এপিডিআরের প্রথম প্রধান সংখ্যালঘু মুখ আলতাফ আহমেদ
নতুন পয়গাম, হাসান লস্কর বাবলু, সুন্দরবন: মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটস (এপিডিআর)-এর ইতিহাসে এই প্রথম প্রধান সংখ্যালঘু মুখ হিসেবে উঠে এলেন আলতাফ আহমেদ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার থানার অন্তর্গত এক প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা তিনি। ১৯৬৬ সালে জন্মগ্রহণ করা আলতাফ আহমেদ সরিষা হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ হন। ছাত্রজীবনেই স্কুলের শিক্ষক দেবাশীষ চৌধুরীর অনুপ্রেরণায় ছাত্র রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় তাঁর। পরবর্তীতে কলকাতায় ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। এরপর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিপিএড ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৯১ সাল নাগাদ তিনি ডায়মন্ড হারবারে এপিডিআরের শাখা গঠন করে মানবাধিকার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেন। ওই সময় ডায়মন্ড হারবার এলাকায় আবাসিক হোটেলে দেহব্যবসা ও চুলু ঠেকের অবৈধ মদের রমরমা ব্যবসার বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষকে সংগঠিত করে আন্দোলন গড়ে তোলেন। ১৯৯৫ সালে শিক্ষকতার চাকরিতে যোগ দিলেও আন্দোলনের পথ থেকে সরে যাননি তিনি। শিক্ষকতার পেশায় যুক্ত হওয়ার আগেই শিক্ষকদের ৬০/৬৫ আন্দোলনে বিভিন্নভাবে যুক্ত ছিলেন আলতাফ আহমেদ। পাশাপাশি মানবাধিকার ও অধিকার আন্দোলন সংগঠিত করার কাজও চলতে থাকে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে ভিন রাজ্যে নারী পাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলনে তিনি নিয়মিত অংশ নেন। বিশেষত সুন্দরবন অঞ্চলে বাঘ ও কুমিরের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, গভীর জঙ্গলে মাছ, কাঁকড়া ও মধু সংগ্রহে গিয়ে জলদস্যুদের হামলার শিকার হওয়া অসহায় দরিদ্র মৎস্যজীবীদের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায় তাঁকে। পেশায় শিক্ষক হলেও মানবিকতার তাগিদে তিনি বারবার সাধারণ মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন। সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে শুরু করে শহরের রাজপথ – প্রতিবাদ আন্দোলন ও সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিজের উপার্জিত অর্থ ব্যয় করে নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন আলতাফ আহমেদ। আগামী দিনেও নিপীড়িত, শোষিত, বঞ্চিত মানুষ ও রাজবন্দীদের সহায়তায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।








