ভিনগ্রহী সন্ধানে তৈরি হচ্ছে বিশাল টেলিস্কোপ
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি:
জাপান ও ভারত যৌথ উদ্যোগে পৃথিবীর বৃহত্তম টেলিস্কোপ তৈরি হচ্ছে। এর নাম দিয়েছে ‘থার্টি মিটার টেলিস্কোপ’ বা টিএমটি। এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপের শক্তিশালী আয়না হবে ৩০ মিটার লম্বা। এটি মহাবিশ্বকে বোঝার ক্ষেত্রে বিপ্লব আনবে এবং মানুষের সবচেয়ে বড় প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সাহায্য করতে পারে, মহাবিশ্বে কি আমরা একা? নাকি আছে এলিয়েন বা ভিনগ্রহী প্রাণীরাও?
এই প্রকল্পে ভারত, জাপান ও আমেরিকার কয়েকটি বড় বিশ্ববিদ্যালয় একসঙ্গে কাজ করছে। তাদের প্রধান লক্ষ্য হল, মহাবিশ্বের অনেক গভীরে দেখা কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাকহোল এবং দূরের ছায়াপথ বা গ্যালাক্সি নিয়ে গবেষণা করা। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে পৃথিবী গ্রহের বাইরে প্রাণের অস্তিত্ব খোঁজা।
টিএমটি-র এই ৩০ মিটার লম্বা আয়না বর্তমান বিশ্বে বিদ্যমান সব টেলিস্কোপের চেয়ে অনেক বড়, ফলে এর ছবি অনেক স্পষ্ট দেখা যাবে। উল্লেখ্য, এই দৈত্যাকার টেলিস্কোপের প্রাথমিক আয়নাটি তৈরি হবে ৫০০টি আয়না দিয়ে, যা নিখুঁতভাবে বসানো থাকবে। প্রতিটি আয়নার স্থান ও কোণ সাবধানে ঠিক করে বসাতে হয়। এই কাজটি ভারতীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে করা হয়েছে।’
ভারত এই প্রকল্পের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ২০১৪ সালে এই যৌথ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। ভারতের তিনটি প্রতিষ্ঠান এই কাজে যুক্ত। তারা হল বেঙ্গালুরুর আইআইএ, পুনের আইইউসিএএ এবং নৈনিতালের এআরআইইএস।
টেলিস্কোপটি তৈরি হবে হাওয়াই দ্বীপের মাউনাকেয়া পাহাড়ে, যা প্রায় ৪ হাজার মিটার বা ১৩ হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থিত। এখানকার আকাশ খুব পরিষ্কার, তাই পর্যবেক্ষণের জন্য এটি সেরা জায়গা। তবে একটি সমস্যা আছে। হাওয়াইয়ের বাসিন্দারা মাউনাকেয়াকে পবিত্র মনে করেন, তাই সেখানে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হচ্ছে। তাদের সংস্কৃতি ও প্রথাগুলোর কথা বিবেচনায় রেখে আলোচনা চলছে।

তবে ভারতেও বিকল্প স্থান লাদাখের হানলে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে আগে থেকেই একটি উঁচু মানমন্দির আছে। অবশ্য বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এই প্রকল্পের মূল কাজ হল, পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে প্রাণের সন্ধান করা। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, পৃথিবী থেকে দূরে অন্য কোথাও জীবন আছে। অর্থাৎ সূর্য নয়, এমন অন্যান্য নক্ষত্রের গ্রহগুলোতে জীবনের সন্ধান করতে সহায়তা করবে এই টেলিস্কোপ।
২০৩০ সাল নাগাদ এই প্রকল্প চালু হবে। পৃথিবীর বাইরে যদি জীবন খুঁজে পাওয়া যায়, তবে তা হবে সর্বকালের সেরা বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার। জাপান ও ভারত মহাকাশ বিজ্ঞান নিয়ে দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করছে। ইতিমধ্যে এই দুই দেশ লুপেক্স মিশনের মাধ্যমে চাঁদে পানির সন্ধান করছে।








