BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদকুলি থেকে মমতা

প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, দুপুর ১২:৫৯ | আপডেট: ২০ জানুয়ারী ২০২৬, দুপুর ১:১৪
৫৩২৪ বর্গকিমি. আয়তনবিশিষ্ট মুর্শিদাবাদ এই মুহূর্তে দেশের নবম ঘনবসতিপূর্ণ জেলা। ২০২৫ সালে জনসংখ্যা আনুমানিক ৯০ লাখ। ১৯০১ সালে মুর্শিদাবাদ জেলার জনসংখ্যা ছিল ১৩ লক্ষ ২৩ হাজার ৪৭৯। সর্বশেষ ২০১১ সালের সেন্সাস অনুয়ায়ী ৭১ লক্ষ ৩ হাজার ৮০৭। ২০১১ আদমশুমারি অনুসারে এই জেলার জনসংখ্যার ৩৩.২১ শতাংশ হিন্দু ও ৬৬.২৭ শতাংশ মুসলমান, ১২.৯৮ শতাংশ তপশিলি জাতি এবং ১.২০ শতাংশ তপশিলি উপজাতি। এই জেলায় রয়েছে তিনটি লোকসভা, ২২টি বিধানসভা, আটটি পৌরসভা, পাঁচটি মহকুমা ও ২৬টি ব্লক।

মজিবুর রহমান:মুর্শিদাবাদ সম্পর্কে দুটি পরস্পর বিপরীতমুখী তথ্য রয়েছে। প্রথমটি হল, মুর্শিদাবাদ একসময় বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার সমৃদ্ধশালী রাজধানী ছিল। দ্বিতীয়টি হল, মুর্শিদাবাদ স্বাধীন ভারতের সবচেয়ে পশ্চাৎপদ জেলাগুলোর অন্যতম। অতীতের গৌরব আর বর্তমানের গ্লানি নিয়ে মুর্শিদাবাদের পথ পরিক্রমা অব্যাহত রয়েছে। তবে গ্লানির পরিমাণ কমিয়ে গৌরবের ঘটনা বৃদ্ধির লড়াই মুর্শিদাবাদবাসী জারি রেখেছে।
‘মুর্শিদাবাদ’ নামের উদ্ভব ১৭০৪ সালে নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ-র নামানুসারে। মুর্শিদাবাদের পূর্বনাম ছিল ‘মুকসুদাবাদ’ বা ‘মুখসুদাবাদ’; আর মুর্শিদকুলি খাঁ-র পূর্বনাম ছিল করতলব খাঁ (১৬৬০-১৭২৭)। করতলব খাঁ ১৭০৪ সালে বাংলার দেওয়ানখানা ঢাকা থেকে ভাগীরথীর তীরবর্তী মুকসুদাবাদে স্থানান্তর করেন। একটি বিস্তীর্ণ জনপদের প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র হওয়ার কারণে মুর্শিদাবাদে রাজ-কর্মচারী, অভিজাত ও বণিক শ্রেণির বসতি বৃদ্ধি পায়। উপমহাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং ইউরোপ থেকে বহু মানুষ বাণিজ্য করতে এখানে আসেন। ফলে, মুর্শিদাবাদ একটি কসমোপলিটন শহরে পরিণত হয়। নবাবি আমলে মুর্শিদাবাদের আর্থিক বিকাশ ছিল চোখে পড়ার মতো। নবাবদের কোষাগার বিপুল ধন-সম্পদে পরিপূর্ণ থাকত। জগৎশেঠ, উমিচাঁদ ও খোজা ওয়াজিদদের মতো বণিকরাজরা সমগ্ৰ এশিয়া মহাদেশের অর্থনীতির অন্যতম নিয়ন্ত্রক ছিলেন। লর্ড ক্লাইভের বর্ণনা অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদ তখন লন্ডনের মতোই উন্নত ছিল। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশিতে নবাবের সেনাবাহিনীর সঙ্গে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনাবাহিনীর সংঘটিত যুদ্ধে নবাবের বাহিনী পরাজিত হয়। সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় তথা রবার্ট ক্লাইভের বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলা তথা ভারতীয় উপমহাদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আর্থিক ও প্রশাসনিক আধিপত্যের সূচনা হয়।
১৭৭২ সালে গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় স্থানান্তর করেন। তবে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অথবা ব্রিটিশ শাসনের অধীনে মুর্শিদাবাদের নবাবদের স্বাধীনতা না থাকলেও তাঁদের শাসনাধিকার পুরোপুরি কেড়ে নেওয়া হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, ১৯৭১ সালে ২৬তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে ‘রাজন্য ভাতা’ বিলোপ পর্যন্ত খাতা-কলমে কেউ না কেউ ‘নবাব’ থেকেছেন।
