বঙ্গভূমি সাহিত্য পত্রিকার বার্ষিক সাহিত্য সম্মেলনে গুণীজনদের মিলনমেলা
অতসী মন্ডল, নতুন পয়গাম, কলকাতা:
উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হলো বঙ্গভূমি সাহিত্য পত্রিকার বার্ষিক সাহিত্য সম্মেলন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিদ্যাসাগর মেট্রোপলিটন কলেজের সেমিনার হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রাজ্যের প্রায় সমস্ত জেলা ছাড়াও আসাম, ত্রিপুরা ও উড়িষ্যা থেকে আগত দুই শতাধিক কবি, সাহিত্যিক, গবেষক, অধ্যাপক, চিকিৎসক ও শিল্পীদের মিলন ঘটে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয় পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে। সহযোগিতায় ছিল বিদ্যাসাগর মেট্রোপলিটন কলেজ, প্রকাশনা সহযোগী বর্ণাক্ষর সাহিত্য প্রকাশন (অরিজিত মিত্র)।
অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ভাষাবিদ ও শিক্ষাবিদ ড. পবিত্র সরকার, ইতিহাস গবেষক ড. সর্বজিৎ যশ, বিদ্যাসাগর মেট্রোপলিটন কলেজের অধ্যক্ষ ড. অর্ঘ্য সরকার, প্রাক্তন বিধায়ক প্রণব কুমার নাথ (আসাম), ইতিহাস গবেষক ও সিটি কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ড. মহীতোষ গায়েন, প্রাবন্ধিক ও সমাজসেবী ড. সমুদ্র বসু, আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি ড. দীপ্তি মুখার্জী, স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত সাহিত্যিক ড. নীহার রঞ্জন দেবনাথ (আসাম), এবং সমাজসেবী মানব মুখোপাধ্যায় (কৃপাণ),মহাশ্বেতা বন্দোপাধ্যায় (বিশিষ্ট কবি-সাহিত্যিক ও সমাজসেবিকা)-সহ বহু গুণীজন।
সঙ্গীত পরিবেশন করেন শ্রীনিধি সামন্ত, সান্তনা তরফদার ও পীয়ুষ রায় (ভাওইয়া শিল্পী, শিলিগুড়ি)। নৃত্য পরিবেশন করেন বনবীণা মুখোপাধ্যায় ও সুজন দে (শিলিগুড়ি)। একাঙ্ক নাটকে অভিনয় করেন ডালিয়া রায়। প্রায় ৫০ জন কবি-সাহিত্যিক নিজের লেখা কবিতা পাঠে অংশ নেন, যা অনুষ্ঠানে এক প্রাণময় আবহ তৈরি করে।
এদিন প্রকাশিত হয় ১১১ জন লেখকের লেখা কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ ও চিত্র সংকলন ‘আরোহী’, এবং ইতিহাসভিত্তিক উপন্যাস “ভূরশুটের বীরাঙ্গনা: রাণী ভবশঙ্করী” (লেখক ড. সহদেব দোলুই)। পাশাপাশি প্রকাশিত হয় তাঁরই গল্পগ্রন্থ “মুখোশের অন্তরালে”-এর প্রচ্ছদ।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতী ব্যক্তিদের সম্মান জানানো হয়— ‘বঙ্গরত্ন সম্মান’, ‘মানবরত্ন’, ‘জীবনকৃতী সম্মান’, ‘রবীন্দ্র স্মৃতিস্মারক সম্মান’, ‘অন্নদাশঙ্কর রায় স্মৃতি সম্মান’, ‘মাদার টেরেজা সম্মান’, উত্তর বঙ্গের ঐতিহ্যমন্ডিত রায় পরিবারের নরেশ চন্দ্র রায় স্মৃতিসম্মান, মণীশ চন্দ্র রায় স্মৃতিসম্মান প্রভৃতি।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, ‘আচার্য সম্মান’ লাভ করেন ড. পবিত্র সরকার, ড. সর্বজিৎ যশ, ড. মহীতোষ গায়েন ও ড. অর্ঘ্য সরকার এবং জীবনকৃতি সম্মাননা – ২০২৫ সম্মান পান শিক্ষক ও পরিবেশ কর্মী রাজদূত সামন্ত প্রবাদ প্রতীম শিক্ষাবিদ,ভাষাবিদ ড.পবিত্র সরকার মহাশয়ের হাত থেকে।
আয়োজকদের মধ্যে ছিলেন সভাপতি দেবনারায়ণ দাস, মুখ্য উপদেষ্টা ড. মহীতোষ গায়েন, যুগ্ম সম্পাদক ড. সহদেব দোলুই ও ড. অর্ণব দত্ত, এবং আহেদা খাতুন, রাজেশ মণ্ডল, কেয়া চক্রবর্তী, যোগমায়া মণ্ডল, ডালিয়া রায়, সজল সাঁতরা, সুজাতা সাহা প্রমুখ।
সমাপনী বক্তব্যে ড. মহীতোষ গায়েন বলেন, “সাহিত্য যেমন আত্মার বিকাশ ঘটায়, তেমনি সমাজকল্যাণও সাহিত্যচর্চারই অংশ।” সভাপতি দেবনারায়ণ দাস ও যুগ্ম সম্পাদকরা জানান, “সাহিত্য ও সমাজসেবা— এই দুই-ই বঙ্গভূমির অঙ্গীকার।”
সম্মেলনের শেষ মুহূর্তে সকলের কণ্ঠে এক স্লোগান—
“জয় হোক কবিদের, জয় হোক কবিতার — সমাজকল্যাণ হোক আমাদের অঙ্গীকার।”








