এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে হেনস্থার অভিযোগ
নতুন পয়গাম, ফারাক্কা: এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার নামে সাধারণ মানুষ ও বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) হেনস্থার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বুধবার ফরাক্কায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এদিন ফরাক্কা ভিডিও অফিস চত্বরে সমস্ত বিএলও একযোগে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। এদিন তাঁরা তাঁদের ইস্তফাপত্র ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও)-এর কাছে জমা দিতে যান।বিএলওদের অভিযোগ, তাঁরা এসআইআর-এর বিরোধিতা করছেন না, বরং এসআইআর বাস্তবায়নের বর্তমান প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধেই তাঁদের এই আন্দোলন। সরকারি নির্দেশিকা মেনেই প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি সংগ্রহ করে অ্যাপে আপলোড করে কাজ সম্পূর্ণ করা হয়েছে বলে দাবি তাঁদের। কিন্তু তার পরেও প্রতিদিন নতুন নতুন নথি চাওয়া হচ্ছে এবং একাধিকবার সংশোধনের নির্দেশ আসছে। এর ফলে সাধারণ মানুষকে বারবার অফিসে ডেকে পাঠাতে হচ্ছে, যা থেকে অযথা হয়রানি ও হেনস্থার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
এই গোটা প্রক্রিয়ার দায়ভার কার্যত এসে পড়ছে বিএলওদের উপর। তার প্রভাব পড়ছে তাঁদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনেও। ক্রমবর্ধমান মানসিক চাপের কারণে অনেক বিএলও প্রতিদিন সরকার প্রদত্ত অ্যাপ খুলতেই আতঙ্ক বোধ করছেন বলে অভিযোগ। অনিশ্চয়তা ও লাগাতার চাপের মধ্যে তাঁরা স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছেন না বলেও জানান। বিএলওদের অবস্থান বিক্ষোভের পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন নেতা-কর্মীরাও ভিডিও অফিস চত্বরে এসে আন্দোলনে সামিল হন। তাঁরা গেট অবরুদ্ধ করে প্রতিবাদ জানান এবং অবিলম্বে এই প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি তোলেন।
বিক্ষোভ ক্রমশ বৃহৎ আকার ধারণ করলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ফরাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলাম ও তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যান্য নেতৃত্ব। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাময়িকভাবে হেয়ারিং-এর কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে উত্তেজনা আরও চরমে পৌঁছালে এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা হেয়ারিং ক্যাম্পে ভাঙচুর চালায়। ভাইরাল ভিডিওতে টেবিল চেয়ার ভাঙচুর করতে দেখা যায়। এই ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে।
এদিনই, বেলডাঙ্গার বিএলও-রা বিডিও তথা ইআরও-র নিকট গণ ইস্তফা দেন। খসড়া ভোটার তালিকায় নাম ঠিক থাকলেও তাদের নামে নোটিশ এসেছে। এমনকি ২০০২ সালের লিস্টে নাম থাকার পরও হিয়ারিং এ ডাক পড়েছে। লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির নামে প্রায় প্রতিটি বুথে ৪৫০-৫০০ লোকের নাম এসেছে শুনানিতে যা হয়রানিমূলক। এই অসঙ্গতির প্রতিবাদে বেলডাঙ্গা ও নওদার ত্রিমোহিনিতে সাধারণ মানুষ রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। সব মিলিয়ে দিনভর মুর্শিদাবাদ জেলার পরিস্থিতি ছিল বিক্ষোভ, প্রতিবাদে উত্তাল।








