ছবি এঁকে দিল্লিযাত্রা কৃতি ছাত্র ইমরানের
নতুন পয়গাম, সাহিনুর ইসলাম, ভাঙড়: অভাব-অনটনের সংসারে জন্ম হলেও স্বপ্ন দেখার সাহস হারায়নি ভাঙড়ের কাশীপুর কিশোর ভারতী স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র ইমরান মোল্লা। প্রতিকূলতার দেয়াল ভেঙে আজ সে পৌঁছে গেছে সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে। আগামী ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লির যন্তর মন্তরে এক অনুষ্ঠানে স্বয়ং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে জাতীয় পুরস্কার গ্রহণ করবে ইমরান। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বীরগাথা’ প্রতিযোগিতায় অঙ্কন বিভাগে (পেন্সিল স্কেচ) ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির গ্রুপে সারা দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে সে। বাংলার একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে দেশের সেরার শিরোপা ছিনিয়ে এনে রাজ্যকে গর্বিত করেছে ইমরান। ফাইটার জেটের সামনে হাতে হেলমেট নিয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ভারতীয় এয়ার ফোর্সের গ্রুপ ক্যাপ্টেন অভিনন্দনের ছবিটি পেন্সিলের ধূসর রেখায় জীবন্ত করে তুলেছে সে। সেই ছবিই এনে দিয়েছে এই জাতীয় স্বীকৃতি।
এই প্রতিযোগিতায় ভারতের বিভিন্ন স্কুলের পাশাপাশি আরব ও কুয়েতের বহু স্কুলের পড়ুয়ারাও অংশ নিয়েছিল। অঙ্কন, প্রবন্ধ ও ফটোগ্রাফি- এই তিন বিভাগে লক্ষাধিক প্রতিযোগীর মধ্যে সেরা হয়ে ওঠে ইমরানের সৃষ্টি। ২০২১ সালে গ্যালান্ট্রি অ্যাওয়ার্ডস পোর্টালের অধীনে শুরু হওয়া বীরগাথা প্রকল্পের লক্ষ্য দেশপ্রেম ও নাগরিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা। একই সঙ্গে সাহসিকতার গল্প নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা। সেই অর্থেই আগামী দিনে ইমরান হয়ে উঠবে দেশের ছাত্রছাত্রীদের এক অনুপ্রেরণার নাম। ইমরানের বাবা আশরাফুল মোল্লার ছোট একটি মুদিখানার দোকান। সেই দোকানের সামান্য রোজগারেই চলে সংসার। মা রেজিনা বিবি, ছোট ভাই ইমতিয়াজ – এই নিয়েই তাদের পরিবার। পড়াশোনার ফাঁকে বাবার দোকানেও সাহায্য করে ইমরান। কিন্তু সুযোগ পেলেই সে ডুবে যায় নিজের ভালোবাসার জগতে – খাতা আর পেন্সিল হাতে ছবি আঁকায়।
ছেলের সাফল্যে আবেগাপ্লুত মা রেজিনা বলেন, “আমরা কখনও কলকাতার বাইরে যাইনি। এখন ছেলের জন্য দিল্লি যেতে হবে। কীভাবে যাব, জানি না- তবু বুক ভরে আনন্দ।” বাবা আশরাফুলের কথায়, “ও ভালো আঁকে জানতাম। কিন্তু এত বড় জায়গায় পৌঁছবে, ভাবতেই পারিনি।” বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা জানাচ্ছেন, ছোট থেকেই ইমরান ছিল অত্যন্ত মনোযোগী ও পরিশ্রমী। তাঁর এই সাফল্যে খুশির হাওয়া বইছে কাশীপুর জুড়ে। গ্রামবাসীদের আশা, ইমরান মোল্লার এই কৃতিত্ব ভাঙড়ের আরও বহু ছাত্রছাত্রীকে স্বপ্ন দেখতে ও সেই স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে। অভাবের সংসার থেকে উঠে আসা এই কিশোর শিল্পীর হাত ধরেই আজ ভাঙড় নতুন করে চিনছে নিজের গর্বের ঠিকানা।।