উপমহাদেশে বিদেশি শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শনে মুর্শিদাবাদ কখনও পিছিয়ে থাকেনি। ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ প্রবর্তনের বিরুদ্ধে রেশম চাষিদের বিদ্রোহ (১৭৯৩), ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ (১৭৬০-১৮০০), সাঁওতাল বিদ্রোহ (১৮৫৫), সিপাহী বিদ্রোহ (১৮৫৭), নীল বিদ্রোহ (১৮৫৯-৬২), বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশী আন্দোলন (১৯০৫-১১), অসহযোগ আন্দোলন (১৯২০-২২) ও ভারত ছাড় আন্দোলনে (১৯৪২) মুর্শিদাবাদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্ৰহণ থেকেছে। ১৯৪৭ সালের ১৪-১৫ আগস্ট ভারত ভাগ ও স্বাধীনতা অর্জনের মুহূর্তে মুর্শিদাবাদকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে ১৮ আগস্ট মুর্শিদাবাদ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য তথা ভারত রাষ্ট্রের একটি জেলা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
ভারতের সংসদীয় রাজনীতিতে মুর্শিদাবাদ জেলার একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। বহু বছরের সাংসদ ত্রিদিব চৌধুরী (১৯১১-৯৭) আরএসপি-র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী ছিলেন। এই জেলার ভূমিপুত্র এ.কে.এম জাকারিয়া ও সৈয়দ বদরুদ্দোজা কলকাতার মেয়র ছিলেন যথাক্রমে ১৯৩৮-৩৯ ও ১৯৪৩-৪৪ সালে। ১৯৯১ সালে ‘ধর্মস্থান আইন’ প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন জঙ্গিপুরের সাংসদ জয়নাল আবেদীন। জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন প্রণব মুখার্জী, যিনি বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন এবং ২০১২-১৭ দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। অধীররঞ্জন চৌধুরী রেল প্রতিমন্ত্রী ও লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতাছিলেন। ১৯৭২-৭৭ এরাজ্যে সিদ্ধার্থ শংকর রায় সরকারে সবচেয়ে প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন লালগোলার আব্দুস সাত্তার।
৫৩২৪ বর্গকিমি. আয়তনবিশিষ্ট মুর্শিদাবাদ এই মুহূর্তে দেশের নবম ঘনবসতিপূর্ণ জেলা। ২০২৫ সালে জনসংখ্যা আনুমানিক ৯০ লাখ। ১৯০১ সালে মুর্শিদাবাদ জেলার জনসংখ্যা ছিল ১৩ লক্ষ ২৩ হাজার ৪৭৯। সর্বশেষ ২০১১ সালের সেন্সাস অনুয়ায়ী ৭১ লক্ষ ৩ হাজার ৮০৭। ২০১১ আদমশুমারি অনুসারে এই জেলার জনসংখ্যার ৩৩.২১ শতাংশ হিন্দু ও ৬৬.২৭ শতাংশ মুসলমান, ১২.৯৮ শতাংশ তপশিলি জাতি এবং ১.২০ শতাংশ তপশিলি উপজাতি। এই জেলায় রয়েছে তিনটি লোকসভা, ২২টি বিধানসভা, আটটি পৌরসভা, পাঁচটি মহকুমা ও ২৬টি ব্লক।
মুর্শিদাবাদ জেলা কৃষিপ্রধান। বৃটিশ আমলে কয়েকটি চিনিকল স্থাপিত হলেও বর্তমানে সেগুলো অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে। ১৯৮৬ সালে ফারাক্কায় এবং ২০০৮ সালে সাগরদীঘিতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। জঙ্গিপুর মহকুমা তথা মুর্শিদাবাদ জেলা এই মুহূর্তে রাজ্যের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ বিড়ি উৎপাদন কেন্দ্র। এই জেলার রাজমিস্ত্রিদের দেশব্যাপী খ্যাতি রয়েছে। এখানকার পরিযায়ী শ্রমিকরা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এই জেলার রেশম শিল্প ও কাঁসা শিল্প বিখ্যাত।
মুর্শিদকুলি খাঁ-র আমলে মুর্শিদাবাদ আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত শিক্ষার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল। রানি ভবানীর (১৭৪৮-১৮০৩) পৃষ্ঠপোষকতায় ও অর্থানুকূল্যে বহু অবৈতনিক টোল ও চতুষ্পাঠী স্থাপিত হয়। ব্রিটিশ আমলে খ্রিস্টান মিশনারিরা এই জেলায় বেশ কয়েকটি স্কুল গড়েন। রাজা রামমোহন রায় (১৭৭২-১৮৩৩) বিদ্যাচর্চা করতে মুর্শিদাবাদ আসেন। রাজা কৃষ্ণনাথ রায়ের (১৮২২-৪৪) বিধবা পত্নী রানি স্বর্ণময়ীর (১৮২৭-৯৭) উদ্যোগে ১৮৫৩ সালে স্থাপিত হয় কৃষ্ণনাথ কলেজ স্কুল ও বহরমপুর কলেজ। ১৯০২ সালে বহরমপুর কলেজের নামকরণ হয় কৃষ্ণনাথ কলেজ। ১৯০৯ সালে নবাব ওয়াসেফ আলী মির্জা (১৮৭৫-১৯৫৯) স্থাপন করেন নবাব বাহাদুর ইনস্টিটিউশন।
