পড়ুয়া ও শিক্ষক সংকটে ধুঁকছে সরকারি বিদ্যালয়
নতুন পয়গাম, মোহাম্মদ সানাউল্লা, নলহাটি: পড়ুয়া ও শিক্ষকের তীব্র সংকটে একের পর এক সরকারি বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে। গ্রামীণ শিক্ষা ব্যবস্থার এই গভীর সংকটের মধ্যেই কিছুটা আশার আলো দেখাতে এগিয়ে এসেছেন গ্রামেরই কয়েকজন শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও সচেতন মানুষ। বীরভূম জেলার নলহাটি-২ নং ব্লকের লোহাপুর বালিকা জুনিয়র হাই স্কুলের বর্তমান দুরবস্থার কথা মাথায় রেখে সম্প্রতি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, সমাজকর্মী ও এলাকার সচেতন গ্রামবাসীরা। আলোচনার শেষে সবাই একযোগে সিদ্ধান্ত নেন, আসন্ন নতুন শিক্ষাবর্ষে গ্রামবাসীরাই দায়িত্ব নিয়ে বিদ্যালয়ে ছাত্রী ভর্তি বাড়ানোর উদ্যোগ নেবেন। সেই সঙ্গে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের বোঝানো, সচেতনতা প্রচার এবং শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে স্কুলটিকে বাঁচানোর সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হবে বলে তাঁরা জানান।
বর্তমানে লোহাপুর বালিকা জুনিয়র হাই স্কুলে মোট ছাত্রী সংখ্যা মাত্র ৩২ জন। সেখানে রয়েছেন মাত্র দু’জন অতিথি শিক্ষক, যাঁদের মধ্যে একজন শীঘ্রই অবসর নিতে চলেছেন বলে জানা গেছে। ফলে বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতি শুধু একটি বিদ্যালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নলহাটি-২ নং ব্লকের একাধিক জুনিয়র হাই স্কুল একই সংকটে ধুঁকছে। শুক্রাবাদ জুনিয়র হাই স্কুলে পড়ুয়া সংখ্যা ৫১ জন হলেও সেখানে শিক্ষক মাত্র একজন, তাও তিনি অতিথি শিক্ষক। শীতলগ্রাম অঞ্চলের বারুণী ঘাটা জুনিয়র হাই স্কুলে পড়ুয়া ৭৫ জন, অথচ স্থায়ী শিক্ষক রয়েছেন মাত্র দু’জন। বারা এম এম জুনিয়র হাই স্কুলে ৭০ জন পড়ুয়ার জন্য আছেন মাত্র দু’জন স্থায়ী শিক্ষক। নওয়াপাড়া অঞ্চলের তিলোড়া হাই স্কুলে তুলনামূলকভাবে পড়ুয়া সংখ্যা বেশি ১৮২ জন, কিন্তু সেখানেও স্থায়ী শিক্ষক মাত্র তিনজন।
নলহাটি-২ নং ব্লকে মোট সাতটি জুনিয়র হাই স্কুল থাকলেও বাস্তব চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পড়ুয়া ও শিক্ষক সংকটের জেরে ইতিমধ্যেই ভদ্রপুর গার্লস জুনিয়র হাই স্কুল এবং শীতলগ্রামের কুন্দপাড়া জুনিয়র হাই স্কুলে তালা ঝুলে পড়েছে। এতে প্রশ্ন উঠছে, গ্রামীণ শিক্ষাব্যবস্থা কি ধীরে ধীরে তার অস্তিত্ব হারাচ্ছে? নাকি গ্রামবাসীর এই সম্মিলিত উদ্যোগই হয়ে উঠবে সরকারি স্কুল বাঁচানোর শেষ ভরসা – সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকাজুড়ে। শিক্ষা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করতে এবার প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকার দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন নলহাটি-২ নং ব্লকের সাধারণ মানুষ।








