ডব্লুপিএল রুদ্ধশ্বাস উদ্বোধনী ম্যাচে মুম্বইকে হারালো বেঙ্গালুরু
নিজস্ব সংবাদদাতা: শেষ ওভারে দরকার ১৮ রান। শেষ বলে ২। আর দুটো কাজই সঠিকভাবে করলেন নাদিনে ডি ক্লার্ক। শেষ বলে চার মেরে মুম্বইয়ের মুখের গ্রাস কেড়ে নিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই অলরাউন্ডার। স্মৃতি মান্ধানা বনাম হরমনপ্রীত কাউর! মহিলাদের প্রিমিয়ার লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে দুই মহাতারকার দ্বৈরথই ছিল আকর্ষণের কেন্দ্রে। সেখানে হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়ল বেঙ্গালুরু রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স। প্রতিপক্ষ মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে ৩ উইকেটে হারাল তারা। প্রথমে ব্যাট করে হরমনপ্রীত ব্রিগেডের তোলা ১৫৪ রান শেষ বলে টপকে ( ৭ উইকেটে ১৫৬ রান) অভিযান শুরু করলেন স্মৃতিরা। তবে ব্যাট হাতে ব্যর্থ দুই দলের ক্যাপ্টেন। প্রথমে ১৭ বলে ২০ রানে থামলেন হরমনপ্রীত। তারপর ১৩ বলে ১৮ রানে দাঁড়ি পড়ল স্মৃতির ইনিংসে। টস হেরে নভি মুম্বইয়ের ডিওয়াই পাতিল স্পোর্টস অ্যাকাডেমির মাঠে ব্যাট করতে নেমেছিল মুম্বই। ছয় উইকেটে তারা তোলে ১৫৪। পরিসংখ্যান অনুসারে এই আসরে এত কম রান নিয়ে মাত্র একবারই জিতেছে নীতা আম্বানির দল।
বেঙ্গালুরু আবার ১৮০ রানের নীচের টার্গেটে কখনওই হাতছাড়া করেনি জয়। এদিনও তার ব্যতিক্রম হল না। ম্যাচের শুরুতে লরেন বেলের দুরন্ত ওপেনিং স্পেলই চাপে ফেলে দিয়েছিল মুম্বইকে। ওপেনার অ্যামেলিয়া কের (৪) তাঁরই শিকার। বেলের বোলিং গড় (৪-১-১৪-১) রীতিমতো অবিশ্বাস্য। বেঙ্গালুরুর সেরা বোলার অবশ্য নাদিনে ডি ক্লার্ক। চার ওভারে ২৬ রানের বিনিময়ে চার উইকেট নেন তিনি। ন্যাট সিভার-ব্রান্ট (৪), হরমনপ্রীত (২০), সজীবন সজনা (৪৫), নিকোলা ক্যারে (৪০) সকলকেই ফেরান ক্লার্ক। হরমনপ্রীত যখন ফেরেন, তখন ১১ ওভারে মুম্বইয়ের স্কোর ৬৭-৪। রীতিমতো চাপে দল। সেই পরিস্থিতিতে সজনা-ক্যারে পঞ্চম উইকেটে ৪৯ বলে যোগ করেন ৮২। তুলনায় বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন সজনা। ২৫ বলের ইনিংসে তিনি মারেন সাতটি চার ও একটি ছক্কা। অবশ্য দু’বার তাঁর ক্যাচ পড়ে। রান তাড়া করতে নেমে গ্রেস হ্যারিস ও স্মৃতি শুরুটা ভালো করেছিলেন। কিন্তু দু’জনেই বেশিক্ষণ স্থায়ী হননি। গ্রেস ফেরেন ২৫ রানে। মিডল অর্ডারে ব্যর্থ ডায়ালান (৭), রিচা (৬), রাধারা (১০)। বেঙ্গালুরুর হাল ধরেন নাদিন। অরুন্ধুতী সঙ্গে জুটিতে দলকে পৌছে দেন জয়ের কাছে। ২০ রানে অরুন্ধুতী ফিরলেও ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন নাদিনে। ৪৪ বলে ৬৩ রানের ইনিংসের সুবাদে ম্যাচের সেরাও হলেন তিনি। উল্লেখ্য, ম্যাচের আগে জমজমাট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাঠ মাতান জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ, হানি সিং’রা। যার জন্য নির্ধারিত সময়ের দশ মিনিট পরে শুরু হয় খেলা। প্রথম ম্যাচে দর্শকদের উপস্থিতিও ছিল নজরে পড়ার মতো। তবে প্রথম দিন সব আলো কেড়ে নিলেন নাদিনে ডি ক্লার্ক। যদিও এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে,তবে ডি ক্লার্ক তাঁর পদধ্বনি শুনিয়ে গেলেন।








