BREAKING:
হাটজনবাজার ওভারব্রিজ ঘিরে বিতর্ক, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে স্কুল পড়ুয়াদের উপস্থিতি ও উদ্বোধনের আগেই যান চলাচলের অভিযোগ এসআইআর আতঙ্কে আবারও প্রাণহানি, রামপুরহাটে আত্মঘাতী যুবক স্ত্রীকে লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির নোটিস, করিমপুরে আতঙ্কে আত্মঘাতী গৃহ শিক্ষক, নির্বাচন কমিশনকেই দায়ী করল পরিবার বাংলাদেশকে ‘ডেডলাইন’ আইসিসির ডব্লুপিএল: ৫ ম্যাচে ৫ জয়, প্লে অপে বেঙ্গালুরু ছুটছে রয়্যাল সিটির অশ্বমেধের ঘোড়া, আজ পরীক্ষা ব্যারেটোর দলের নাটকীয় জয় সেনেগালের! রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ মেহতাব, বিএসএলে দল তুললো সুন্দরবন লজ্জার ইতিহাস গড়ে নিউজিল্যান্ডের কাছে হার ভারতের, দাম পেল না কোহলির শতরান ইন্দোরে আজ মরণবাঁচন ম্যাচে দলে হয়তো অর্শদীপ সিং ভারত-বাংলাদেশ ছোটদের ম্যাচেও ‘হ্যান্ডশেক-বিতর্ক’। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে চমকের নাম শ্রেয়স, বিষ্ণোই বয়সভিত্তিক লিগে জয় মোহনবাগানের দুই টিমের,পয়েন্ট নষ্ট লাল হলুদের ছোটদের নতুন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল গবেষণা ও সত্যের সন্ধানে কলকাতায় ইতিহাস সম্মেলন বিজেপি-শিণ্ডে দর কষাকষি, কাউন্সিলররা হোটেলবন্দি গ্রেটার মুম্বইয়ের মেয়র পদ আড়াই বছর করে ভাগাভাগি হবে? কেন্দ্রের দাবি, মূল্যবৃদ্ধি মাত্র ১ শতাংশ রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সমীক্ষায় অস্বস্তিতে কেন্দ্র সরকার শংকরাচার্যকে পুণ্যস্নানে বাধা, সাধুদের প্রহার, প্রয়াগরাজে ধু্ন্ধুমারকাণ্ড মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদকুলি থেকে মমতা পুরভোটের পর মহারাষ্ট্রে রিসর্ট রাজনীতি! ঘোড়া কেনাবেচার ভয়ে জয়ীরা হোটেল-বন্দি প্রসঙ্গ: বাংলায় মুসলমানদের অবদান আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে জামাআতের সেমিনার ‘বিদ্রোহী’ কবিতার প্রথম ইংরেজি অনুবাদ প্রসঙ্গে ‘দিল্লির জল্লাদদের কাছে মাথা নত নয়’ সিঙ্গুরের জবাব চোপড়া থেকে দিলেন অভিষেক সিঙ্গুরে শিল্প নিয়ে নীরব মোদি ট্রাম্প কালপ্রিট: খামেনেয়ি জ্যোতি বসু: কিছু অজানা কথা (৮ জুলাই ১৯১৪–১৭ জানুয়ারি ২০১০) গোয়েবলসের ফর্মূলা শিক্ষায় ইসলামের ঐতিহাসিক অবদান ও বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা শিক্ষা কি কেবল চাকরির সিঁড়ি? প্রতিরক্ষা খাতের নিয়ন্ত্রণ কি বিদেশের হাতে? এফডিআই-এর সীমা বাড়িয়ে ঝুঁকির মুখে কেন্দ্র মালদা-মুর্শিদাবাদে দাঙ্গার কারণ অনুপ্রবেশ: মোদি ডিএ মামলার রায় এত প্রলম্বিত হচ্ছে কেন? আল আমীন মিশন পুনর্মিলন উৎসব ২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলের উন্নয়নের পাঁচালী, চুঁচুড়ায় সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রীর সভার আগেই পোস্টার পড়ল, দাবি নতুন রেল স্টেশনের কালিয়াচক কলেজের উদ্যোগে ‘ফিট ইন্ডিয়া ম্যারাথন রেস’, রাজ্য ও ভিনরাজ্যের প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণ ৮০ জনেরও বেশি বিশেষভাবে সক্ষম মানুষের অভিনয়ে ব্যতিক্রমী চলচ্চিত্র ওয়ান লিটল ফিঙ্গার কালিয়াচক বনি চাইল্ড মিশনে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা: