রেজিনগরে বিপুল জনসমাবেশ, এক মঞ্চে এসডিপিআই-মিম
নিজস্ব সংবাদদাতা, নতুন পয়গাম: মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ঘিরে রাজনৈতিক মহলে এখন তুমুল আলোচনা। বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের ডাকে আয়োজিত জনসভা যে অভূতপূর্ব জনসমাগমের সাক্ষী থেকেছে, তা চোখ এড়ায়নি কারও। শনিবার সকাল থেকেই রেজিনগর ও সংলগ্ন এলাকা জুড়ে মানুষের ঢল নামে। সভাস্থলের ধারণক্ষমতা ছাপিয়ে ভিড় ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের রাস্তায়, কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয় গোটা এলাকা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সমাবেশ নিছক কোনও কর্মসূচি নয়; বরং শক্তি প্রদর্শনের এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। বিশেষ করে সভার মঞ্চে এসডিপিআই ও মিমের রাজ্যস্তরের শীর্ষ নেতৃত্বের একসঙ্গে উপস্থিতি আলাদা মাত্রা যোগ করেছে এই জনসভায়। জনতা উন্নয়ন পার্টিকে সঙ্গে নিয়ে তিনটি রাজনৈতিক শক্তির একই মঞ্চে অবস্থান স্বাভাবিকভাবেই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সম্ভাবনা উসকে দিচ্ছে।
যদিও সভা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও জোট বা নির্বাচনী সমঝোতার ঘোষণা করা হয়নি, তবু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ একে নিছক কাকতালীয় বলে মানতে নারাজ। তাঁদের মতে, এই ‘মঞ্চ ভাগাভাগি’ ভবিষ্যতের বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিকল্পনার ইঙ্গিত হতে পারে। সভামঞ্চ থেকে বিধায়ক হুমায়ুন কবির তাঁর বক্তব্যে বারবার তুলে ধরেন ‘অধিকার আদায়ের লড়াই’, ‘বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি নির্মাণ’ এবং ‘দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন’-এর দাবি। তাঁর বক্তৃতায় শাসকদলের প্রতি অসন্তোষের সুর স্পষ্ট ছিল বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। কর্মী-সমর্থকদের সংগঠিত উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাস সেই বার্তাকেই আরও জোরালো করেছে।
হুমায়ূনের ডাকে এদিনের মহাসমাবেশে উপস্থিত ছিলেন এসডিপিআই এর রাজ্য সভাপতি হাকিকুল ইসলাম, মিমের রাজ্য সভাপতি ইমরান সোলাঙ্কি, আজাদ সমাজ পার্টির রাজ্য দায়িত্বশীল ইমতিয়াজ আহমেদ মোল্লা প্রমুখ নেতৃত্ব।
উল্লেখ্য, মুর্শিদাবাদ দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জনঅসন্তোষ, স্থানীয় নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন এবং বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির খোঁজ- এই সব মিলিয়ে ভোটব্যাঙ্কে পরিবর্তনের সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটের ক্ষেত্রে এই নতুন মেরুকরণ কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রেজিনগরের এই জনসভা হয়তো কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ঘোষণা নয়, তবে এটি এক ধরনের ‘ট্রেলার’। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই সমীকরণ আরও স্পষ্ট ও সংগঠিত রূপ নিতে পারে। সেই ক্ষেত্রে শাসকদলের সামনে বড়সড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে, রেজিনগরের মাটি শুধু একটি জনসভার সাক্ষী রইল না– বরং বাংলার রাজনীতিতে সম্ভাব্য নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিতও দিল। এই রাজনৈতিক সমীকরণ কতদূর এগোয় এবং শেষ পর্যন্ত ভোটের অঙ্কে তার কী প্রভাব পড়ে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।








