনবন্দী নিথর দেহ গ্রামে ফিরতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়স্বজনেরা। শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে গোটা এলাকা। জানা গেছে, মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের নাম বাহাউদ্দিন (৫২)। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে সংসার চালাতেন। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলেও বাকি পরিবারের যাবতীয় দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধেই। বাহাউদ্দিন ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল সদস্য। সংসারের ভরণপোষণের তাগিদে প্রায় সাত মাস আগে তিনি মুম্বইয়ে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যান।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার মুম্বইয়ে একটি বহুতলে নির্মাণকাজ চলাকালীন উপর থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন বাহাউদ্দিন। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বৃহস্পতিবার তাঁর কফিনবন্দী দেহ নিজ গ্রাম ধারারায় ফিরিয়ে আনা হয়। দেহ গ্রামে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয়স্বজনেরা। পাড়া-প্রতিবেশীরাও শোকপ্রকাশ করেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল সদস্যকে হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এই পরিবার। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ প্রশাসনের কাছে মৃত শ্রমিকের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও সরকারি সহায়তার দাবি জানান। এদিকে শোকাহত পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের কিষান খেত মজদুরের রাজ্য কমিটির সদস্য কুরবান সেখ, মালদহ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কিষান খেত মজদুর কমিটির জেলা সহ-সভাপতি বাসিরুল ইসলাম, কালিয়াচক-১ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মদক্ষ কামাল হোসেন-সহ তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতৃত্ব। তাঁরা পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।
এসময় কুরবান সেখ জানান, তিনি একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হিসেবে নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগে মৃত শ্রমিকের ছোট কন্যার পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। পাশাপাশি শোকাহত পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্যও তুলে দেন তিনি। উল্লেখ্য, সমাজসেবামূলক কাজে কুরবান সেখের ভূমিকা নতুন নয়। অতীতেও তিনি বিভিন্ন সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কখনও হাসপাতালে রোগীদের মধ্যে ফলমূল বিতরণ, কখনও আর্থিক অসচ্ছল মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়া, আবার কখনও বন্যা দুর্গত এলাকা কিংবা করোনা মহামারীর সময় খাদ্যসামগ্রী নিয়ে মানুষের দুয়ারে পৌঁছে গেছেন তিনি।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠছে ভিনরাজ্যে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও তাঁদের পরিবারের সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন।