উচ্ছ্বাসে মাতলো ছাত্রছাত্রীরা টিটোয়েন্টি থেকেও ছিটকে গেলেন সুন্দর, বিশ্বকাপেও অনিশ্চিত ম্যাচ জিতলেও, হতাশ করলো বৈভবরা বিতর্কিত নাজমুল ইসলামকে বহিষ্কার করলো বিসিবি সপ্তগ্রামের কেষ্টপুরে ৫১৯ বছরের অভিনব মাছের মেলা, ভোর থেকেই ক্রেতাদের ভিড়ে জমজমাট ভুল বিধানসভা কেন্দ্রের উল্লেখে এসআইআর নোটিশ ধূপগুড়ি রেলওয়ে স্টেশনে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের স্টপেজের দাবিত অবস্থান বিক্ষোভ! খুদেদের উদ্যোগে অভিনব ফুড ফেস্টিভ্যাল, উৎসবে মাতলো তারঘেরা এস পি প্রাইমারি স্কুল জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিবাদ কর্মসূচি, শাসক দলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ হুমায়ুন কবিরের কান্দিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সভা ইমাম সংগঠনের উদ্যোগে ডেটা অ্যানালিসিস ও এআই বিষয়ক কর্মশালায় নতুন দক্ষতার আলোকপাত এসআইআর নোটিশ ঘিরে উত্তাল মাটিয়া, দিনভর টাকি রোড অবরোধ বয়স মাত্র দশ বছর কিন্তু সাফল্যের নিরিখে সে অনেক বড়দেরও অনুপ্রেরণা  সুন্দরবনের মৈপীঠে অবাধে ম্যানগ্রোভ নিধন চলছে, প্রশাসন নির্বিকার সমুদ্রের জলের স্তর মাপতে গঙ্গাসাগরে ব্যবহার হচ্ছে রিমোট অপারেটেড ভেহিকেল এসআইআর ঘিরে উত্তেজনা ভাঙড়ে, রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে হেনস্থার অভিযোগ মকর সংক্রান্তিতে গঙ্গাসাগরে রেকর্ড জনসমাগম নলহাটি ২নং ব্লকে SIR তালিকায় ৩১ হাজার গরমিল আজ শুরু ছোটদের বিশ্বকাপ, প্রথম দিনেই মাঠে নামছে ভৈবরা ব্যর্থ বিরাট, ব্যর্থ ভারতও; কাজে এল না রাহুলের দুরন্ত সেঞ্চুরি শীর্ষে বিরাট, ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে ড্যারিল মিচেল ইন্দাসে আনুমানিক ৪০০ বছরের পুরানো শ্রী শ্রী বাঁকুড়া রায়ের কুড়চি মেলার শুভ উদ্বোধন ভাঙড়ে আইএসএফ-তৃণমূল সংঘর্ষ, আহত উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী কালিয়াচক কলেজের উদ্যোগে ‘ফিট ইন্ডিয়া ম্যারাথন রান আরামবাগে পঞ্চদশ বর্ষের গ্রন্থমেলা ও নাট্যোৎসব ২০২৬ বেশ জমে উঠেছে শীতের রাতে ভরসা হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ কর্মসংস্থান ও শিল্পে ব্যর্থতার অভিযোগ, পূর্ব বর্ধমানে তৃণমূলকে আক্রমণ অগ্নিমিত্রা পলের কালিয়াচকে শীতবস্ত্র বিতরণ: দুঃস্থদের পাশে সুজাপুরের আব্দুল হান্নান বিলুপ্তির পথে কালিয়াচকের শেরশাহি ও মোথাবাড়ির বাবলা এলাকার ঐতিহ্যবাহী তাত শিল্প ছবি এঁকে দিল্লিযাত্রা কৃতি ছাত্র ইমরানের পৌষের শেষে ফসল ঘরে, ধর্ম ও সংস্কৃতির মিলনে গ্রামবাংলায় মকর সংক্রান্তির উৎসব শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে নায়ক রাজা। হরমনপ্রীতের দুরন্ত ব্যাটিংয়ে উড়ে গেল দিল্লি ক্যাপিটালস আজ জিতলেই সিরিজ ভারতের, বেগ দিতে মরিয়া নিউজিল্যান্ডও বাংলাদেশের দাবিকে নস্যাৎ করলো আইসিসি বার্সার কাছে হেরে চাকরি হারালেন রিয়াল কোচ জাভি আলান্সো জগন্নাথ ধাম শুধুমাত্র পুরীতে দিঘায় নয়, দাবি পুরীর শঙ্করাচার্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্ মুহুর্তে গেরুয়া শিবিরে ভাঙ্গন ধরালো ঘাসফুল শিবির খাদ্যের লোভে লোকালয়ে হাতির হানা, আতঙ্ক এলাকা জুড়ে চাঁচল সিদ্বেশ্বরী ইনস্টিটিউশনে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার (চতুর্থ সেমেস্টার) প্রস্তুতি সভা বিভিন্ন দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিল দশটি পরিবার মেলেনি লক্ষীর ভান্ডার, বার্ধক্য ভাতা, অবিবাহিত বৃদ্ধার নতুন ঘর বানিয়ে দিল আনসারী, সাগর, সুজনরা ভোটার তালিকায় সন্দেহভাজন ভোটার, নাম বাদ দেওয়ার দাবিতে চুঁচুড়ায় বিজেপির বিক্ষোভ চুঁচুড়ার একটি এসআইআর শুনানি কেন্দ্রে এসে ক্ষোভ উগরে দিলেন এক বৃদ্ধা সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রীর সভা, তার আগেই শিল্প চাই বলে ব্যানার পড়ল “সৃজন” এর উদ্যোগে তিন দিনের নাট্য উৎসব ও সংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা রক্তদান ও প্রতিবন্ধীদের কৃত্রিম অঙ্গ প্রতঙ্গ বিতরণ শিবির সুনীতা উদ্যোগে ইরানের সঙ্গে বৈঠকের তোড়জোর চলছে: ট্রাম্প পিঠ চুলকে বিপুল আয়, পেশার নাম ‘স্ক্র্যাচ থেরাপি’ ডিব্রুগড়ে চা জনগোষ্ঠীকে ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবি সন্তান লালন-পালনে করণীয় ও বর্জনীয় নতুন ঠিকানায় প্রধানমন্ত্রীর দফতর সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দিয়ে গাজাবাসীকে পাঠানোর ছক নেতানিয়াহুর এআই নিয়ে মধ্যমপন্থার পক্ষে কেন্দ্র নীতীশের হিজাব সরানো আসলে কী বলছে রাষ্ট্রকে? ছাত্র সংগঠন এসআইও-র উদ্যোগে রানীনগর-২ ব্লকে মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রস্তুতি শিবির বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যু ছেলের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৪ তম জন্মদিন পালন কবি রমেন্দ্র কুমার আচার্য্যচৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার পেলেন কবি ও গল্পকার মানসী কবিরাজ পড়ুয়া ও শিক্ষক সংকটে ধুঁকছে সরকারি বিদ্যালয় ধর্মের মেরুকরণ নয়, মানবিক ভারত গড়ার আহ্বান স্বামীজির জন্মজয়ন্তীতে যাদবপুর (বাঘাযতীন) স্টেশনে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই একাধিক দোকান

মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদকুলি থেকে মমতা

প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, দুপুর ১২:৫৯ | আপডেট: ২০ জানুয়ারী ২০২৬, দুপুর ১:১৪
৫৩২৪ বর্গকিমি. আয়তনবিশিষ্ট মুর্শিদাবাদ এই মুহূর্তে দেশের নবম ঘনবসতিপূর্ণ জেলা। ২০২৫ সালে জনসংখ্যা আনুমানিক ৯০ লাখ। ১৯০১ সালে মুর্শিদাবাদ জেলার জনসংখ্যা ছিল ১৩ লক্ষ ২৩ হাজার ৪৭৯। সর্বশেষ ২০১১ সালের সেন্সাস অনুয়ায়ী ৭১ লক্ষ ৩ হাজার ৮০৭। ২০১১ আদমশুমারি অনুসারে এই জেলার জনসংখ্যার ৩৩.২১ শতাংশ হিন্দু ও ৬৬.২৭ শতাংশ মুসলমান, ১২.৯৮ শতাংশ তপশিলি জাতি এবং ১.২০ শতাংশ তপশিলি উপজাতি। এই জেলায় রয়েছে তিনটি লোকসভা, ২২টি বিধানসভা, আটটি পৌরসভা, পাঁচটি মহকুমা ও ২৬টি ব্লক।

মজিবুর রহমান:মুর্শিদাবাদ সম্পর্কে দুটি পরস্পর বিপরীতমুখী তথ্য রয়েছে। প্রথমটি হল, মুর্শিদাবাদ একসময় বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার সমৃদ্ধশালী রাজধানী ছিল। দ্বিতীয়টি হল, মুর্শিদাবাদ স্বাধীন ভারতের সবচেয়ে পশ্চাৎপদ জেলাগুলোর অন্যতম। অতীতের গৌরব আর বর্তমানের গ্লানি নিয়ে মুর্শিদাবাদের পথ পরিক্রমা অব্যাহত রয়েছে। তবে গ্লানির পরিমাণ কমিয়ে গৌরবের ঘটনা বৃদ্ধির লড়াই মুর্শিদাবাদবাসী জারি রেখেছে।
