মেলেনি লক্ষীর ভান্ডার, বার্ধক্য ভাতা, অবিবাহিত বৃদ্ধার নতুন ঘর বানিয়ে দিল আনসারী, সাগর, সুজনরা
নতুন পয়গাম, ডোমকল: বহু আবেদন নিবেদন করেও ছেঁড়েনি ভাগ্যের শিকে। মেলেনি সরকারি ঘর। মাটির জীর্ণ বাড়িতে কেটেছে কত বিনিদ্র রাত। ঝড়বৃষ্টিতে আশ্রয় নিতে হত অন্যের বাড়িতে। মেলেনি লক্ষীর ভান্ডার কিংবা বার্ধক্য ভাতার সুবিধা। মুর্শিদাবাদের ডোমকল থানার পিঁপড়াপুরি গ্রামের ষাটোর্ধ সাহিদা খাতুনের সেই দৈন্যদশার খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই এগিয়ে এল হিরো আনসারী, সাগর, সুজন, মাসুম, তপন, দীপাঞ্জনরা। ওরা সকলেই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘সাহায্যের আলো’র সদস্য। সংস্থার সভাপতি হিরো আনসারী বৃদ্ধাকে আশ্বাস দেন খুব দ্রুতই আপনার একটা ঘরের ব্যবস্থা করা হবে। তারপরেই নিজেদের হোয়াটসআপ গ্রূপে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে শুরু হয় অর্থ সংগ্রহ। প্রায় ৫৮ হাজার ব্যয়ে তৈরি হল বৃদ্ধার মাথা গোঁজার ঠাঁই। সংস্থার এই মানবিক কাজে খুশি গ্রামের মানুষও।
গ্রামবাসীরা বলছেন, ওই বৃদ্ধা যৌবন বয়সে অসুস্থ মায়ের সেবা করার জন্য বিয়েও করেননি। তার আজ আর তার কেউ দেখার নেই। বৃদ্ধার বোনের ছেলে হাসানুর আনসারী জানান, ‘মাসির জন্য বহুবার ঘরের আবেদন জানানো হয়েছে। হচ্ছে হবে করেই কেটে গেছে। লক্ষীর ভান্ডার কিংবা বার্ধক্য ভাতা কোন সুবিধাও পাননা তিনি। যুবকরা উদ্যোগ নিয়ে ঘরটা করে দিল, এই ঋণ আমরা ভুলব না।’ এদিন সেই ঘরের উদ্বোধনে আবেগঘন কণ্ঠে সাহিদা খাতুন বলেন, ‘আমার কেউ নেই বলে আজও সরকারের ঘর পাইনি। আমি ভাবতেই পারিনি জীবনে এভাবে কেউ ঘর করে দেবে। আজ মনে হচ্ছে নতুন করে বেঁচে উঠলাম।’ শুধু ঘর নির্মাণই নয়, সংস্থার পক্ষ থেকে তাকে মাসখানেকের খাদ্যসামগ্রী, শাড়ি ও শীতবস্ত্র প্রদানও করা হয়েছে। পাশাপাশি তার বাড়িতে একটি আমগাছের চারাও লাগিয়ে দিয়েছে সংস্থার কর্মীরা।








