সরকারি ক্ষতিপূরণ থেকে চার বছরেও বঞ্চিত সুন্দরবনের বাঘে আক্রান্ত মৎস্যজীবী
নতুন পয়গাম, উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, কুলতলি: আজও সরকারি ক্ষতিপূরণ না-পেয়ে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন সুন্দরবনের এক বাঘে আক্রান্ত মৎস্যজীবী। দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও সরকারি সহায়তার দাবিতে সরব হয়েছে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর। সুন্দরবনের গভীর জঙ্গল মানেই প্রতিনিয়ত মৃত্যুর ঝুঁকি। রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ওত পেতে থাকা চোখের সামনে পড়ে জীবন বাঁচিয়ে ফেরা মানুষের সংখ্যা নেহাতই কম। যারা প্রাণে বেঁচে ফেরেন, তাঁদের অনেকেই আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন না। তবু জীবিকার তাগিদে সুন্দরবনের প্রান্তিক এলাকার মানুষদের প্রতিদিনই নামতে হয় জঙ্গল ও নদীতে- কখনও মধু সংগ্রহে, কখনও মাছ ধরতে।
ঠিক তেমনই চার বছর আগে কুলতলি বিধানসভার দেউলবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা লক্ষিন্দর সাফুই সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে বাঘের আক্রমণের শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় দীর্ঘদিন কলকাতায় চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি প্রাণে বাঁচলেও স্থায়ীভাবে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন। এখন আর আগের মতো চলাফেরা বা কাজ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। চ সদস্যের পরিবারের একমাত্র রোজগারের ভার এখন লক্ষিন্দরের স্ত্রী কমলার কাঁধে। প্রতিদিন তিনি দিনমজুরের কাজ করেন, অবসর সময়ে সংসার চালাতে বিড়ি বাঁধেন। অথচ চার বছর পেরিয়ে গেলেও লক্ষিন্দরের হাতে পৌঁছয়নি কোনও সরকারি ক্ষতিপূরণ। আবাস যোজনার ঘরের প্রতিশ্রুতিও আজও বাস্তবায়িত হয়নি। এক চিলতে কুঁড়েঘরেই মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে পরিবারটিকে।
আক্ষেপের সুরে লক্ষিন্দর বলেন, “সেদিন বাঘের আক্রমণে মারা গেলে হয়তো ভালো হতো। তাহলে অন্তত আমার পরিবার সরকারি ক্ষতিপূরণ পেত। চার বছর ধরে শুধু প্রতিশ্রুতি শুনে আসছি। আমার স্ত্রী দিনমজুরি করে কোনওমতে সংসার চালাচ্ছে।”
দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের বাঘে আক্রান্ত মানুষদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে কাজ করছে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর। সংগঠনের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সহ-সম্পাদক মিঠুন মণ্ডল অভিযোগ করে বলেন, “সরকার বারবার প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু বাস্তবে কাজ হয় না। আইনের পথেই তাঁদের অধিকার আদায় করতে হচ্ছে। আমরা চাই অবিলম্বে আহত মৎস্যজীবী লক্ষিন্দর সাফুইকে যথাযথ সরকারি সাহায্য দেওয়া হোক।” এদিকে সরকারি সহায়তার আশায় আজও চাতক পাখির মতো পথ চেয়ে রয়েছে লক্ষিন্দরের পরিবার।