‘মুর্শিদাবাদ’ নামের উদ্ভব ১৭০৪ সালে নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ-র নামানুসারে। মুর্শিদাবাদের পূর্বনাম ছিল ‘মুকসুদাবাদ’ বা ‘মুখসুদাবাদ’; আর মুর্শিদকুলি খাঁ-র পূর্বনাম ছিল করতলব খাঁ (১৬৬০-১৭২৭)। করতলব খাঁ ১৭০৪ সালে বাংলার দেওয়ানখানা ঢাকা থেকে ভাগীরথীর তীরবর্তী মুকসুদাবাদে স্থানান্তর করেন। একটি বিস্তীর্ণ জনপদের প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র হওয়ার কারণে মুর্শিদাবাদে রাজ-কর্মচারী, অভিজাত ও বণিক শ্রেণির বসতি বৃদ্ধি পায়। উপমহাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং ইউরোপ থেকে বহু মানুষ বাণিজ্য করতে এখানে আসেন। ফলে, মুর্শিদাবাদ একটি কসমোপলিটন শহরে পরিণত হয়। নবাবি আমলে মুর্শিদাবাদের আর্থিক বিকাশ ছিল চোখে পড়ার মতো। নবাবদের কোষাগার বিপুল ধন-সম্পদে পরিপূর্ণ থাকত। জগৎশেঠ, উমিচাঁদ ও খোজা ওয়াজিদদের মতো বণিকরাজরা সমগ্ৰ এশিয়া মহাদেশের অর্থনীতির অন্যতম নিয়ন্ত্রক ছিলেন। লর্ড ক্লাইভের বর্ণনা অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদ তখন লন্ডনের মতোই উন্নত ছিল। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশিতে নবাবের সেনাবাহিনীর সঙ্গে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনাবাহিনীর সংঘটিত যুদ্ধে নবাবের বাহিনী পরাজিত হয়। সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় তথা রবার্ট ক্লাইভের বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলা তথা ভারতীয় উপমহাদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আর্থিক ও প্রশাসনিক আধিপত্যের সূচনা হয়।
১৭৭২ সালে গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় স্থানান্তর করেন। তবে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অথবা ব্রিটিশ শাসনের অধীনে মুর্শিদাবাদের নবাবদের স্বাধীনতা না থাকলেও তাঁদের শাসনাধিকার পুরোপুরি কেড়ে নেওয়া হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, ১৯৭১ সালে ২৬তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে ‘রাজন্য ভাতা’ বিলোপ পর্যন্ত খাতা-কলমে কেউ না কেউ ‘নবাব’ থেকেছেন।
উপমহাদেশে বিদেশি শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শনে মুর্শিদাবাদ কখনও পিছিয়ে থাকেনি। ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ প্রবর্তনের বিরুদ্ধে রেশম চাষিদের বিদ্রোহ (১৭৯৩), ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ (১৭৬০-১৮০০), সাঁওতাল বিদ্রোহ (১৮৫৫), সিপাহী বিদ্রোহ (১৮৫৭), নীল বিদ্রোহ (১৮৫৯-৬২), বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশী আন্দোলন (১৯০৫-১১), অসহযোগ আন্দোলন (১৯২০-২২) ও ভারত ছাড় আন্দোলনে (১৯৪২) মুর্শিদাবাদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্ৰহণ থেকেছে। ১৯৪৭ সালের ১৪-১৫ আগস্ট ভারত ভাগ ও স্বাধীনতা অর্জনের মুহূর্তে মুর্শিদাবাদকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে ১৮ আগস্ট মুর্শিদাবাদ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য তথা ভারত রাষ্ট্রের একটি জেলা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
