ফের এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যুর অভিযোগ
নতুন পয়গাম, ফারাক্কা: ফের এসআইআর হিয়ারিং ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ঘিরে মানসিক আতঙ্কের মধ্যেই মৃত্যুর অভিযোগ উঠে এল মুর্শিদাবাদের ফারাক্কা বিধানসভা এলাকা থেকে। ঘটনাটি ঘটেছে কাঞ্চনতলা অঞ্চলের শুলিতলা গ্রামে। মৃতের নাম সাকির শেখ (আনুমানিক বয়স ৫৫ বছর)। তিনি ছিলেন একটি চরম দরিদ্র পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাকির শেখের সংসারে রয়েছেন চার কন্যা ও এক পুত্র। বড় মেয়েটি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব একাই বহন করতেন তিনি। শনিবার সকালে তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর খবরে গোটা পরিবার কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় চলতে থাকা SIR হিয়ারিং ও নোটিশ সংক্রান্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রবল মানসিক চাপে ভুগছিলেন সাকির শেখ। শুলিতলা গ্রামের বিএলও-২ জাহিরুল ইসলাম জানান, এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার পর থেকে হিয়ারিং নোটিশ নিয়ে প্রায়ই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়তেন সাকির শেখ। নোটিশ হাতে পেলেই নানা প্রশ্ন করতেন এবং তাঁর চোখেমুখে সবসময় আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট ছিল।
জাহিরুল ইসলাম বলেন, “আজ সকালে হঠাৎ তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে আমি সম্পূর্ণ হতভম্ব হয়ে যাই। উনি যে ভয়ানক মানসিক চাপে ছিলেন, সেটা কাছ থেকে দেখেছি।” অভিযোগ উঠেছে, কিছুদিন আগেই চরম আর্থিক সংকটে পড়ে নিজের ভিটেমাটি বিক্রি করতে বাধ্য হন সাকির শেখ। পরিবারের দাবি, স্থানীয় এক প্রোমোটার বাজারদরের তুলনায় অনেক কম দামে জমিটি কিনে নেয় এবং এখনও প্রায় ৪০ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটার হিয়ারিং-এর আতঙ্ক, জমির বকেয়া টাকা না পাওয়ার দুশ্চিন্তা, পাঁচ সন্তানের ভবিষ্যৎ– বিশেষ করে প্রতিবন্ধী কন্যার চিকিৎসা ও দেখভালের চিন্তা; সব মিলিয়ে প্রবল মানসিক চাপে ভেঙে পড়েছিলেন সাকির শেখ। এই মানসিক যন্ত্রণাই তাঁর অকাল মৃত্যুর কারণ বলে অভিযোগ পরিবারের। বর্তমানে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সন্তানদের পড়াশোনা, প্রতিবন্ধী মেয়ের চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ সবকিছু নিয়েই গভীর দুশ্চিন্তায় তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহানুভূতি ও সহযোগিতার কাতর আবেদন জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।








