সামনে শুধু শচীন, ছুটছেন কোহলি; নিউজিল্যান্ডকে হারালো ভারত
নতুন পয়গাম, এম. রহমান, বরোদা: প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে তাঁর শেষ সাতটা ইনিংস এরকম ৭৪*, ১৩৫, ১০২, ৬৫, ১৩১, ৭৭, ৯৩। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে তিনি কি মারাত্মক ফর্মে আছেন। এতক্ষণ কার কথা হচ্ছে নিশ্চয়ই পাঠক বুঝে গেছেন।তিনি ওয়ান এন্ড অনলি কিং বিরাট কোহলি। রবিবার কোটাম্বি স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডকে প্রথম একদিনের ম্যাচে চার উইকেটে হারাল ভারত। জয় এল ছয় বল বাকি থাকতে। তিন ম্যাচের সিরিজে এখন ১-০ এগিয়ে শুভমান গিল বাহিনী। বুধবার রাজকোটে সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে নামবে টিম ইন্ডিয়া। আর এদিনের নায়ক অতি অবশ্যই বিরাট কোহলি। ইনিংসের প্রথম কুড়ি বলে খান ছয়েক বাউন্ডারি মেরে শাসন শুরু করেছিলেন। তাঁর দাপটে নেট বোলারে পরিণত হন নিউজিল্যান্ডের বোলাররা। পঞ্চাশে পৌঁছানোর পর যাবতীয় ঝুঁকি ছেঁটে ফেলে অনায়াসে রান করে গেলেন। ৯১ বলে তাঁর ৯৩ রানে রয়েছে আটটি চার ও একটি ছক্কা। কেন তিনি ৩৭ বছর বয়সেও ‘চেজমাস্টার’, সেটাই দেখালেন রাজকীয় মেজাজে। নিশ্চিত শতরান হারানো অবশ্য গ্যালারিকে স্তব্ধ করে দিল। কী দরকার ছিল নড়বড়ে নব্বইয়ের ঘরে ক্রিজ ছেড়ে এগিয়ে তুলে মারতে যাওয়ার? এই ফরম্যাটে যখন ৫৪তম সেঞ্চুরি করমর্দনের দূরত্বে ছিল! তারমধ্যেই অবশ্য তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ২৮ হাজার রানে পৌঁছান। সেটাও দ্রুততম ব্যাটসম্যান হিসেবে। ভিকে’র লাগল ৬২৪ ইনিংস। শচীন তেন্ডুলকরের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা ৬৪৪। কুমার সাঙ্গাকারার আরও বেশি, ৬৬৬ ইনিংস। ক্রিকেটদুনিয়ায় আর কেউ অবশ্য এই শিখরে পৌঁছাতেই পারেননি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মোট রানে শচীনের (৩৪,৩৫৭) পরই এখন বিরাট (২৮,০৬৮)। সাঙ্গাকারা (২৮,০১৬) রয়েছেন তৃতীয় স্থানে। এদিন নজরে ছিলেন শ্রেয়স আয়ার ও শুভমান গিলও।দু’জনেরই রান পাওয়া সেজন্যই বড় স্বস্তির। ৭১ বলে ৫৬, ক্যাপ্টেন গিলের মনোবল অবধারিতভাবে কয়েকগুণ বাড়বে। তবে এটা পরিষ্কার যে তিনি সেরা ছন্দে এখনও ফেরেননি। তুলনায় শ্রেয়সকে (৪৭ বলে ৪৯) অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ দেখাল। কাইল জেমিসনেৱ বিধ্বংসী স্পেল যদিও ম্যাচে উত্তেজনা এনেছিল। বিরাট ফিরতেই নামে ধ্বস। জেমিসন ফেরান রবীন্দ্র জাদেজা ও শ্রেয়সকে। ২৪২-৫ হয়ে পড়া দলকে টানলেন লোকেশ রাহুল ও হর্ষিত রানার ষষ্ঠ উইকেটে ৩১ রানের জুটি। তবে চোট পাওয়ার পরও নামতে হল ওয়াশিংটন সুন্দরকে। রাহুল শেষ পর্যন্ত ছক্কা মেরে জিতিয়ে ফিরলেন। তার আগে নিউজিল্যান্ডকে তিনশো রানে পৌঁছে দিয়েছিল ড্যারিল মিচেলের ৭১ বলে ৮৪। চার নম্বরে নেমে পাঁচটা চার ও তিনটি ছক্কায় ইনিংস সাজান তিনি। ব্যাট করতে নেমে প্রথম উইকেটেই উঠেছিল ১১৭। কনওয়ে (৫৬), হেনরি নিকলস (৬২) বড় রানের ভিত গড়েন। কিন্তু সিরাজ, প্রসিদ্ধ, হর্ষিতরা নিয়মিত উইকেট নেন মাঝের ওভারে।ফলে ৩০০ রানেই আটকে পড়ে কিউয়রা।যেটা অনায়াসেই টপকে যায় ভারত।সৌজন্যে অবশ্যই বিরাট।








