ফের দলিত বাড়িতে খাবেন শাহ-নীতীন, রাঁধুনি কিন্তু ভাড়া করা
নতুন পয়গাম, বর্ধমান: ভোটের সময় সব দলের নেতারাই নানা রকম চমক ও কৌশল নেন। কেউ পায়ে হেঁটে এলাকা পরিক্রমা করেন, কেউ সাইকেল চড়ে ভোট প্রচার করেন, কেউ ঢাক-ঢোল বাজিয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি করজোড়ে ভোট ভিক্ষা করেন। আর বিজেপি নেতারা সাধারণত দলিত, আদিবাসী ও পিছড়েবর্গ বা নিম্নবর্ণের বাড়িতে পাত পেড়ে ভোজ সারেন। এ থেকেই প্রমাণ হয় বিজেপি উচ্চবর্ণের দল। তাই ভোটের সময় তাদের নেতারা দলিত-বান্ধব সাজেন। বাংলায় আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির নতুন সভাপতি নীতীন নবীন।
জানা গিয়েছে ভোটের মুখে বঙ্গ সফরে এসে তাঁরা দুজনেই মধ্যহ্নভোজ করবেন দলিতের বাড়িতে। কিন্তু, ক্যামেরার পিছনে ‘অন্ধকার’-এর খবর ক’জন রাখেন? সূত্রের খবর, দলের দলিত কর্মীদের বাড়িতে দিল্লির শীর্ষ গেরুয়া নেতারা খাবেন ঠিকই, কিন্তু রান্না করবেন ভাড়া করা রাঁধুনি! ইতিমধ্যে জেলা সভাপতিদের কাছে একটি তালিকা এসেছে। সেখানে কোন নেতা কবে আসবেন, কোথায় খাবেন, কোন দলিত বা তপশিলি, আদিবাসী কর্মীর বাড়িতে খাবেন, সব তাতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে। দিল্লির নেতারা আসার অনেক আগে ওই দলিত বাড়িতে বিশেষ রাঁধুনির দল চলে আসবেন। তারা তৈরি করবেন নিরামিষ হরেক রকম রেসিপি। এই রাঁধুনিরা কিন্তু দলিত নন। তারা রান্না করে চলে যাবার পর বাড়ির মেয়েরা সেইসব রকমারি পদ সাজিয়ে দেবেন থালায় কিংবা কলাপাতায়। হাঁটুমোলা হয়ে বসে তা খাবেন বিজেপি নেতারা। তারপর সেই দলিত-বান্ধব ছবি ও ভিডিয়ো ছড়িয়ে যাবে মিডিয়া থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
তা থেকে বিজেপি নেতাদের দলিত-প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে পড়বে বাংলার গ্রামে-গঞ্জে। অথচ, দলিত বাড়ির গৃহবধূর হাতের রান্না তাঁরা মুখে তুলবেন না। তৃণমূল কংগ্রেস এর সমালোচনায় বলেছে, ভোটের সময় লোকদেখানো দলিত, আদিবাসীদের বাড়িতে লোকদেখানো খেতে যাবেন বিজেপি নেতারা। তারা কিন্তু দলিতদের হাতের রান্না করা খাবার খাবেন না। এই হল বিজেপির জাতপাতের রাজনীতি বা উঁচু-নিচু বর্ণের রাজনীতি। আসলে তারা তপশিলি, আদিবাসী ও দলিত বিরোধী। তাই তারা ভোটের মুখে নিম্নবর্ণের মানুষের বাড়িতে খেতে যায়। তৃণমূলের নেতাদের এই অভিনয় করতে হয় না।








