এসআইআর চক্রান্তের বিরুদ্ধে মালদায় তৃণমূল কংগ্রেস সংখ্যালঘু সেলের সাংগঠনিক আলোচনা সভা
নতুন পয়গাম, নিজস্ব প্রতিবেদক, মালদহ: এসআইআর চক্রান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মালদহ তৃণমূল কংগ্রেস সংখ্যালঘু সেলের উদ্যোগে এক বিরাট সাংগঠনিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হলো। পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস মাইনোরিটি সেলের রাজ্য সভাপতি তথা ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ হোসেনের নির্দেশে এবং মালদহ জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি নজরুল ইসলামের উপস্থিতিতে এই সভার আয়োজন করা হয়। এদিন মালদহ জেলার পাকুয়াহাট এলাকায় বামনগোলা মাইনোরিটি সেলের সভাপতি আব্দুল লতিফ সরকারের ডাকে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বামনগোলা ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি দ্বিজবরসহ স্থানীয় স্তরের একাধিক তৃণমূল কংগ্রেস নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। সভাস্থলে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এসআইআর ইস্যুতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ ও ক্ষোভেরই প্রতিফলন এই জনসমাগম।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি নজরুল ইসলাম নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি নির্বাচন কমিশনকে “নির্যাতন কমিশন” বলে আখ্যায়িত করে অভিযোগ করেন, এসআইআর-এর নামে সাধারণ মানুষকে বিনা কারণে নোটিশ ধরিয়ে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়ার জেরে এলাকার বহু পরিযায়ী খেটে খাওয়া শ্রমিক ভিন রাজ্যে কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন। এসআইআর আতঙ্কে অনেকেই কাজ বন্ধ করে বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে আসছেন, যার ফলে শ্রমিক পরিবারগুলির রোজগার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং গোটা এলাকার আর্থিক পরিস্থিতিও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সমস্ত বৈধ কাগজপত্র ঠিক থাকা সত্ত্বেও বহু পরিবারকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সমস্যার মুখে ফেলা হচ্ছে। বিশেষ করে দুই বা তিন সন্তান থাকা পরিবারপ্রধানদের ছয় সন্তানের পিতা হিসেবে দেখিয়ে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অন্যায়। এই ধরনের ভুল তথ্যের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও আতঙ্কিত করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করেই বিজেপি এই ধরনের চক্রান্ত চালাচ্ছে এবং এর মূল উদ্দেশ্য হল সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক মানুষের ভোটাধিকার খর্ব করা।
সভায় উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও একই সুরে এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁরা বলেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে যদি সাধারণ মানুষের ওপর নিপীড়ন চালানো হয়, তবে তা গণতন্ত্রের মূল চেতনার পরিপন্থী। তৃণমূল কংগ্রেস বরাবরই মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার পক্ষে রয়েছে এবং এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দল ভবিষ্যতেও আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে তাঁরা জানান। বক্তব্যের শেষে জেলা সভাপতি নজরুল ইসলাম কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, একজনও বৈধ ভোটারের নাম যদি ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে, তবে নির্বাচন কমিশনকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া হবে। সভা থেকে এসআইআর-এর নামে সাধারণ মানুষের ওপর নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, রাজ্যজুড়ে এই আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থে তৃণমূল কংগ্রেস শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে।








