‘ক্যামেরার সামনে আর কথা বলব না’ বেফাঁস মন্তব্যের জেরেই চুপচাপ দিলীপ ঘোষ?
নতুন পয়গাম, কলকাতা: হঠাৎই মিডিয়ার সামনে মুখ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। খড়গপুরে এক চা চক্রে সাংবাদিকদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আর ক্যামেরার সামনে কোনও মন্তব্য করবেন না তিনি। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা, কেন আচমকা এমন অবস্থান প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতির?
বুধবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দিলীপ ঘোষ। ওই বৈঠকে দলীয় নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের অহেতুক মন্তব্য এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেন শাহ। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রামমন্দির প্রসঙ্গে দিলীপের এক মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়। দলীয় সূত্রের দাবি, সেই মন্তব্য ভালভাবে নেননি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
বৃহস্পতিবার দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, মন্দির-মসজিদ ইস্যু ভোটের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলে না। উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি অযোধ্যার রামমন্দির ও বাংলার মন্দির নির্মাণের প্রসঙ্গ টানেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ফৈজাবাদ আসনে বিজেপির পরাজয়ের উদাহরণ দেখিয়ে ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে বাংলায় মন্দির তৈরি হলেই তৃণমূলের জয় নিশ্চিত এমনটা ভাবা ভুল। উল্লেখ্য, ফৈজাবাদের মধ্যেই রয়েছে অযোধ্যা।
এই মন্তব্যের পরেই বিজেপির অন্দরে অস্বস্তি বাড়ে। বলা হচ্ছে, সংবাদমাধ্যমে অতিরিক্ত মন্তব্য না করার বিষয়ে দিলীপকে সতর্ক করা হয়। যার রেশ পড়ে বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে অমিত শাহের সাক্ষাতেও। সূত্রের দাবি, দিলীপ ঘোষের বক্তব্য নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে সন্তুষ্ট নন, সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট ছিল।
যদিও শুক্রবার বিকেলে সল্টলেকে বিজেপির দফতরে ঢোকার সময় দিলীপ বলেন, “যা বলার ছিল, সকালে বলেছি।” কিন্তু তার পরেও শনিবার পর্যন্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে দেখা যায় তাঁকে।
খড়গপুরের চা চক্রে সাংবাদিকদের সামনে দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পরিস্থিতি আর জটিল না করতে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলা বন্ধ রাখবেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত কি দলীয় চাপে পড়ে, না কি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, তা নিয়ে চাপান-উতোর চলছে।