ভারতের সংসদীয় রাজনীতিতে মুর্শিদাবাদ জেলার একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। বহু বছরের সাংসদ ত্রিদিব চৌধুরী (১৯১১-৯৭) আরএসপি-র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী ছিলেন। এই জেলার ভূমিপুত্র এ.কে.এম জাকারিয়া ও সৈয়দ বদরুদ্দোজা কলকাতার মেয়র ছিলেন যথাক্রমে ১৯৩৮-৩৯ ও ১৯৪৩-৪৪ সালে। ১৯৯১ সালে ‘ধর্মস্থান আইন’ প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন জঙ্গিপুরের সাংসদ জয়নাল আবেদীন। জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন প্রণব মুখার্জী, যিনি বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন এবং ২০১২-১৭ দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। অধীররঞ্জন চৌধুরী রেল প্রতিমন্ত্রী ও লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতাছিলেন। ১৯৭২-৭৭ এরাজ্যে সিদ্ধার্থ শংকর রায় সরকারে সবচেয়ে প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন লালগোলার আব্দুস সাত্তার।
৫৩২৪ বর্গকিমি. আয়তনবিশিষ্ট মুর্শিদাবাদ এই মুহূর্তে দেশের নবম ঘনবসতিপূর্ণ জেলা। ২০২৫ সালে জনসংখ্যা আনুমানিক ৯০ লাখ। ১৯০১ সালে মুর্শিদাবাদ জেলার জনসংখ্যা ছিল ১৩ লক্ষ ২৩ হাজার ৪৭৯। সর্বশেষ ২০১১ সালের সেন্সাস অনুয়ায়ী ৭১ লক্ষ ৩ হাজার ৮০৭। ২০১১ আদমশুমারি অনুসারে এই জেলার জনসংখ্যার ৩৩.২১ শতাংশ হিন্দু ও ৬৬.২৭ শতাংশ মুসলমান, ১২.৯৮ শতাংশ তপশিলি জাতি এবং ১.২০ শতাংশ তপশিলি উপজাতি। এই জেলায় রয়েছে তিনটি লোকসভা, ২২টি বিধানসভা, আটটি পৌরসভা, পাঁচটি মহকুমা ও ২৬টি ব্লক।
মুর্শিদাবাদ জেলা কৃষিপ্রধান। বৃটিশ আমলে কয়েকটি চিনিকল স্থাপিত হলেও বর্তমানে সেগুলো অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে। ১৯৮৬ সালে ফারাক্কায় এবং ২০০৮ সালে সাগরদীঘিতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। জঙ্গিপুর মহকুমা তথা মুর্শিদাবাদ জেলা এই মুহূর্তে রাজ্যের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ বিড়ি উৎপাদন কেন্দ্র। এই জেলার রাজমিস্ত্রিদের দেশব্যাপী খ্যাতি রয়েছে। এখানকার পরিযায়ী শ্রমিকরা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এই জেলার রেশম শিল্প ও কাঁসা শিল্প বিখ্যাত।
মুর্শিদকুলি খাঁ-র আমলে মুর্শিদাবাদ আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত শিক্ষার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল। রানি ভবানীর (১৭৪৮-১৮০৩) পৃষ্ঠপোষকতায় ও অর্থানুকূল্যে বহু অবৈতনিক টোল ও চতুষ্পাঠী স্থাপিত হয়। ব্রিটিশ আমলে খ্রিস্টান মিশনারিরা এই জেলায় বেশ কয়েকটি স্কুল গড়েন। রাজা রামমোহন রায় (১৭৭২-১৮৩৩) বিদ্যাচর্চা করতে মুর্শিদাবাদ আসেন। রাজা কৃষ্ণনাথ রায়ের (১৮২২-৪৪) বিধবা পত্নী রানি স্বর্ণময়ীর (১৮২৭-৯৭) উদ্যোগে ১৮৫৩ সালে স্থাপিত হয় কৃষ্ণনাথ কলেজ স্কুল ও বহরমপুর কলেজ। ১৯০২ সালে বহরমপুর কলেজের নামকরণ হয় কৃষ্ণনাথ কলেজ। ১৯০৯ সালে নবাব ওয়াসেফ আলী মির্জা (১৮৭৫-১৯৫৯) স্থাপন করেন নবাব বাহাদুর ইনস্টিটিউশন।