১৯২৭ সালে স্থাপিত হয় ‘গভর্নমেন্ট কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেক্সটাইল টেকনোলজি’। বর্তমানে এই জেলায় ১০টিরও বেশি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হলপিটাল’। ‘মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়’ স্থাপিত হয় ২০২১ সালে। দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া প্রতিটি ব্লকে এক বা একাধিক সরকারি ডিগ্ৰি কলেজ রয়েছে। প্রায় প্রতিটি পাড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিশু শিক্ষা কেন্দ্র অথবা অঙ্গন ওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিটি গ্ৰাম পঞ্চায়েতে রয়েছে হাইস্কুল। পশ্চিমবঙ্গের ৬১৪টি মাদ্রাসার মধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলাতেই রয়েছে ১০২টি। বিগত ১০-১২ বছরে রাজ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রচুর সরকারি প্রকল্প চালু করা হয়েছে। তবে এগুলো মুর্শিদাবাদ জেলায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাঙ্গনে ধরে রাখতে খুব একটা সফল হয়নি। এজন্য এই জেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে না। নাবালিকা বিবাহে রাশ টানা যায়নি। K2 কন্যাশ্রী প্রাপকদের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ বিবাহিতা। মুর্শিদাবাদ জেলায় সাক্ষরতার হার ছিল ১৯৫১ সালে ১২.৬৮ শতাংশ, ২০১১ সালে ৬৬.৫৯ শতাংশ। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে রাজ্যে সাক্ষরতার হার ছিল ৭৬.২৬ শতাংশ।
উর্দুভাষী নবাবদের আমলে মুর্শিদাবাদ জেলায় বাংলা ভাষায় ভালই সাহিত্য সৃষ্টি হত। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-৯৪), মদনমোহন তর্কালঙ্কার (১৮১৭-৫৮), দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-৭৩) প্রমুখ বহু বিশিষ্ট সাহিত্যিক কর্মসূত্রে মুর্শিদাবাদ জেলায় অবস্থান করে জেলার সাহিত্যচর্চাকে সমৃদ্ধ করেন। মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দীর পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯০৭ সালে কাশিমবাজারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সভাপতিত্বে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হয়। মুর্শিদাবাদ জেলার মানুষ আচার্য রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী, সরোজ কুমার রায় চৌধুরী, রেজাউল করিম, মণীশ ঘটক, সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ, শরৎচন্দ্র পণ্ডিত, নিরুপমা দেবী, মহাশ্বেতা দেবী, আবুল বাশার ও নজরুল ইসলাম প্রমুখ বাংলা সাহিত্যের স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব। কবি, ছড়াকার, ছোটগল্পকার, ঔপন্যাসিক, সংবাদপত্রের লেখক, প্রবন্ধকার অথবা মুর্শিদাবাদ জেলার গবেষক হিসেবে এই জেলার অনেকেই দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন, যেমন- বিজয় বন্দ্যোপাধ্যায়, রামপ্রসাদ পাল, অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়নাল আবেদীন, সৌম্যেন্দ্র কুমার গুপ্ত, পুলকেন্দু সিংহ, জগৎবন্ধু বিশ্বাস, কমল কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় ও দীপঙ্কর চক্রবর্তী। এখন ভাল লিখছেন দুলাল কুমার বসু, কাজী আমিনুল ইসলাম, শক্তিনাথ ঝা, খাজিম আহমেদ, সাবিত্রী প্রসাদ গুপ্ত, নিখিল কুমার সরকার, সমীর কুমার ঘোষ, জয়নূল আবেদীন, অরূপ চন্দ্র, কুণাল কান্তি দে, মইনুল হাসান, চন্দ্র প্রকাশ সরকার, প্রকাশ দাস বিশ্বাস ও নীহারুল ইসলাম।
