মকর সংক্রান্তিতে গঙ্গাসাগরে রেকর্ড জনসমাগম
নতুন পয়গাম, উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, গঙ্গাসাগর: মকর সংক্রান্তির পুণ্যলগ্নে এবছর গঙ্গাসাগর মেলা কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়ে নতুন নজির গড়ল এবারের গঙ্গাসাগর তীর্থযাত্রা। বুধবার ভোর থেকে শুরু করে সময় যত এগিয়েছে, ততই সাগরদ্বীপে পুণ্যার্থীদের ঢল নেমেছে। রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, বুধবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত প্রায় ৮৫ লক্ষ তীর্থযাত্রী গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নান সম্পন্ন করেছেন। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, বুধবার দুপুর ১টা ১৯ মিনিট থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত মাহেন্দ্রক্ষণ থাকায় পুণ্যস্নানের ভিড় আরও বাড়বে বলে প্রশাসনের অনুমান। এর ফলে এবছর মকর সংক্রান্তিতে আগের সব রেকর্ড ছাপিয়ে গেছে তীর্থযাত্রীর সংখ্যা।
পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি সিভিল ডিফেন্স ভলান্টিয়ার, কুইক রেসপন্স টিম, ডিপ ও ন্যাভাল ডাইভার, এনডিআরএফ এবং কোস্ট গার্ড ২৪ ঘণ্টা দিবারাত্রি কাজ করে চলেছে। একইসঙ্গে সমুদ্রতট পরিষ্কার রাখতে ৩ হাজারেরও বেশি সৈকত প্রহরী মোতায়েন করা হয়েছে। তীর্থযাত্রীদের সহায়তায় ১৫০টি সমাজসেবী সংগঠনের প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রয়েছেন। এবার সাগরসঙ্গমে পুণ্যস্নানের স্মৃতি ধরে রাখতে ‘বন্ধন’ ফটোবুথে বিনামূল্যে ছবি সম্বলিত শংসাপত্র দেওয়া হচ্ছে। গঙ্গাসাগরে মোট ১৫টি বন্ধন ফটোবুথ চালু রয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫ লক্ষ ৭৫ হাজার পুণ্যার্থী এই শংসাপত্র সংগ্রহ করেছেন।
মেলায় আগত ৪,৮৮৩ জন তীর্থযাত্রী পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও পুলিশ, প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তৎপরতায় ৪,৮৬০ জনকে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে পুনরায় মিলিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে চালু হওয়া ‘ই-পরিচয়’ বা কিউআর কোড রিস্ট ব্যান্ড এই ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক হয়েছে। এছাড়া এখনও পর্যন্ত ২৭২টি পকেটমারির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২৬০টি ক্ষেত্রে হারানো সামগ্রী উদ্ধার করে সংশ্লিষ্টদের ফেরত দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ৬৭২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
দুঃখজনকভাবে সাগরে স্নান করতে নেমে একজন তীর্থযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম মিঠু মণ্ডল (৫১), তিনি অসমের বাসিন্দা। পাশাপাশি অসুস্থ হয়ে পড়া পাঁচজন তীর্থযাত্রীকে জরুরি ভিত্তিতে এয়ারলিফট করে কলকাতার এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, সুজিত বসু, পুলক রায়, বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা, বেচারাম মান্না, সাংসদ বাপি হালদার, জেলা পরিষদের সভাধিপতি নিলীমা বিশাল মিস্ত্রি, সহ-সভাধিপতি শ্রী মন্ত মালি, পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা।