১৯২৭ সালে স্থাপিত হয় ‘গভর্নমেন্ট কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেক্সটাইল টেকনোলজি’। বর্তমানে এই জেলায় ১০টিরও বেশি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হলপিটাল’। ‘মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়’ স্থাপিত হয় ২০২১ সালে। দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া প্রতিটি ব্লকে এক বা একাধিক সরকারি ডিগ্ৰি কলেজ রয়েছে। প্রায় প্রতিটি পাড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিশু শিক্ষা কেন্দ্র অথবা অঙ্গন ওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিটি গ্ৰাম পঞ্চায়েতে রয়েছে হাইস্কুল। পশ্চিমবঙ্গের ৬১৪টি মাদ্রাসার মধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলাতেই রয়েছে ১০২টি। বিগত ১০-১২ বছরে রাজ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রচুর সরকারি প্রকল্প চালু করা হয়েছে। তবে এগুলো মুর্শিদাবাদ জেলায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাঙ্গনে ধরে রাখতে খুব একটা সফল হয়নি। এজন্য এই জেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে না। নাবালিকা বিবাহে রাশ টানা যায়নি। K2 কন্যাশ্রী প্রাপকদের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ বিবাহিতা। মুর্শিদাবাদ জেলায় সাক্ষরতার হার ছিল ১৯৫১ সালে ১২.৬৮ শতাংশ, ২০১১ সালে ৬৬.৫৯ শতাংশ। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে রাজ্যে সাক্ষরতার হার ছিল ৭৬.২৬ শতাংশ।
উর্দুভাষী নবাবদের আমলে মুর্শিদাবাদ জেলায় বাংলা ভাষায় ভালই সাহিত্য সৃষ্টি হত। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-৯৪), মদনমোহন তর্কালঙ্কার (১৮১৭-৫৮), দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-৭৩) প্রমুখ বহু বিশিষ্ট সাহিত্যিক কর্মসূত্রে মুর্শিদাবাদ জেলায় অবস্থান করে জেলার সাহিত্যচর্চাকে সমৃদ্ধ করেন। মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দীর পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯০৭ সালে কাশিমবাজারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সভাপতিত্বে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হয়। মুর্শিদাবাদ জেলার মানুষ আচার্য রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী, সরোজ কুমার রায় চৌধুরী, রেজাউল করিম, মণীশ ঘটক, সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ, শরৎচন্দ্র পণ্ডিত, নিরুপমা দেবী, মহাশ্বেতা দেবী, আবুল বাশার ও নজরুল ইসলাম প্রমুখ বাংলা সাহিত্যের স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব। কবি, ছড়াকার, ছোটগল্পকার, ঔপন্যাসিক, সংবাদপত্রের লেখক, প্রবন্ধকার অথবা মুর্শিদাবাদ জেলার গবেষক হিসেবে এই জেলার অনেকেই দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন, যেমন- বিজয় বন্দ্যোপাধ্যায়, রামপ্রসাদ পাল, অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়নাল আবেদীন, সৌম্যেন্দ্র কুমার গুপ্ত, পুলকেন্দু সিংহ, জগৎবন্ধু বিশ্বাস, কমল কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় ও দীপঙ্কর চক্রবর্তী। এখন ভাল লিখছেন দুলাল কুমার বসু, কাজী আমিনুল ইসলাম, শক্তিনাথ ঝা, খাজিম আহমেদ, সাবিত্রী প্রসাদ গুপ্ত, নিখিল কুমার সরকার, সমীর কুমার ঘোষ, জয়নূল আবেদীন, অরূপ চন্দ্র, কুণাল কান্তি দে, মইনুল হাসান, চন্দ্র প্রকাশ সরকার, প্রকাশ দাস বিশ্বাস ও নীহারুল ইসলাম।
মুর্শিদাবাদ জেলায় অনেক স্থাপত্য রয়েছে, যা পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ নির্মিত কাটরা মসজিদ, নবাব হুমায়ূন জা নির্মিত হাজার দুয়ারী, নবাব মনসুর আলী খান নির্মিত ইমামবাড়া, রাজা ধনপৎ সিং দুগার ও লক্ষ্মীপৎ সিং দুগার নির্মিত নসিপুর কাঠগোলা বাগানবাড়ি, রামশঙ্কর রায় নির্মিত লালগোলা রাজবাড়ি, যা ১৯৮৭ সাল থেকে ‘মুক্ত সংশোধনাগার’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং নিমতিতা রাজবাড়ি, ২০২২ সালে হেরিটেজ ঘোষিত হয়েছে। বাংলার ছোটলাট স্যার জন পিটার গ্ৰ্যান্টের নামানুসারে নির্মিত ‘গ্ৰ্যান্ট হল’, বর্তমানে যা ‘যোগেন্দ্রনারায়ণ মিলনী’ এখনও মুর্শিদাবাদ জেলার অন্যতম প্রধান সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্র।
১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের উৎসস্থল ‘ব্যারাক স্কোয়ার’ মুর্শিদাবাদ জেলার একটি বিশেষ সম্পদ হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৭৫ সালে চালু হওয়া ফারাক্কা ব্যারেজ একটি দর্শনীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব সম্পন্ন নদী বাঁধ। একবিংশ শতকে নির্মিত মতিঝিল পার্ক ও রঘুনাথগঞ্জে ভাগীরথীর তীরে নির্মিত ‘সুভাষদ্বীপ’ অত্যন্ত আকর্ষণীয় পিকনিক স্পট।
মুর্শিদাবাদ জেলায় সম্প্রতি প্রচুর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে উঠেছে। তারা বছরভর সেবামূলক কাজ করছে। বিভিন্নভাবে দুস্থদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপন্ন মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে। সবুজায়নের প্রচারে চারাগাছ বিতরণ করছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে সুন্দর সমাজ গঠনের বার্তা দিচ্ছে। কিছু সংগঠন ব্যাপক সংখ্যায় স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে মুর্শিদাবাদ জেলা তথা গোটা রাজ্যেই সাড়া ফেলে দিয়েছে। জন্মদিবস, বিবাহ ও অন্নপ্রাশনের অনুষ্ঠানেও রক্তদান শিবির অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। সংগঠনগুলো সঙ্কটাপন্ন রোগীদের জন্য রাতবিরেতে সরাসরি হাসপাতালে রক্তদাতা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ জেলার ব্লাড ব্যাংকগুলোতে রক্তের জোগান দিতে দুর্দান্ত কাজ করে চলেছে। শত শত ‘রক্তযোদ্ধা’ শহরে ও গ্ৰামে মানুষের ভরসার পাত্র হয়ে উঠেছেন। মানবদেহের রক্ত সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ করে রক্তদানকে জনপ্রিয় কর্মসূচি করে তুলেছেন তাঁরা।
সাগরদীঘির তরঙ্গ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট, উইনার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ও সাগরদীঘি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রক্তদান আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রক্তদান আন্দোলনে সাগরদীঘি তথা মুর্শিদাবাদ জেলার উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১০-১১ জানুয়ারি, ২০২৬ সাগরদীঘিতে রক্তদাতাদের রাজ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন:

ঋণ-স্বীকার: স্বাধীনোত্তর মুর্শিদাবাদের সমাজ ও সংস্কৃতি / দুলাল কুমার বসু।
(লেখক: প্রধানশিক্ষক, কাবিলপুর হাইস্কুল, মুর্শিদাবাদ)

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder