প্রতিরক্ষা খাতের নিয়ন্ত্রণ কি বিদেশের হাতে? এফডিআই-এর সীমা বাড়িয়ে ঝুঁকির মুখে কেন্দ্র
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি: দেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থাকে চাঙ্গা করার অজুহাতে বিদেশি বিনিয়োগের দুয়ার অবারিত করতে চলেছে কেন্দ্র। সরকারি সূত্রে খবর, বিদ্যমান লাইসেন্সধারী প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোতে ‘অটোমেটিক রুট’-এর মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগের সীমা ৪৯ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭৪ শতাংশ করা হতে পারে। মূলত গত বছর পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধের পর দেশীয় সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতি মেটানোর দোহাই দিয়ে এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে নতুন লাইসেন্স প্রত্যাশী সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে কিছু ছাড় থাকলেও পুরনো সংস্থাগুলোর ওপর কড়াকড়ি ছিল। কিন্তু নতুন সংস্কার হলে বিদেশি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো ভারতীয় অংশীদারদের সরিয়ে সরাসরি সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশীদারিত্ব বা মালিকানা লাভ করতে পারবে। এতে স্পর্শকাতর প্রতিরক্ষা খাতের নিয়ন্ত্রণ বিদেশের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ‘আধুনিক প্রযুক্তির অধিকার’ সংক্রান্ত শর্তটিও তুলে দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার, যা আদতে বিদেশের ওপর কারিগরি নির্ভরশীলতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
সমালোচকদের মতে, শতভাগ রফতানিমুখী সংস্থাগুলোর জন্য ভারতে নিজস্ব রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র তৈরির বাধ্যতামূলক শর্তটি বাতিল করা হলে বিদেশি সংস্থাগুলো ভারতকে কেবল ‘অ্যাসেম্বলি হাব’ হিসেবে ব্যবহার করবে। গত ২৫ বছরে প্রতিরক্ষা খাতে বিদেশি বিনিয়োগ ছিল মাত্র ২৬.৫ মিলিয়ন ডলার। এত নগণ্য বিনিয়োগের ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও কেন জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে দরজা খুলে দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
যদিও কেন্দ্র সরকারের লক্ষ্য, ২০২৯ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা উৎপাদন ৩৩.২৫ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া, কিন্তু এই উন্নতির চাবিকাঠি বিদেশি সংস্থার হাতে থাকায় দীর্ঘমেয়াদে ভারতের ‘আত্মনির্ভরতা’ বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।








