নিয়মরক্ষার ম্যাচেও নির্দয় সূর্য, ঈশানরা; বোলিংয়ে নজর কাড়লেন অর্শদীপ
স্টাফ রিপোর্টার: সিরিজ আগেই জিতে নিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। চতুর্থ ম্যাচ জিতে হোয়াইট ওয়াশও বাঁচিয়েছে কিউয়িরা।তাই মনে করা হচ্ছিল, এই ম্যাচে কোনো মোটিভেশান পাবেন না সূর্যকুমাররা।কিন্তু মাঠে তার উল্টো চিত্র।প্রতিপক্ষকে একেবারে ধুলিসাৎ করে দিলেন ঈশান কিষান,হার্দিক,সূর্যরা। বিশেষ করে ঈশান কিষান যেভাবে কামব্যাক করেছেন,তাতে শনিবার টি-২০ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ভারতের প্রথম এগারোয় স্যামসনের পরিবর্তে তিনিই খেলবেন, একপ্রকার নিশ্চিত।অভিষেক শর্মার সঙ্গে ওপেনে আসতে চলেছেন ঈশান। আর ফিট হয়ে ওঠা তিলক ভার্মা হয়তো খেলবেন সঞ্জুর জায়গায়। সিরিজের পঞ্চম তথা শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৪৬ রানে হারানোর দিনে তেমন ইঙ্গিতই মিলল। সঞ্জু নন, কিউয়ি ইনিংসে ঈশানই কিপিং করলেন যে!বাস্তবতা হল, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে মাত্র ৪৬ করা সঞ্জু এই মুহূর্তে চূড়ান্ত অফফর্মে। এমন নড়বড়ে দেখানো কাউকে নিয়ে খেতাব ধরে রাখার লড়াইয়ে নামা বোকামি। আর এদিনের তাণ্ডবের পর ঈশানকে না খেলানো অপরাধই। ঝাড়খণ্ডের বাঁ-হাতির তাণ্ডবেই যে এদিন চুরমার ব্ল্যাক ক্যাপসরা। পরপর দুটো ছক্কা হাঁকিয়ে এই ফরম্যাটে দেশের জার্সিতে প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন ২৭ বছর বয়সি। ২৮ বলে পঞ্চাশের পর ৪২ বলে একশো, বাঁ-হাতির সামনে অসহায় দেখাল মিচেল স্যান্টনার, ঈশ সোধিদের। ১০টা ছক্কা আর ছ’টি বাউন্ডারিতে সাজানো ইনিংসে ঈশান কার্যত ছেলেখেলা করলেন তাঁদের নিয়ে।
শুরুটা যদিও অভিষেক (১৬ বলে ৩০) করেছিলেন। কিন্তু তিনি বেশিক্ষণ থাকেননি। এরপর তৃতীয় উইকেটে ৫৮ বলে ওঠে ১৩৭। ঝড় তোলেন ক্যাপ্টেন সূর্যকুমার যাদবও (৩০ বলে ৬৩)। এই সিরিজে এই নিয়ে তিনবার পঞ্চাশ টপকালেন ‘স্কাই’। নিঃসন্দেহে যা ইতিবাচক লক্ষণ। সিরিজের সেরাও হয়েছেন তিনি। অবশ্য সূর্য ফিরলেও ছন্দ বজায় রাখেন হার্দিক পান্ডিয়া (১৭ বলে ৪২)। ভারত শেষ পর্যন্ত থামে ২৭১ রানে, যা এই ঘরানায় টিম ইন্ডিয়ার তৃতীয় সর্বাধিক। মোট ২৩টি ছক্কা হাঁকান ব্যাটাররা। বিশ্বকাপের আগে বাকি দলগুলোর কাছে তা যেন হুঁশিয়ারিই। ম্যাচে ৩৬ ছক্কা। টি-২০ ফরম্যাটে যা রেকর্ড। বোলিং নিয়ে যদিও কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকছেই। যশপ্রীত বুমরাহও আগের মতো বিধ্বংসী নন। দিলেন ৫৮ রান। ফিন অ্যালেন (৩৮ বলে ৮০) বিগ ব্যাশ লিগের ফর্মে রীতিমতো তুলে তুলে মারলেন। ঈশান বার দুয়েক স্টাম্পিং মিস করলেন, বলও গলালেন। সহজ ক্যাচ পড়ল অভিষেকের হাত থেকেও। তবে অর্শদীপ সিং পাঁচ উইকেট নিলেন। অক্ষর প্যাটেলও ভরসা জোগালেন। কিন্তু রোজ রোজ পকেটে এত বিশাল পুঁজি থাকবে না!তখন কি হবে সে চিন্তাও করতে হবে ভারতীয় থিঙ্কট্যাঙ্ককে।








