আইপ্যাক কর্ণধারের বাড়ি-অফিসে ইডি হানার প্রতিবাদে ধূপগুড়িতে পথে নামল তৃণমূল
নতুন পয়গাম, প্রীতিময় সরখেল, ধূপগুড়িঃ আইপ্যাক (I-PAC) কর্ণধারের বাড়ি ও অফিসে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির হানার প্রতিবাদে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস বৃহস্পতিবার রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাল। কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি ও সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও লাগামহীন অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে ধূপগুড়ি শহর ও গ্রামীণ তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল ও পথসভার আয়োজন করা হয়। জেলা পরিষদের ডাকবাংলা চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ধূপগুড়ি-ফালাকাটা গ্রামীণ জাতীয় সড়ক ধরে শহর পরিক্রমা করে চৌপতি হয়ে ফালাকাটা স্ট্যান্ড সংলগ্ন বিয়ার কমপ্লেক্সের নিচে এসে শেষ হয়। মিছিল শেষে সেখানেই অনুষ্ঠিত হয় একটি পথসভা।
এই প্রতিবাদ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন ধূপগুড়ির বিধায়ক নির্মল চন্দ্র রায়। তিনি নিজে পায়ে হেঁটে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে মিছিলে অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক রাজেশ কুমার সিং, জেলা পরিষদের সদস্য মমতা বৌদ্ধ সরকার, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অর্চনা সূত্রধর, গ্রামীণ ব্লক সভাপতি মলয় রায়, আইএনটিটিইউসি টাউন সভাপতি আল রহমান, টাউন যুব সভাপতি শুভ দে সরকার-সহ তৃণমূল কংগ্রেসের বহু নেতা-কর্মী ও সমর্থক। মিছিল চলাকালীন ‘ছিঃ বিজেপি ছিঃ’ সহ বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে ধূপগুড়ি শহর। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, বিজেপি বারবার কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে এবং বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক নির্মল চন্দ্র রায় বলেন,“আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই যদি তদন্ত করারই প্রয়োজন থাকত, তাহলে এতদিন ইডি কেন নীরব ছিল? নির্বাচন সামনে, এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে এই সময়েই আমাদের প্রচার কৌশল নির্ধারণকারী সংস্থার অফিসে হানা দেওয়া হচ্ছে। এর একটাই উদ্দেশ্য আমাদের নির্বাচনী পরিকল্পনা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিজেপির হাতে তুলে দেওয়া।” তিনি আরও বলেন,“ইডি ও সিবিআইয়ের তদন্ত করার অধিকার আছে, কিন্তু অগণতান্ত্রিকভাবে অফিসে হানা দেওয়া গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত। এভাবে পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে ভয় দেখিয়ে দমন করা যাবে না। ইডিকে যেমন হাতের পুতুল বানানো হয়েছে, তেমনই ইলেকশন কমিশনকেও ব্যবহার করা হচ্ছে।”
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় সংস্থার এই ধরনের প্রতিহিংসামূলক ও পক্ষপাতদুষ্ট পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছেই, আগামী দিনে রাজ্যজুড়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।