মুর্শিদাবাদ জেলায় অনেক স্থাপত্য রয়েছে, যা পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ নির্মিত কাটরা মসজিদ, নবাব হুমায়ূন জা নির্মিত হাজার দুয়ারী, নবাব মনসুর আলী খান নির্মিত ইমামবাড়া, রাজা ধনপৎ সিং দুগার ও লক্ষ্মীপৎ সিং দুগার নির্মিত নসিপুর কাঠগোলা বাগানবাড়ি, রামশঙ্কর রায় নির্মিত লালগোলা রাজবাড়ি, যা ১৯৮৭ সাল থেকে ‘মুক্ত সংশোধনাগার’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং নিমতিতা রাজবাড়ি, ২০২২ সালে হেরিটেজ ঘোষিত হয়েছে। বাংলার ছোটলাট স্যার জন পিটার গ্ৰ্যান্টের নামানুসারে নির্মিত ‘গ্ৰ্যান্ট হল’, বর্তমানে যা ‘যোগেন্দ্রনারায়ণ মিলনী’ এখনও মুর্শিদাবাদ জেলার অন্যতম প্রধান সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্র।
১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের উৎসস্থল ‘ব্যারাক স্কোয়ার’ মুর্শিদাবাদ জেলার একটি বিশেষ সম্পদ হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৭৫ সালে চালু হওয়া ফারাক্কা ব্যারেজ একটি দর্শনীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব সম্পন্ন নদী বাঁধ। একবিংশ শতকে নির্মিত মতিঝিল পার্ক ও রঘুনাথগঞ্জে ভাগীরথীর তীরে নির্মিত ‘সুভাষদ্বীপ’ অত্যন্ত আকর্ষণীয় পিকনিক স্পট।
মুর্শিদাবাদ জেলায় সম্প্রতি প্রচুর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে উঠেছে। তারা বছরভর সেবামূলক কাজ করছে। বিভিন্নভাবে দুস্থদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপন্ন মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে। সবুজায়নের প্রচারে চারাগাছ বিতরণ করছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে সুন্দর সমাজ গঠনের বার্তা দিচ্ছে। কিছু সংগঠন ব্যাপক সংখ্যায় স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে মুর্শিদাবাদ জেলা তথা গোটা রাজ্যেই সাড়া ফেলে দিয়েছে। জন্মদিবস, বিবাহ ও অন্নপ্রাশনের অনুষ্ঠানেও রক্তদান শিবির অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। সংগঠনগুলো সঙ্কটাপন্ন রোগীদের জন্য রাতবিরেতে সরাসরি হাসপাতালে রক্তদাতা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ জেলার ব্লাড ব্যাংকগুলোতে রক্তের জোগান দিতে দুর্দান্ত কাজ করে চলেছে। শত শত ‘রক্তযোদ্ধা’ শহরে ও গ্ৰামে মানুষের ভরসার পাত্র হয়ে উঠেছেন। মানবদেহের রক্ত সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ করে রক্তদানকে জনপ্রিয় কর্মসূচি করে তুলেছেন তাঁরা।
সাগরদীঘির তরঙ্গ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট, উইনার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ও সাগরদীঘি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রক্তদান আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রক্তদান আন্দোলনে সাগরদীঘি তথা মুর্শিদাবাদ জেলার উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১০-১১ জানুয়ারি, ২০২৬ সাগরদীঘিতে রক্তদাতাদের রাজ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন:

ঋণ-স্বীকার: স্বাধীনোত্তর মুর্শিদাবাদের সমাজ ও সংস্কৃতি / দুলাল কুমার বসু।
(লেখক: প্রধানশিক্ষক, কাবিলপুর হাইস্কুল, মুর্শিদাবাদ)

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder