চতুর্থ টি-টোয়েন্টি, দলে আসতে পারেন হর্ষিত, অক্ষর প্যাটেলরা
স্টাফ রিপোর্টার: সিরিজ আগেই পকেটস্থ হয়ে গেছে। এখন লক্ষ্য হোয়াইট ওয়াশের। বছর দেড়েক আগে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজে নিউজিল্যান্ডের কাছে ০-৩ হোয়াইটওয়াশ হওয়ার ঘা এখনও দগদগে। এমনকি সদ্য সমাপ্ত ওডিআই সিরিজেও ভারতকে হারিয়েছে কিউয়িরা। কিন্তু পাঁচ ম্যাচের টি-২০ সিরিজ ইতিমধ্যেই টিম ইন্ডিয়ার পকেটে। সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে সফরকারী দলকে দুরমুশ করেছে ভারত। সামনেই কুড়ি-বিশের বিশ্বকাপ। তার আগে এমন দাপট গতবারের চ্যাম্পিয়নদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে কয়েকগুণ। পাশাপাশি, কিউয়িদের ৫-০ হারানোর আশাও জাগিয়ে তুলছে। এই আবহেই বুধবার সিরিজের চতুর্থ ম্যাচ সুমুদ্র ও পাহাড় ঘেরা ছবির মতো সুন্দর বিশাখাপত্তনমে। এটা ঘটনা যে, অভিষেক শর্মা, ঈশান কিষান ও সূর্য— তিন ব্যাটারের ধুমধাড়াক্কায় ব্ল্যাক ক্যাপসদের পরিত্রাহি দশা। ২৭১.৪২ স্ট্রাইক রেটে অভিষেকের ব্যাটে এসেছে ১৫২ রান। ১৩টি ছক্কা মেরেছেন তিনি। তিলক ভার্মার চোটের কারণে প্রথম এগারোয় সুযোগ পাওয়া ঈশানের স্ট্রাইক রেট ২২৪। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ছন্দে না থাকা সূর্যর রানে ফেরা অবশ্য দলের কাছে বড় স্বস্তি। এই ফরম্যাটে তিনি পরিচিত ‘৩৬০ ডিগ্রি ব্যাটার’ হিসেবে। ‘স্কাই’ ছন্দে থাকায় ভারতীয় ব্যাটিংকে আরও আগ্রাসী দেখাচ্ছে। রায়পুর ও গুয়াহাটিতে রান তাড়া করতে নেমে ঝড়ের গতিতে লক্ষ্যে পৌঁছেছিল ভারত। এই দুই ম্যাচে মোট ৩৬৩ রান চেজ করতে নীল জার্সিধারীরা নিয়েছেন মাত্র ২৫.২ ওভার। যা অবিশ্বাস্য!
তবে প্রদীপের নীচেই থাকে অন্ধকার। ওপেনিং নিয়ে সমস্যা ঠিক তেমনই। সঞ্জু স্যামসন তিন ইনিংসেই ব্যর্থ। ৫.৩৩ গড়ে সংগ্রহ মোটে ১৬ রান। ফলে তাঁর জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠছেই। শুভমান গিলকে ছেঁটে ফেলে টিম ম্যানেজমেন্ট আস্থা রেখেছিল সঞ্জুর উপর। কিন্তু তার মর্যাদা দিতে এখনও পর্যন্ত ব্যর্থ তিনি। ঈশানের ধুন্ধুমার মেজাজ তাঁর পথে কাঁটা আরও ছড়িয়েছে। অনেকেই বলছেন, অভিষেকের সঙ্গে ওপেনিংয়ে আনা হোক ঈশানকে। সেক্ষেত্রে দলে ফিরলে তিলক যথারীতি নামবেন তিনে। কিন্তু সঞ্জুকে এগারোর বাইরে রাখা হবে কিনা, তা পরিষ্কার নয়। এমনও হতে পারে, সিরিজের শেষ দুই টি-২০ ম্যাচেও তাঁকে খেলানো হল ফর্মে ফেরার পথ করে দিতে। অন্যথায়, শুরুতে অভিষেক ও ঈশানের জুটি কেমন হয়, সেটাও দেখে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে এগারোয় সুযোগ পাবেন শ্রেয়স আয়ার। প্রথম তিন ম্যাচে তিনি ডাগআউটে বসেছিলেন। যা খবর, তাতে কিউয়িদের বিরুদ্ধে সিরিজে না থাকলেও তিলক ভার্মা বিশ্বকাপে খেলবেন।
স্পিন বিভাগ নিয়েও কিছুটা উদ্বেগ থাকছে। কুলদীপ যাদব ওভারপ্রতি ৯.৫ রান দিয়েছেন সিরিজে। বরুণ চক্রবর্তীও সেরা ছন্দে নেই। তার উপর অক্ষর প্যাটেলের চোট নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। ওয়াশিংটর সুন্দর আবার চোটের জন্য এই সিরিজেই নেই। পরিবর্ত হিসেবে দলে আসা রবি বিষ্ণোই কিন্তু নিজেকে প্রমাণ করেছেন। পেস আক্রমণে রোটেশন নীতি নিয়েছে ভারত। সবাইকে বিশ্রাম দেওয়া হচ্ছে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে। ফলে বুমরাহকে ফের বিশ্রাম দিয়ে খেলানো হতে পারে অর্শদীপকে। অন্যদিকে চোট সারিয়ে ফেরা অক্ষর প্যাটেল দলে আসতে পারেন হার্দিকের জায়গায় এবং বরুনের জায়গায় হর্ষিত।এখন দেখার গম্ভীর কোন রণনীতি নেন।








