বিলুপ্তির পথে কালিয়াচকের শেরশাহি ও মোথাবাড়ির বাবলা এলাকার ঐতিহ্যবাহী তাত শিল্প
নতুন পয়গাম, আবু রাইহান, কালিয়াচক: এক সময় কালিয়াচকের শেরশাহি ও মোথাবাড়ির বাবলা এলাকা ছিল তাত শিল্পের প্রাণকেন্দ্র। এলাকার প্রায় প্রতিটি ঘরেই চলত তাতের কাজ। দিনরাত তাঁতের খটখট শব্দে মুখর থাকত গ্রাম। এখানেই তৈরি হতো গামছা, শাড়ি ও লুঙ্গির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্ত্র, যা শুধু স্থানীয় বাজারেই নয়, জেলার বাইরেও ব্যাপক চাহিদা পেত। সাধারণত এই এলাকার মোমিন (জোলহা) জনজাতির লোকরাই এই তাঁত শিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিল । কালের নিয়মে সেই ঐতিহ্য আজ প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। আধুনিক মেশিনে তৈরি সস্তা কাপড়, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, বাজারজাতকরণের অভাব ও নতুন প্রজন্মের আগ্রহ কমে যাওয়ায় ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গেছে অধিকাংশ তাঁত।
বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকটি পরিবারই কোনওরকমে এই প্রাচীন শিল্পকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। তাঁতিরা জানান, আগের মতো শাড়ি বা লুঙ্গি তৈরি আর সম্ভব হচ্ছে না। তাই এখন মূলত সুতির গামছা তৈরি করেই কোনওমতে সংসার চালাতে হচ্ছে। লাভ কম, পরিশ্রম বেশি তবুও পৈতৃক পেশা ছেড়ে দিতে মন চায় না তাঁদের। বাড়ির মহিলারা ও এই তাঁত বোনার কারিগর । সারাদিন কাজ করে তিনটে চারটে গামছা তৈরি করতে পারেন তারা । যেটাতে তাদের আয় হয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা । এই সামান্য ঢাকাতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানাচ্ছেন তারা । তাই বেশিরভাগ বাড়ির মহিলারাই বেছে নিয়েছেন খুঁটির শিল্প বিড়ি বাধা । এবং বাড়ির পুরুষেরা হয়েছেন পরিযায়ী শ্রমিক । পৈত্রিক পেশায় হিসেবে এলাকার হাতে গোনা কয়েকটা বাড়িতেই ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পের কাজ এখনো চলছে । তৈরি হচ্ছে সুন্দর সুন্দর রংবেরঙের সুতির গামছা । স্থানীয়দের দাবি, সরকারি সহায়তা, প্রশিক্ষণ, আধুনিক নকশা ও সঠিক বাজারব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হলে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে এই ঐতিহ্যবাহী তাত শিল্প। নচেৎ ইতিহাসের পাতায় স্মৃতি হয়ে থেকে যাবে কালিয়াচকের শেরশাহি ও মোথাবাড়ির বাবলা এলাকার গর্বের তাঁত শিল্প।








